আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা জোট

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই জেদ্দায় চুক্তি সই করবে তিন দেশ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমন্বয়ের দিকেও এগোচ্ছে তারা।

সুমিত রায়হান
সুমিত রায়হান
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা জোট
ছবি -সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনা যখন বাড়ছে, তখন যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। তিন দেশের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি আজ শুক্রবার সৌদি আরবের জেদ্দায় সই হওয়ার কথা রয়েছে।

সৌদি সামরিক বাহিনী ও সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র চুক্তি সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে এর বাস্তবায়ন দ্রুত এগিয়ে আনা হয়েছে। সৌদি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রও আজ চুক্তি সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চুক্তি সইকে কেন্দ্র করে জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এতে তিন দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তাঁদের সফর শনিবার পর্যন্ত চলবে। অন্যদিকে এরদোয়ানের শুক্রবার জেদ্দায় পৌঁছানোর কথা।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৬ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বৃহস্পতিবার বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান তীব্র উত্তেজনা সফরটির তাৎক্ষণিক প্রেক্ষাপট হলেও এর গুরুত্ব শুধু বর্তমান সংকট বা স্বল্পমেয়াদি পরিস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

তিন দেশের মধ্যে সম্ভাব্য একটি কৌশলগত জোট গঠনের আলোচনা কয়েক মাস ধরেই চলছিল। বর্তমান আঞ্চলিক সংকট সেই উদ্যোগকে আরও গতি দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে।

এই সময় পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগে সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাতেও তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান কূটনৈতিক সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

এর আগে ২০২৫ সালে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল। পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হওয়ায় ওই চুক্তি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।

নতুন ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সক্ষমতা, তুরস্কের সামরিক শক্তি এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা অভিজ্ঞতা—এই তিনটি উপাদান একই কাঠামোর মধ্যে আসবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা অনিশ্চয়তার মধ্যে এই সমন্বয় আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিষয় : সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা জোট

কাল মহাকাল

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা জোট

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনা যখন বাড়ছে, তখন যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। তিন দেশের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি আজ শুক্রবার সৌদি আরবের জেদ্দায় সই হওয়ার কথা রয়েছে।

সৌদি সামরিক বাহিনী ও সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র চুক্তি সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে এর বাস্তবায়ন দ্রুত এগিয়ে আনা হয়েছে। সৌদি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রও আজ চুক্তি সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চুক্তি সইকে কেন্দ্র করে জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এতে তিন দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তাঁদের সফর শনিবার পর্যন্ত চলবে। অন্যদিকে এরদোয়ানের শুক্রবার জেদ্দায় পৌঁছানোর কথা।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৬ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বৃহস্পতিবার বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান তীব্র উত্তেজনা সফরটির তাৎক্ষণিক প্রেক্ষাপট হলেও এর গুরুত্ব শুধু বর্তমান সংকট বা স্বল্পমেয়াদি পরিস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

তিন দেশের মধ্যে সম্ভাব্য একটি কৌশলগত জোট গঠনের আলোচনা কয়েক মাস ধরেই চলছিল। বর্তমান আঞ্চলিক সংকট সেই উদ্যোগকে আরও গতি দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে।

এই সময় পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগে সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাতেও তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান কূটনৈতিক সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

এর আগে ২০২৫ সালে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল। পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হওয়ায় ওই চুক্তি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।

নতুন ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সক্ষমতা, তুরস্কের সামরিক শক্তি এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা অভিজ্ঞতা—এই তিনটি উপাদান একই কাঠামোর মধ্যে আসবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা অনিশ্চয়তার মধ্যে এই সমন্বয় আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত