সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

ডলারের সাম্রাজ্যে ফাটল: বেইজিংয়ের এক চালে টালমাটাল ওয়াশিংটন

আমেরিকার ঋণের বোঝা ঝেড়ে ফেলে বেইজিং এখন আক্রমণাত্মক মেজাজে; যার সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের প্রভাবের ইঙ্গিত মিলেছে।

এফ আই রাজীব
এফ আই রাজীব
ডলারের সাম্রাজ্যে ফাটল: বেইজিংয়ের এক চালে টালমাটাল ওয়াশিংটন
ছবি- প্রতীকী (এ আই জেনারেটেড)

কয়েক দশক ধরে জমানো মার্কিন ঋণের পাহাড় এখন যেন বেইজিংয়ের কাছে তাসের ঘর। দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার অন্যতম কারিগর চীন এখন উল্টো পথে হাঁটছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেইজিং যে পরিমাণ মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বাজারজাত করেছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন। দশকের পর দশক ধরে আমেরিকার ঋণের বড় যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত দেশটি এখন সেই সম্পদ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে ঝড়ের গতিতে।

​বিষয়টা মোটেও আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি বেইজিংয়ের একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল। মূলত সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তাকে নিশ্ছিদ্র করা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের যে একচ্ছত্র আধিপত্য, তাতে মোক্ষম আঘাত হানাই তাদের মূল লক্ষ্য। চীন খুব হিসাব কষেই এই কঠিন চালটি দিয়েছে। বেইজিংয়ের এই বন্ড বিক্রির ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে ওয়াশিংটনকে নতুন করে ঋণ নিতে চড়া সুদ গুনতে হবে। যার অনিবার্য পরিণতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হতে পারে এবং সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বলা চলে, এতদিনকার তথাকথিত ‘আর্থিক স্নায়ুযুদ্ধ’ এখন এক উত্তপ্ত সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

​বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের ভূ-রাজনৈতিক ডামাডোলে বিনিয়োগকারীদের ভরসার স্থল হয়ে ওঠে স্বর্ণ। যখনই মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দাম নিম্নমুখী হয় এবং ঋণের বাজারে চাপ বাড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের চেইন রিঅ্যাকশন বা শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়। বন্ডের দাম কমলে সুদের হার বা ‘ইল্ড’ বেড়ে যায়, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে সংকুচিত করে ফেলে। ডলারের ওপর থেকে বৈশ্বিক আস্থা কিছুটা টলে গেলেই বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠেন। আর ঠিক সেই জায়গাতেই সোনার কদর বাড়ে সবচেয়ে বেশি। বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করলে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, বেইজিংয়ের এই কৌশলী পদক্ষেপে স্বর্ণের বাজার আরও চাঙ্গা হওয়ার দিকেই এগোচ্ছে।

বিষয় : চীন যুক্তরাষ্ট্র ট্রেজারি বন্ড

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


ডলারের সাম্রাজ্যে ফাটল: বেইজিংয়ের এক চালে টালমাটাল ওয়াশিংটন

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

কয়েক দশক ধরে জমানো মার্কিন ঋণের পাহাড় এখন যেন বেইজিংয়ের কাছে তাসের ঘর। দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার অন্যতম কারিগর চীন এখন উল্টো পথে হাঁটছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেইজিং যে পরিমাণ মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বাজারজাত করেছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন। দশকের পর দশক ধরে আমেরিকার ঋণের বড় যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত দেশটি এখন সেই সম্পদ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে ঝড়ের গতিতে।

​বিষয়টা মোটেও আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি বেইজিংয়ের একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল। মূলত সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তাকে নিশ্ছিদ্র করা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের যে একচ্ছত্র আধিপত্য, তাতে মোক্ষম আঘাত হানাই তাদের মূল লক্ষ্য। চীন খুব হিসাব কষেই এই কঠিন চালটি দিয়েছে। বেইজিংয়ের এই বন্ড বিক্রির ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে ওয়াশিংটনকে নতুন করে ঋণ নিতে চড়া সুদ গুনতে হবে। যার অনিবার্য পরিণতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হতে পারে এবং সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বলা চলে, এতদিনকার তথাকথিত ‘আর্থিক স্নায়ুযুদ্ধ’ এখন এক উত্তপ্ত সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

​বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের ভূ-রাজনৈতিক ডামাডোলে বিনিয়োগকারীদের ভরসার স্থল হয়ে ওঠে স্বর্ণ। যখনই মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দাম নিম্নমুখী হয় এবং ঋণের বাজারে চাপ বাড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের চেইন রিঅ্যাকশন বা শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়। বন্ডের দাম কমলে সুদের হার বা ‘ইল্ড’ বেড়ে যায়, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে সংকুচিত করে ফেলে। ডলারের ওপর থেকে বৈশ্বিক আস্থা কিছুটা টলে গেলেই বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠেন। আর ঠিক সেই জায়গাতেই সোনার কদর বাড়ে সবচেয়ে বেশি। বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করলে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, বেইজিংয়ের এই কৌশলী পদক্ষেপে স্বর্ণের বাজার আরও চাঙ্গা হওয়ার দিকেই এগোচ্ছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত