আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

এখনই রাজনৈতিক দল নয়, জনতার মন বুঝতে চাইছে ‘তেলাপোকারা’

এখনই নির্বাচনী রাজনীতিতে না গিয়ে ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যে রাজ্যে সংগঠন গড়বে ককরোচ জনতা পার্টি। ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’ কর্মসূচিতে তরুণ প্রজন্মের মতামত ও মানুষের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ পথ ঠিক করতে চায় সংগঠনটি।

দিদারুল ইসলাম
দিদারুল ইসলাম
এখনই রাজনৈতিক দল নয়, জনতার মন বুঝতে চাইছে ‘তেলাপোকারা’
ছবি -সংগৃহীত

এখনই রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে না ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বরং দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠন বিস্তারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের কথা শুনতে চায় সংগঠনটি। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এ কর্মসূচি। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’—অর্থাৎ, মানুষ কী বলছে।

দুই দিনের বৈঠক শেষে সিজেপির রাষ্ট্রীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে জানান, দেশের মানুষের সমস্যাগুলো সরাসরি জানাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য। মানুষের কথা শুনে তাঁদের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করা হবে। পরে সেসব সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে নিজেদের প্রস্তুত করবে সংগঠনটি।

সিজেপি নেতাদের মতে, তাঁদের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার। তাঁদের অভিযোগ, দেশে শিক্ষা ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। ফলে ধনী পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সহজ হলেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

দুই দিনের কোর কমিটির বৈঠকে আপাতত রাজনৈতিক দল গঠন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিজেপির অন্যতম নেতা সৌরভ দাস বলেন, অনেকেই সংগঠনটিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু দেশে নতুন আরেকটি রাজনৈতিক দল গঠন করে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তাঁরা মনে করছেন না।

সৌরভের ভাষায়, দেশে রাজনৈতিক দলের সংখ্যা কম নয়। রাজনৈতিক দল ভাঙতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি), সিবিআই ও আয়কর বিভাগের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহারের অভিযোগও নতুন নয়। এমন বাস্তবতায় সিজেপি প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর পথে যেতে চাইছে না।

এর পরিবর্তে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে মানুষের মতামত নেওয়া হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে তরুণ প্রজন্মের ভাবনা ও প্রত্যাশাকে। মানুষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

সিজেপি কেন আপাতত রাজনৈতিক দলের পরিচয় নিতে চাইছে না, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অভিজিৎ। তিনি জানান, এখন তাঁরা একটি ‘প্রেশার গ্রুপ’ হিসেবেই কাজ করতে চান। তাঁদের মতে, সরকারের ওপর জনমতের চাপ তৈরি করার ক্ষেত্রে তাঁরা ইতিমধ্যে কিছুটা সফল হয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে ঘিরে আন্দোলন এবং মানুষের মধ্যে ভয় কাটানোর প্রচেষ্টাকে তাঁরা নিজেদের সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

অভিজিতের মতে, মানুষের দাবি নিয়ে সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে আনা এবং সংবিধানের মূল আদর্শ, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাই তাঁদের লক্ষ্য। পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে চান তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থার উদাহরণ টানেন অভিজিৎ। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমেছে। ভোটার একটি দলকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের প্রত্যাশা করলেও পরে অন্য দল সরকার গঠন করছে—এমন ঘটনাও ঘটছে। আবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দলবদলের ক্ষেত্রেও নানা প্রশ্ন উঠছে।

রাজনৈতিক দল ভাঙার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে কোথায় ভোট হবে, কারা ভোট দেবেন এবং ভোটের মাধ্যমে কে সরকার গঠন করবেন—সেই সিদ্ধান্তের বদলে এখন সরকারই যেন ঠিক করে দিচ্ছে কে ভোট দিতে পারবেন।

বিচারব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষের কথা বলেন অভিজিৎ। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের মামলার শুনানির তারিখ পেতে বছরের পর বছর কেটে যায়। বিপরীতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মধ্যরাতেও আদালতের শুনানি হওয়ার নজির দেখা যায়।

যন্তর মন্তরের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকেই এসব বিষয়ে মানুষের মনোভাব আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তা তাঁরা অনুভব করেছেন বলে জানান সিজেপির এই নেতা। সেই ভাবনা থেকেই ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোও চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১১ সদস্যের জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর সর্বভারতীয় আহ্বায়ক হয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। সহ-আহ্বায়ক করা হয়েছে সংগঠনের দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে।

ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের বয়সও আলাদা করে নজর কেড়েছে। প্রত্যেকের বয়স ২৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। সিজেপি নেতাদের দাবি, দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ এই বয়সসীমার মধ্যে রয়েছেন। তরুণদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই সংগঠনের নেতৃত্বে এই বয়সের সদস্যদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

সংগঠন বিস্তারের জন্য দেশকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের দায়িত্ব নির্দিষ্ট নেতাদের দেওয়া হবে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে সংগঠন গড়ে তোলা, সদস্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ করবেন। সদস্য সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যে ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে।

তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও আপাতত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সিজেপি। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে কারও কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে না। আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তরুণদের নিয়ে অবস্থান বদলাচ্ছে বিজেপি-আরএসএসও

তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং তাদের আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মধ্যেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর জেন-জি প্রজন্মকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে নিয়মিত সক্রিয় হচ্ছেন। একই সঙ্গে বিজেপির কর্মসূচিতেও তরুণদের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসছে।

এই প্রেক্ষাপটে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ। জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলনকে সরাসরি দেশবিরোধী হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তরুণেরা প্রতিবাদ করলেই তাঁদের দেশদ্রোহী বলা যায় না। বরং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে তাঁদের বক্তব্য বোঝা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে একটি অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার স্কুলশিক্ষার্থীর সামনে বক্তব্য দেন ভাগবত। সেখানে নিজের সময়ের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের প্রজন্ম বড়দের কথা সাধারণত মেনে নিত। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম প্রশ্ন করে, যুক্তি খোঁজে এবং কোনো বিষয় সহজে মেনে নেয় না।

ভাগবতের মতে, এই প্রশ্ন করার প্রবণতা দেশবিরোধিতার লক্ষণ নয়। বরং তরুণদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা জরুরি। জেন-জি ও জেন-আলফাকে নিজেদেরই পরবর্তী প্রজন্ম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের ভাষা ও চিন্তার ধরন বুঝতে হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান প্রজন্ম আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি সৎ এবং তাঁদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দেশসেবার মানসিকতা রয়েছে। এদের ওপর তিনি আস্থা রাখেন বলেও জানান।

তবে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি আরএসএস প্রধান। আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিপেটা এবং পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গ এড়িয়ে তিনি বলেন, সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল এবং কোনটি সঠিক বা ভুল ছিল—তা তাঁর জানা নেই।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা এখনো সংসদে সরব। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়া এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায় নিয়ে সংসদে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে তারা। এ নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

সংসদ সচল করার চেষ্টা হিসেবে সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করলেও বিরোধীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ফলে তরুণদের আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি সংসদীয় অচলাবস্থাও অব্যাহত রয়েছে।

বিষয় : ককরোচ জনতা পার্টি' রাজনৈতিক দল অভিজিৎ দীপকে

কাল মহাকাল

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


এখনই রাজনৈতিক দল নয়, জনতার মন বুঝতে চাইছে ‘তেলাপোকারা’

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

এখনই রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে না ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বরং দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠন বিস্তারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের কথা শুনতে চায় সংগঠনটি। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এ কর্মসূচি। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’—অর্থাৎ, মানুষ কী বলছে।

দুই দিনের বৈঠক শেষে সিজেপির রাষ্ট্রীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে জানান, দেশের মানুষের সমস্যাগুলো সরাসরি জানাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য। মানুষের কথা শুনে তাঁদের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করা হবে। পরে সেসব সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে নিজেদের প্রস্তুত করবে সংগঠনটি।

সিজেপি নেতাদের মতে, তাঁদের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার। তাঁদের অভিযোগ, দেশে শিক্ষা ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। ফলে ধনী পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সহজ হলেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

দুই দিনের কোর কমিটির বৈঠকে আপাতত রাজনৈতিক দল গঠন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিজেপির অন্যতম নেতা সৌরভ দাস বলেন, অনেকেই সংগঠনটিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু দেশে নতুন আরেকটি রাজনৈতিক দল গঠন করে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তাঁরা মনে করছেন না।

সৌরভের ভাষায়, দেশে রাজনৈতিক দলের সংখ্যা কম নয়। রাজনৈতিক দল ভাঙতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি), সিবিআই ও আয়কর বিভাগের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহারের অভিযোগও নতুন নয়। এমন বাস্তবতায় সিজেপি প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর পথে যেতে চাইছে না।

এর পরিবর্তে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে মানুষের মতামত নেওয়া হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে তরুণ প্রজন্মের ভাবনা ও প্রত্যাশাকে। মানুষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

সিজেপি কেন আপাতত রাজনৈতিক দলের পরিচয় নিতে চাইছে না, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অভিজিৎ। তিনি জানান, এখন তাঁরা একটি ‘প্রেশার গ্রুপ’ হিসেবেই কাজ করতে চান। তাঁদের মতে, সরকারের ওপর জনমতের চাপ তৈরি করার ক্ষেত্রে তাঁরা ইতিমধ্যে কিছুটা সফল হয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে ঘিরে আন্দোলন এবং মানুষের মধ্যে ভয় কাটানোর প্রচেষ্টাকে তাঁরা নিজেদের সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

অভিজিতের মতে, মানুষের দাবি নিয়ে সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে আনা এবং সংবিধানের মূল আদর্শ, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাই তাঁদের লক্ষ্য। পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে চান তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থার উদাহরণ টানেন অভিজিৎ। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমেছে। ভোটার একটি দলকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের প্রত্যাশা করলেও পরে অন্য দল সরকার গঠন করছে—এমন ঘটনাও ঘটছে। আবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দলবদলের ক্ষেত্রেও নানা প্রশ্ন উঠছে।

রাজনৈতিক দল ভাঙার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে কোথায় ভোট হবে, কারা ভোট দেবেন এবং ভোটের মাধ্যমে কে সরকার গঠন করবেন—সেই সিদ্ধান্তের বদলে এখন সরকারই যেন ঠিক করে দিচ্ছে কে ভোট দিতে পারবেন।

বিচারব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষের কথা বলেন অভিজিৎ। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের মামলার শুনানির তারিখ পেতে বছরের পর বছর কেটে যায়। বিপরীতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মধ্যরাতেও আদালতের শুনানি হওয়ার নজির দেখা যায়।

যন্তর মন্তরের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকেই এসব বিষয়ে মানুষের মনোভাব আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তা তাঁরা অনুভব করেছেন বলে জানান সিজেপির এই নেতা। সেই ভাবনা থেকেই ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোও চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১১ সদস্যের জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর সর্বভারতীয় আহ্বায়ক হয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। সহ-আহ্বায়ক করা হয়েছে সংগঠনের দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে।

ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের বয়সও আলাদা করে নজর কেড়েছে। প্রত্যেকের বয়স ২৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। সিজেপি নেতাদের দাবি, দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ এই বয়সসীমার মধ্যে রয়েছেন। তরুণদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই সংগঠনের নেতৃত্বে এই বয়সের সদস্যদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

সংগঠন বিস্তারের জন্য দেশকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের দায়িত্ব নির্দিষ্ট নেতাদের দেওয়া হবে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে সংগঠন গড়ে তোলা, সদস্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ করবেন। সদস্য সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যে ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে।

তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও আপাতত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সিজেপি। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে কারও কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে না। আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তরুণদের নিয়ে অবস্থান বদলাচ্ছে বিজেপি-আরএসএসও

তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং তাদের আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মধ্যেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর জেন-জি প্রজন্মকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে নিয়মিত সক্রিয় হচ্ছেন। একই সঙ্গে বিজেপির কর্মসূচিতেও তরুণদের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসছে।

এই প্রেক্ষাপটে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ। জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলনকে সরাসরি দেশবিরোধী হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তরুণেরা প্রতিবাদ করলেই তাঁদের দেশদ্রোহী বলা যায় না। বরং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে তাঁদের বক্তব্য বোঝা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে একটি অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার স্কুলশিক্ষার্থীর সামনে বক্তব্য দেন ভাগবত। সেখানে নিজের সময়ের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের প্রজন্ম বড়দের কথা সাধারণত মেনে নিত। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম প্রশ্ন করে, যুক্তি খোঁজে এবং কোনো বিষয় সহজে মেনে নেয় না।

ভাগবতের মতে, এই প্রশ্ন করার প্রবণতা দেশবিরোধিতার লক্ষণ নয়। বরং তরুণদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা জরুরি। জেন-জি ও জেন-আলফাকে নিজেদেরই পরবর্তী প্রজন্ম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের ভাষা ও চিন্তার ধরন বুঝতে হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান প্রজন্ম আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি সৎ এবং তাঁদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দেশসেবার মানসিকতা রয়েছে। এদের ওপর তিনি আস্থা রাখেন বলেও জানান।

তবে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি আরএসএস প্রধান। আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিপেটা এবং পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গ এড়িয়ে তিনি বলেন, সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল এবং কোনটি সঠিক বা ভুল ছিল—তা তাঁর জানা নেই।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা এখনো সংসদে সরব। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়া এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায় নিয়ে সংসদে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে তারা। এ নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

সংসদ সচল করার চেষ্টা হিসেবে সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করলেও বিরোধীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ফলে তরুণদের আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি সংসদীয় অচলাবস্থাও অব্যাহত রয়েছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত