সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আজকের বিশ্লেষণ আজকের বিশ্লেষণ

চীন–মিয়ানমার করিডর: ভূরাজনীতির নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশের পথচলা

চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব কেবল অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়; এটি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির পুনর্বিন্যাসের অংশ। বাংলাদেশের জন্য এটি যেমন নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে, তেমনি কূটনৈতিক বিচক্ষণতারও কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

চীন–মিয়ানমার করিডর: ভূরাজনীতির নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশের পথচলা
ছবি -সংগৃহীত


বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্র ধীরে ধীরে আটলান্টিক থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সরে আসছে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতিফলনগুলোর একটি দেখা যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে। একসময় যা ছিল মূলত বাণিজ্যিক নৌপথ, এখন তা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সংযোগ এবং সামুদ্রিক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্র। এই বাস্তবতায় চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাবকে কেবল একটি অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে মূল্যায়ন করলে এর প্রকৃত তাৎপর্য ধরা পড়বে না।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে অর্থনৈতিক করিডর এখন উন্নয়ন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এগুলো শুধু সড়ক বা রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ নয়; বরং উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্পায়ন, বন্দর, জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক বাজারকে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যুক্ত করার কৌশল। সফল করিডর একটি দেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করতে পারে। আবার ব্যর্থ করিডর সেই দেশকে কেবল অন্যের পণ্য পরিবহনের পথেও পরিণত করতে পারে।

চীনের জন্য এই উদ্যোগের গুরুত্ব বহুমাত্রিক। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইউনান প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরেই সমুদ্রে সরাসরি প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতায় ভুগছে। মিয়ানমারের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে সংযোগ প্রতিষ্ঠা চীনের জন্য শুধু নতুন বাণিজ্যপথ নয়, বরং মালাক্কা প্রণালির ওপর অতিনির্ভরতা কমানোর একটি কৌশলগত বিকল্প। আন্তর্জাতিক কৌশলগত পরিমণ্ডলে যাকে অনেক বিশ্লেষক "মালাক্কা ডিলেমা" বলে উল্লেখ করেন, এই করিডর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলারও একটি অংশ।

বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আরও জটিল। দেশের ভৌগোলিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি স্বাভাবিক সংযোগস্থল। কিন্তু এই অবস্থানকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সুযোগ সবসময় কাজে লাগানো যায়নি। নতুন করিডর বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম, মাতারবাড়ী, মোংলা এবং সম্ভাব্য অন্যান্য শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে নতুন বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং আঞ্চলিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে উঠতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তব হবে তখনই, যখন বাংলাদেশ নিজস্ব শিল্পভিত্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং মূল্যসংযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারবে।

অভিজ্ঞতা বলে, অবকাঠামো নিজে উন্নয়ন নিশ্চিত করে না। উন্নয়ন নির্ভর করে সেই অবকাঠামোর সঙ্গে স্থানীয় শিল্প, প্রযুক্তি, গবেষণা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং দক্ষ শ্রমবাজার কতটা কার্যকরভাবে যুক্ত হচ্ছে তার ওপর। যদি করিডরের মাধ্যমে কেবল আমদানি বৃদ্ধি পায়, অথচ দেশীয় উৎপাদন প্রতিযোগিতামূলক না হয়, তাহলে অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা আরও বাড়তে পারে।

এই প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো আঞ্চলিক শক্তির প্রতিক্রিয়া। ভারত বঙ্গোপসাগরকে তার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে চীনের অবকাঠামোগত উপস্থিতি নয়াদিল্লির নিরাপত্তা বিশ্লেষণে স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব পাবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় দেশগুলোও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিকল্প সংযোগব্যবস্থা ও সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার কৌশল অনুসরণ করছে। ফলে বাংলাদেশের প্রতিটি বড় অবকাঠামোগত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কৌশলগত হিসাবের অংশ হয়ে উঠছে।

এখানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও একটি নির্ধারক বিষয়। দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা, চলমান সংঘাত এবং সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি করিডরের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তব নিরাপত্তা ও মানবিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা বাস্তবতাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি। গত দুই দশকে ঢাকা বিভিন্ন বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করেছে। সেই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ হবে। কারণ বর্তমান বিশ্বে একক কোনো শক্তির ওপর অতিনির্ভরতা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত—উভয় দিক থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ। বরং বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব, প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়ানোই হবে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ভিত্তি।

এ কারণে চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ করিডরকে "হ্যাঁ" অথবা "না"—এই দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কী শর্তে এতে অংশ নেবে। অর্থায়নের কাঠামো, ঋণের স্থায়িত্ব, প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় শিল্পের অংশগ্রহণ, পরিবেশগত প্রভাব, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং স্বচ্ছতা—এসব সূচকের ভিত্তিতেই প্রকল্পটির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা উচিত।

আগামী দশকে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব আরও বাড়বে। জ্বালানি, ডিজিটাল সংযোগ, ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের নতুন বিন্যাস এই অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসছে। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটিই—দেশটি কি কেবল অন্যদের কৌশলগত মানচিত্রের একটি করিডর হয়ে থাকবে, নাকি নিজের ভৌগোলিক অবস্থানকে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, শিল্পায়ন এবং কৌশলগত প্রভাবের ভিত্তিতে একটি আঞ্চলিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারবে। সেই উত্তর নির্ধারণ করবে শুধু একটি করিডর নয়, বাংলাদেশের আগামী কয়েক দশকের উন্নয়ন ও পররাষ্ট্রনীতির গতিপথও।

বিষয় : চীন মিয়ানমার করিডর

কাল মহাকাল

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


চীন–মিয়ানমার করিডর: ভূরাজনীতির নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশের পথচলা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image


বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্র ধীরে ধীরে আটলান্টিক থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সরে আসছে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতিফলনগুলোর একটি দেখা যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে। একসময় যা ছিল মূলত বাণিজ্যিক নৌপথ, এখন তা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সংযোগ এবং সামুদ্রিক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্র। এই বাস্তবতায় চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাবকে কেবল একটি অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে মূল্যায়ন করলে এর প্রকৃত তাৎপর্য ধরা পড়বে না।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে অর্থনৈতিক করিডর এখন উন্নয়ন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এগুলো শুধু সড়ক বা রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ নয়; বরং উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্পায়ন, বন্দর, জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক বাজারকে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যুক্ত করার কৌশল। সফল করিডর একটি দেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করতে পারে। আবার ব্যর্থ করিডর সেই দেশকে কেবল অন্যের পণ্য পরিবহনের পথেও পরিণত করতে পারে।

চীনের জন্য এই উদ্যোগের গুরুত্ব বহুমাত্রিক। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইউনান প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরেই সমুদ্রে সরাসরি প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতায় ভুগছে। মিয়ানমারের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে সংযোগ প্রতিষ্ঠা চীনের জন্য শুধু নতুন বাণিজ্যপথ নয়, বরং মালাক্কা প্রণালির ওপর অতিনির্ভরতা কমানোর একটি কৌশলগত বিকল্প। আন্তর্জাতিক কৌশলগত পরিমণ্ডলে যাকে অনেক বিশ্লেষক "মালাক্কা ডিলেমা" বলে উল্লেখ করেন, এই করিডর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলারও একটি অংশ।

বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আরও জটিল। দেশের ভৌগোলিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি স্বাভাবিক সংযোগস্থল। কিন্তু এই অবস্থানকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সুযোগ সবসময় কাজে লাগানো যায়নি। নতুন করিডর বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম, মাতারবাড়ী, মোংলা এবং সম্ভাব্য অন্যান্য শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে নতুন বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং আঞ্চলিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে উঠতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তব হবে তখনই, যখন বাংলাদেশ নিজস্ব শিল্পভিত্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং মূল্যসংযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারবে।

অভিজ্ঞতা বলে, অবকাঠামো নিজে উন্নয়ন নিশ্চিত করে না। উন্নয়ন নির্ভর করে সেই অবকাঠামোর সঙ্গে স্থানীয় শিল্প, প্রযুক্তি, গবেষণা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং দক্ষ শ্রমবাজার কতটা কার্যকরভাবে যুক্ত হচ্ছে তার ওপর। যদি করিডরের মাধ্যমে কেবল আমদানি বৃদ্ধি পায়, অথচ দেশীয় উৎপাদন প্রতিযোগিতামূলক না হয়, তাহলে অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা আরও বাড়তে পারে।

এই প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো আঞ্চলিক শক্তির প্রতিক্রিয়া। ভারত বঙ্গোপসাগরকে তার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে চীনের অবকাঠামোগত উপস্থিতি নয়াদিল্লির নিরাপত্তা বিশ্লেষণে স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব পাবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় দেশগুলোও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিকল্প সংযোগব্যবস্থা ও সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার কৌশল অনুসরণ করছে। ফলে বাংলাদেশের প্রতিটি বড় অবকাঠামোগত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কৌশলগত হিসাবের অংশ হয়ে উঠছে।

এখানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও একটি নির্ধারক বিষয়। দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা, চলমান সংঘাত এবং সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি করিডরের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তব নিরাপত্তা ও মানবিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা বাস্তবতাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি। গত দুই দশকে ঢাকা বিভিন্ন বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করেছে। সেই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ হবে। কারণ বর্তমান বিশ্বে একক কোনো শক্তির ওপর অতিনির্ভরতা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত—উভয় দিক থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ। বরং বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব, প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়ানোই হবে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ভিত্তি।

এ কারণে চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ করিডরকে "হ্যাঁ" অথবা "না"—এই দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কী শর্তে এতে অংশ নেবে। অর্থায়নের কাঠামো, ঋণের স্থায়িত্ব, প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় শিল্পের অংশগ্রহণ, পরিবেশগত প্রভাব, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং স্বচ্ছতা—এসব সূচকের ভিত্তিতেই প্রকল্পটির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা উচিত।

আগামী দশকে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব আরও বাড়বে। জ্বালানি, ডিজিটাল সংযোগ, ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের নতুন বিন্যাস এই অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসছে। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটিই—দেশটি কি কেবল অন্যদের কৌশলগত মানচিত্রের একটি করিডর হয়ে থাকবে, নাকি নিজের ভৌগোলিক অবস্থানকে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, শিল্পায়ন এবং কৌশলগত প্রভাবের ভিত্তিতে একটি আঞ্চলিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারবে। সেই উত্তর নির্ধারণ করবে শুধু একটি করিডর নয়, বাংলাদেশের আগামী কয়েক দশকের উন্নয়ন ও পররাষ্ট্রনীতির গতিপথও।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত