সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 মতামতমতামত

বিগত রাজনীতিকে প্রগতিশীল বলে দাবি ও রাজনৈতিক আত্মপ্রবঞ্চনা

শুধু পরিচয় দিয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তি প্রগতিশীল হয়ে ওঠে না—তার কাজই বলে দেয় সে আসলে কতটা গণতান্ত্রিক। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিতর্কে।

বিগত রাজনীতিকে প্রগতিশীল বলে দাবি ও রাজনৈতিক আত্মপ্রবঞ্চনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে "প্রগতিশীল" শব্দটি বহুদিন ধরে একরকম সম্মানসূচক তকমা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোনো দল বা রাজনৈতিক ধারা শুধু নিজেকে এই নামে পরিচয় দিলেই কি সত্যিকারের প্রগতিশীল হয়ে যায়? বাস্তবতা বলছে, উত্তরটা অতটা সহজ নয়। গণতন্ত্র রক্ষা, মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের কথা বলার স্বাধীনতাকে সম্মান জানানো—এই বাস্তব আচরণের ওপরই নির্ভর করে কোনো রাজনীতি কতটা প্রগতিশীল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এই তর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

প্রগতিশীলতা মাপার আসল মানদণ্ড

দুনিয়াজুড়ে প্রগতিশীল রাজনীতির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এর মূল স্তম্ভ চারটি—রাষ্ট্রক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় রাখা, নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা, আইনের শাসন বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া। কোনো রাজনৈতিক শক্তি যদি এসব মূল্যবোধ থেকে সরে আসে, তাহলে শুধু নামের কারণে তাকে প্রগতিশীল বলে মেনে নেওয়ার সুযোগ থাকে না।

কোনো সরকার যদি দীর্ঘদিন ধরে ভিন্নমতকে দমিয়ে রাখে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিসর সংকুচিত করে ফেলে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বারবার নাম আসে কিংবা রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেই সরকারকে চুপচাপ সমর্থন করা বা তার কাজকর্মকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। এই মুহূর্তেই আসলে প্রগতিশীলতার দাবি সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়।

২০২৪-এর অভ্যুত্থান ঘিরে ভাষার লড়াই

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান একটি বাঁক বদলের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেউ একে গণআন্দোলন বলছেন, কেউ গণ-অভ্যুত্থান নামে অভিহিত করছেন, আবার কারও কারও ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এমন বহুমাত্রিক ব্যাখ্যার জায়গা থাকা স্বাভাবিক এবং কাম্যও বটে।

তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন একটি বিশাল জনঅংশগ্রহণমূলক আন্দোলনকে বারবার "সন্ত্রাসী হামলা" বা "রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত"-এর মতো নেতিবাচক পরিভাষায় বর্ণনা করার চেষ্টা চলে, অথচ সেই বর্ণনায় প্রকৃত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপটকে আমলেই নেওয়া হয় না। এমন প্রবণতা ইতিহাসের নির্মোহ মূল্যায়ন না হয়ে বরং একধরনের রাজনৈতিক আখ্যান তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবেই বেশি প্রতিভাত হয়। ইতিহাসের বিচার কোনো দলীয় অবস্থান থেকে নয়, বরং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেই হওয়া উচিত।

গণমাধ্যম আর বুদ্ধিজীবীদের কাঁধে দায়

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী এবং বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বড় কাজ হলো ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। কিন্তু যখন কোনো একটি সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতার সঙ্গে অতিরিক্ত সখ্য গড়ে ওঠে, তখন সমালোচনামূলক চিন্তাচর্চার জায়গা ছোট হয়ে আসে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষণও একপেশে হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

একইসঙ্গে খেয়াল রাখা দরকার, সরকার পরিবর্তনের পর অতীতের ঘটনাবলিকে নতুন রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যাখ্যা করার প্রবণতাও সমান সতর্কতা দাবি করে। সাংবাদিকতা বা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা যদি কেবল ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান পাল্টে ফেলে, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঐক্যের জন্য যা দরকার

বাংলাদেশ এখন এমন একটা সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে রাজনৈতিক মেরুকরণের বদলে সত্যনির্ভর সংলাপ আর পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্গঠনের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য অতীতের ঘটনা নতুন করে লেখার চেষ্টা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি প্রকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণতান্ত্রিক সংকট বা রাষ্ট্রীয় সহিংসতার অভিযোগকে অস্বীকার করাও দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় পুনর্মিলনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ইতিহাস রচনার বদলে এখন দরকার তথ্যনির্ভর গবেষণা, স্বাধীন তদন্ত আর বহুমুখী বিশ্লেষণ। কারণ ইতিহাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ফেললে আগামী প্রজন্মকে বিভক্ত স্মৃতির উত্তরাধিকার বয়ে বেড়াতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে "প্রগতিশীল" পরিচয় কোনো চিরস্থায়ী সনদ নয়; বরং এটি একটি অবিরাম নৈতিক পরীক্ষার নাম। যে রাজনীতি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন আর নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে সত্যিকার অর্থে দৃঢ় অবস্থান নেয়, কেবল সেই রাজনীতিই প্রগতিশীল হওয়ার দাবিদার হতে পারে। অন্যদিকে, যে কোনো রাজনৈতিক পক্ষ বা মতাদর্শ—তার পরিচয় যাই হোক না কেন—যদি ক্ষমতার অপব্যবহার, দমননীতি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামনে নীরব থাকে বা তাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে সেই অবস্থানকে সমালোচনামুক্ত রাখা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে খাপ খায় না।

বাংলাদেশের আগামী দিন নির্ভর করবে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর, যেখানে পরিচয়ের চেয়ে নীতি, দলীয় আনুগত্যের চেয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আর প্রচারণার চেয়ে সত্যের প্রতি অঙ্গীকার বেশি গুরুত্ব পাবে।

বিষয় : প্রগতিশীল

কাল মহাকাল

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


বিগত রাজনীতিকে প্রগতিশীল বলে দাবি ও রাজনৈতিক আত্মপ্রবঞ্চনা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের রাজনীতিতে "প্রগতিশীল" শব্দটি বহুদিন ধরে একরকম সম্মানসূচক তকমা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোনো দল বা রাজনৈতিক ধারা শুধু নিজেকে এই নামে পরিচয় দিলেই কি সত্যিকারের প্রগতিশীল হয়ে যায়? বাস্তবতা বলছে, উত্তরটা অতটা সহজ নয়। গণতন্ত্র রক্ষা, মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের কথা বলার স্বাধীনতাকে সম্মান জানানো—এই বাস্তব আচরণের ওপরই নির্ভর করে কোনো রাজনীতি কতটা প্রগতিশীল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এই তর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

প্রগতিশীলতা মাপার আসল মানদণ্ড

দুনিয়াজুড়ে প্রগতিশীল রাজনীতির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এর মূল স্তম্ভ চারটি—রাষ্ট্রক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় রাখা, নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা, আইনের শাসন বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া। কোনো রাজনৈতিক শক্তি যদি এসব মূল্যবোধ থেকে সরে আসে, তাহলে শুধু নামের কারণে তাকে প্রগতিশীল বলে মেনে নেওয়ার সুযোগ থাকে না।

কোনো সরকার যদি দীর্ঘদিন ধরে ভিন্নমতকে দমিয়ে রাখে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিসর সংকুচিত করে ফেলে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বারবার নাম আসে কিংবা রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেই সরকারকে চুপচাপ সমর্থন করা বা তার কাজকর্মকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। এই মুহূর্তেই আসলে প্রগতিশীলতার দাবি সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়।

২০২৪-এর অভ্যুত্থান ঘিরে ভাষার লড়াই

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান একটি বাঁক বদলের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেউ একে গণআন্দোলন বলছেন, কেউ গণ-অভ্যুত্থান নামে অভিহিত করছেন, আবার কারও কারও ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এমন বহুমাত্রিক ব্যাখ্যার জায়গা থাকা স্বাভাবিক এবং কাম্যও বটে।

তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন একটি বিশাল জনঅংশগ্রহণমূলক আন্দোলনকে বারবার "সন্ত্রাসী হামলা" বা "রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত"-এর মতো নেতিবাচক পরিভাষায় বর্ণনা করার চেষ্টা চলে, অথচ সেই বর্ণনায় প্রকৃত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপটকে আমলেই নেওয়া হয় না। এমন প্রবণতা ইতিহাসের নির্মোহ মূল্যায়ন না হয়ে বরং একধরনের রাজনৈতিক আখ্যান তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবেই বেশি প্রতিভাত হয়। ইতিহাসের বিচার কোনো দলীয় অবস্থান থেকে নয়, বরং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেই হওয়া উচিত।

গণমাধ্যম আর বুদ্ধিজীবীদের কাঁধে দায়

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী এবং বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বড় কাজ হলো ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। কিন্তু যখন কোনো একটি সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতার সঙ্গে অতিরিক্ত সখ্য গড়ে ওঠে, তখন সমালোচনামূলক চিন্তাচর্চার জায়গা ছোট হয়ে আসে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষণও একপেশে হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

একইসঙ্গে খেয়াল রাখা দরকার, সরকার পরিবর্তনের পর অতীতের ঘটনাবলিকে নতুন রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যাখ্যা করার প্রবণতাও সমান সতর্কতা দাবি করে। সাংবাদিকতা বা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা যদি কেবল ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান পাল্টে ফেলে, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঐক্যের জন্য যা দরকার

বাংলাদেশ এখন এমন একটা সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে রাজনৈতিক মেরুকরণের বদলে সত্যনির্ভর সংলাপ আর পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্গঠনের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য অতীতের ঘটনা নতুন করে লেখার চেষ্টা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি প্রকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণতান্ত্রিক সংকট বা রাষ্ট্রীয় সহিংসতার অভিযোগকে অস্বীকার করাও দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় পুনর্মিলনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ইতিহাস রচনার বদলে এখন দরকার তথ্যনির্ভর গবেষণা, স্বাধীন তদন্ত আর বহুমুখী বিশ্লেষণ। কারণ ইতিহাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ফেললে আগামী প্রজন্মকে বিভক্ত স্মৃতির উত্তরাধিকার বয়ে বেড়াতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে "প্রগতিশীল" পরিচয় কোনো চিরস্থায়ী সনদ নয়; বরং এটি একটি অবিরাম নৈতিক পরীক্ষার নাম। যে রাজনীতি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন আর নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে সত্যিকার অর্থে দৃঢ় অবস্থান নেয়, কেবল সেই রাজনীতিই প্রগতিশীল হওয়ার দাবিদার হতে পারে। অন্যদিকে, যে কোনো রাজনৈতিক পক্ষ বা মতাদর্শ—তার পরিচয় যাই হোক না কেন—যদি ক্ষমতার অপব্যবহার, দমননীতি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামনে নীরব থাকে বা তাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে সেই অবস্থানকে সমালোচনামুক্ত রাখা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে খাপ খায় না।

বাংলাদেশের আগামী দিন নির্ভর করবে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর, যেখানে পরিচয়ের চেয়ে নীতি, দলীয় আনুগত্যের চেয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আর প্রচারণার চেয়ে সত্যের প্রতি অঙ্গীকার বেশি গুরুত্ব পাবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত