সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

রুশ যুদ্ধে মানবপাচার: নিষেধাজ্ঞার কবলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান

ইউক্রেন যুদ্ধে লড়তে প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের রাশিয়ায় পাঠানোর দায়ে ‘ড্রিম হোম ট্রাভেলস’সহ ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

রুশ যুদ্ধে মানবপাচার: নিষেধাজ্ঞার কবলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান
ছবি -সংগৃহীত

অভিযুক্ত ‘ড্রিম হোম ট্রাভেলস’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে সাধারণ মানুষকে কৌশলে ব্যবহারের যে অভিযোগ এতদিন আন্তর্জাতিক মহলে ভাসছিল, তা এবার আরও স্পষ্ট হলো। ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বিদেশি নাগরিকদের পাচারের অভিযোগে নতুন করে একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ব্রিটিশ সরকার। গত মঙ্গলবার (৫ মে) প্রকাশিত এই তালিকায় মোট ৩৫টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে, যার মধ্যে অবিশ্বাস্যভাবে জড়িয়ে গেছে একটি বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সির নামও।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘ড্রিম হোম ট্রাভেলস’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ বাংলাদেশিদের সাথে রীতিমতো প্রতারণা করেছে। মূলত রাশিয়ায় সেবা খাতে আকাশচুম্বী বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তারা বিজ্ঞাপন দিত। কিন্তু ভাগ্যের অন্বেষণে যাওয়া সেই মানুষগুলো রাশিয়ায় পা রাখামাত্রই বাস্তব চিত্র বদলে যেত। উচ্চ বেতনের চাকরির বদলে তাদের বাধ্য করা হতো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে লড়তে। সহজ কথায়, উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের ঠেলে দেওয়া হতো নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর এই জঘন্য শোষণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ড্রিম হোম ট্রাভেলসের মালিকের যুক্তরাজ্যে থাকা যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য—যারা মানবপাচার বা অনিয়মিত অভিবাসনের মাধ্যমে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান এই যুদ্ধে গত দুই বছরে বারবারই অভিযোগ উঠেছে যে, রাশিয়া বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের অর্থের প্রলোভন বা জোর খাটিয়ে যুদ্ধের ময়দানে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। ব্রিটিশ সরকারের এই সর্বশেষ পদক্ষেপ সেই অভিযোগের সত্যতাকেই যেন নতুন করে দালিলিক রূপ দিল। সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে যারা এমন ভয়ংকর কারবার চালাচ্ছে, তাদের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক এই নিষেধাজ্ঞার পর স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিষয় : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ মানবপাচার

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


রুশ যুদ্ধে মানবপাচার: নিষেধাজ্ঞার কবলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

অভিযুক্ত ‘ড্রিম হোম ট্রাভেলস’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে সাধারণ মানুষকে কৌশলে ব্যবহারের যে অভিযোগ এতদিন আন্তর্জাতিক মহলে ভাসছিল, তা এবার আরও স্পষ্ট হলো। ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বিদেশি নাগরিকদের পাচারের অভিযোগে নতুন করে একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ব্রিটিশ সরকার। গত মঙ্গলবার (৫ মে) প্রকাশিত এই তালিকায় মোট ৩৫টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে, যার মধ্যে অবিশ্বাস্যভাবে জড়িয়ে গেছে একটি বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সির নামও।


ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘ড্রিম হোম ট্রাভেলস’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ বাংলাদেশিদের সাথে রীতিমতো প্রতারণা করেছে। মূলত রাশিয়ায় সেবা খাতে আকাশচুম্বী বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তারা বিজ্ঞাপন দিত। কিন্তু ভাগ্যের অন্বেষণে যাওয়া সেই মানুষগুলো রাশিয়ায় পা রাখামাত্রই বাস্তব চিত্র বদলে যেত। উচ্চ বেতনের চাকরির বদলে তাদের বাধ্য করা হতো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে লড়তে। সহজ কথায়, উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের ঠেলে দেওয়া হতো নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর এই জঘন্য শোষণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ড্রিম হোম ট্রাভেলসের মালিকের যুক্তরাজ্যে থাকা যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য—যারা মানবপাচার বা অনিয়মিত অভিবাসনের মাধ্যমে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান এই যুদ্ধে গত দুই বছরে বারবারই অভিযোগ উঠেছে যে, রাশিয়া বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের অর্থের প্রলোভন বা জোর খাটিয়ে যুদ্ধের ময়দানে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। ব্রিটিশ সরকারের এই সর্বশেষ পদক্ষেপ সেই অভিযোগের সত্যতাকেই যেন নতুন করে দালিলিক রূপ দিল। সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে যারা এমন ভয়ংকর কারবার চালাচ্ছে, তাদের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক এই নিষেধাজ্ঞার পর স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত