আন্তর্জাতিক
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দলের বিশেষ সম্মেলনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর কার্যত যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ নিশ্চিত হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে একটি সুপরিকল্পিত কর্মসূচি, যার লক্ষ্য মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সরকারকে আরও জনমুখী করে তোলা।
শুক্রবার নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, তাঁর কাছে কেবল নতুন দায়িত্বই আসেনি, এসেছে দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সুযোগও। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। পরে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় জানান, তাঁর পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো এমন একটি সরকার গঠন করা, যা রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে মানুষের প্রতিদিনের বাস্তব সমস্যার সমাধানকে বেশি গুরুত্ব দেবে।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী সোমবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজা অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এবং ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরু করবেন।
নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, প্রায় ২৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝতে সাহায্য করেছে, দেশের মানুষ আসলে কী প্রত্যাশা করে। তাঁর মতে, রাজনীতির প্রতি মানুষের যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, সেটি দূর করাই হবে নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, লেবার পার্টিকে আবারও শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। সামাজিক ন্যায়বিচার, শক্তিশালী জনসেবা এবং আয়-বৈষম্য কমানোর নীতিকে তাঁর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও সাধারণ মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, নীতিনির্ধারণ হবে জনগণের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে সামনে রেখেই।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র হিসেবে বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে সোচ্চার। নতুন নেতা হওয়ার পরও তিনি সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্তভাবে লন্ডনকেন্দ্রিক হয়ে রয়েছে। ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের হাতে আরও ক্ষমতা, অর্থ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দিলে আঞ্চলিক বৈষম্য কমবে এবং সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
নিজের অগ্রাধিকার তুলে ধরতে গিয়ে বার্নহ্যাম জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) আরও কার্যকর করা, সামাজিক সেবার সংস্কার এবং স্থবির অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর মতে, গত কয়েক দশকের কিছু নীতি ও সিদ্ধান্তের কারণে সমাজের একটি বড় অংশ নিজেদের উন্নয়নপ্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করছে। নতুন সরকার সেই আস্থার সংকট দূর করে রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে কাজ করবে।
নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে লেবার পার্টি এখন এমন এক রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে, যেখানে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি জনসেবার মানোন্নয়ন, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনের বাস্তব সমস্যার সমাধানকে সরকারের কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হবে।
বিষয় : যুক্ত রাজ্য বার্নহাম
2.png)
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দলের বিশেষ সম্মেলনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর কার্যত যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ নিশ্চিত হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে একটি সুপরিকল্পিত কর্মসূচি, যার লক্ষ্য মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সরকারকে আরও জনমুখী করে তোলা।
শুক্রবার নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, তাঁর কাছে কেবল নতুন দায়িত্বই আসেনি, এসেছে দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সুযোগও। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। পরে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় জানান, তাঁর পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো এমন একটি সরকার গঠন করা, যা রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে মানুষের প্রতিদিনের বাস্তব সমস্যার সমাধানকে বেশি গুরুত্ব দেবে।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী সোমবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজা অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এবং ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরু করবেন।
নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, প্রায় ২৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝতে সাহায্য করেছে, দেশের মানুষ আসলে কী প্রত্যাশা করে। তাঁর মতে, রাজনীতির প্রতি মানুষের যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, সেটি দূর করাই হবে নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, লেবার পার্টিকে আবারও শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। সামাজিক ন্যায়বিচার, শক্তিশালী জনসেবা এবং আয়-বৈষম্য কমানোর নীতিকে তাঁর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও সাধারণ মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, নীতিনির্ধারণ হবে জনগণের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে সামনে রেখেই।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র হিসেবে বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে সোচ্চার। নতুন নেতা হওয়ার পরও তিনি সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্তভাবে লন্ডনকেন্দ্রিক হয়ে রয়েছে। ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের হাতে আরও ক্ষমতা, অর্থ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দিলে আঞ্চলিক বৈষম্য কমবে এবং সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
নিজের অগ্রাধিকার তুলে ধরতে গিয়ে বার্নহ্যাম জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) আরও কার্যকর করা, সামাজিক সেবার সংস্কার এবং স্থবির অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর মতে, গত কয়েক দশকের কিছু নীতি ও সিদ্ধান্তের কারণে সমাজের একটি বড় অংশ নিজেদের উন্নয়নপ্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করছে। নতুন সরকার সেই আস্থার সংকট দূর করে রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে কাজ করবে।
নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে লেবার পার্টি এখন এমন এক রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে, যেখানে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি জনসেবার মানোন্নয়ন, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনের বাস্তব সমস্যার সমাধানকে সরকারের কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হবে।
2.png)