সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

  বানিজ্য বানিজ্য

সুকুক বিনিয়োগ এখন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী

সঞ্চয়ের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে সুকুককে জনপ্রিয় করতে বিনিয়োগকারী আইডি খোলার প্রক্রিয়া সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক; একই সঙ্গে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে মাশুল কাঠামো।

সুকুক বিনিয়োগ এখন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী
ছবি -সংগৃহীত

 কষ্টের জমানো টাকা কোথায় রাখলে নিরাপদ থাকবে—সাধারণ মানুষের এই চিরাচরিত দুশ্চিন্তা দূর করতে এবার বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে 'সুকুক' বা শরিয়াহভিত্তিক বন্ডকে আরও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এই খাতে আকৃষ্ট করতে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ ও সহজসাধ্য করা হয়েছে। এখন থেকে বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং নির্দিষ্ট মাশুল জমা দিয়ে যেকোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহজেই নিজস্ব 'সুকুক ইনভেস্টর আইডি' তৈরি করতে পারবেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন নির্দেশনা ও মাশুল কাঠামোর বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিনিয়োগে ব্যয়ের হিসাব

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবামূল্য বা মাশুল কাঠামো সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে আইডি খোলা, প্রাথমিক নিলামে অংশগ্রহণ কিংবা বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ—প্রতিটি ধাপের জন্য ভ্যাটসহ সর্বোচ্চ ২০০ টাকা মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এই মাশুল ধরা হয়েছে প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা। এছাড়া সেকেন্ডারি মার্কেটে প্রতিবার লেনদেনের জন্য খরচ হবে ১০০ টাকা। বছরে একটি আয়কর সনদ বিনা মূল্যে পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত সনদের জন্য ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যথাক্রমে ২০০ ও ৫০০ টাকা গুণতে হবে।

বিনামূল্যে মিলবে যেসব সেবা

বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বেশ কিছু সেবাকে মাশুলমুক্ত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে মুনাফা, ভাড়া কিংবা বিনিয়োগের আসল টাকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোনো অতিরিক্ত টাকা কাটতে পারবে না। এছাড়া নিজের বিনিয়োগের পরিমাণ বা হোল্ডিং রিপোর্ট সংগ্রহ এবং সুকুক আইডি বন্ধ করার ক্ষেত্রেও কোনো মাশুল দিতে হবে না।

আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ‘গভর্নমেন্ট সিকিউরিটিজ বিনিয়োগ উইন্ডো’—তে যোগাযোগ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ সিকিউরিটি মডিউলের মাধ্যমে এই আইডি পরিচালিত হবে। গ্রাহকভেদে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকায় যা উঠে এসেছে:

 ব্যক্তি বিনিয়োগকারী: নির্ধারিত আবেদন ফরম, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, ছবি, ই-টিআইএন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং নমিনির ছবি ও পরিচয়পত্রের অনুলিপি।

 অনিবাসী বা বিদেশি বিনিয়োগকারী: আবেদন ফরম ও ছবিসহ প্রবাসীদের ব্যবহৃত দেশি মুদ্রার ‘টাকা হিসাব’-এর তথ্য এবং পাসপোর্ট ও কর সনদ জমা দিতে হবে।

 প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী (কোম্পানি/ট্রাস্ট/ফান্ড): প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স, মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন, বোর্ড রেজোল্যুশন, টিআইএন এবং অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর বিস্তারিত তথ্য ও ছবি প্রয়োজন হবে।

 একক বা অংশীদারি ব্যবসা: ট্রেড লাইসেন্স, অংশীদারি দলিল (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), টিআইএন এবং মালিক বা অংশীদারদের পরিচয়পত্র ও যোগাযোগের ঠিকানা প্রয়োজন।

আমানতকারীদের জন্য সঞ্চয়পত্র কিংবা এফডিআর-এর বাইরেও সুকুক এখন একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে নিজেকে জানান দিচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগের এই নতুন সুযোগ সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে আরও গতিশীল করবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


সুকুক বিনিয়োগ এখন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

 কষ্টের জমানো টাকা কোথায় রাখলে নিরাপদ থাকবে—সাধারণ মানুষের এই চিরাচরিত দুশ্চিন্তা দূর করতে এবার বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে 'সুকুক' বা শরিয়াহভিত্তিক বন্ডকে আরও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এই খাতে আকৃষ্ট করতে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ ও সহজসাধ্য করা হয়েছে। এখন থেকে বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং নির্দিষ্ট মাশুল জমা দিয়ে যেকোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহজেই নিজস্ব 'সুকুক ইনভেস্টর আইডি' তৈরি করতে পারবেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন নির্দেশনা ও মাশুল কাঠামোর বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিনিয়োগে ব্যয়ের হিসাব

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবামূল্য বা মাশুল কাঠামো সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে আইডি খোলা, প্রাথমিক নিলামে অংশগ্রহণ কিংবা বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ—প্রতিটি ধাপের জন্য ভ্যাটসহ সর্বোচ্চ ২০০ টাকা মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এই মাশুল ধরা হয়েছে প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা। এছাড়া সেকেন্ডারি মার্কেটে প্রতিবার লেনদেনের জন্য খরচ হবে ১০০ টাকা। বছরে একটি আয়কর সনদ বিনা মূল্যে পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত সনদের জন্য ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যথাক্রমে ২০০ ও ৫০০ টাকা গুণতে হবে।

বিনামূল্যে মিলবে যেসব সেবা

বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বেশ কিছু সেবাকে মাশুলমুক্ত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে মুনাফা, ভাড়া কিংবা বিনিয়োগের আসল টাকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোনো অতিরিক্ত টাকা কাটতে পারবে না। এছাড়া নিজের বিনিয়োগের পরিমাণ বা হোল্ডিং রিপোর্ট সংগ্রহ এবং সুকুক আইডি বন্ধ করার ক্ষেত্রেও কোনো মাশুল দিতে হবে না।

আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ‘গভর্নমেন্ট সিকিউরিটিজ বিনিয়োগ উইন্ডো’—তে যোগাযোগ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ সিকিউরিটি মডিউলের মাধ্যমে এই আইডি পরিচালিত হবে। গ্রাহকভেদে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকায় যা উঠে এসেছে:

 ব্যক্তি বিনিয়োগকারী: নির্ধারিত আবেদন ফরম, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, ছবি, ই-টিআইএন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং নমিনির ছবি ও পরিচয়পত্রের অনুলিপি।

 অনিবাসী বা বিদেশি বিনিয়োগকারী: আবেদন ফরম ও ছবিসহ প্রবাসীদের ব্যবহৃত দেশি মুদ্রার ‘টাকা হিসাব’-এর তথ্য এবং পাসপোর্ট ও কর সনদ জমা দিতে হবে।

 প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী (কোম্পানি/ট্রাস্ট/ফান্ড): প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স, মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন, বোর্ড রেজোল্যুশন, টিআইএন এবং অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর বিস্তারিত তথ্য ও ছবি প্রয়োজন হবে।

 একক বা অংশীদারি ব্যবসা: ট্রেড লাইসেন্স, অংশীদারি দলিল (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), টিআইএন এবং মালিক বা অংশীদারদের পরিচয়পত্র ও যোগাযোগের ঠিকানা প্রয়োজন।

আমানতকারীদের জন্য সঞ্চয়পত্র কিংবা এফডিআর-এর বাইরেও সুকুক এখন একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে নিজেকে জানান দিচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগের এই নতুন সুযোগ সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে আরও গতিশীল করবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত