রাজনীতি
জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দীর্ঘদিনের জোটে ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ ৬টি সিটি কর্পোরেশনে এনসিপি ইতোমধ্যেই মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারণায় নেমে পড়েছে। অন্যদিকে জামায়াত জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পরই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করবে।
সবচেয়ে বড় সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এনসিপি এই পদে আগেই দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আসিফ মাহমুদ ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকাকে দখল ও দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নির্বাচিত হলে বাসিন্দাদের ময়লার বিল মওকুফের মতো জনপ্রিয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠে নেমেছেন।
অপরদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের নাম অনানুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাদিক কায়েম এখনও শিবিরের পদে থাকায় এখনই কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তার নেই। এই দ্বিমুখী বার্তার পরও জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মীরা সাদিক কায়েম ছাড়া অন্য কাউকে মেনে নিতে নারাজ। ফলে সমঝোতা না হলে এই দুই তরুণ নেতার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখার সম্ভাবনা প্রবল।
এই পরিস্থিতিতে জামায়াত-সমর্থিত সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো করেছে। তিনি লিখেছেন, “এনসিপিকে বিদায় জানানোর সময় হয়েছে।” এই মন্তব্য উভয় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা চলছে।
দুই দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে উভয় দলই এককভাবে নির্বাচন করার কথা ভাবছে। তবে এনসিপির একটি অংশ এখনও সমঝোতার আশা ছাড়েনি। তারা ঢাকার অন্তত একটি সিটিতে ছাড় চায়, বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আসিফ মাহমুদের বিষয়ে তারা আপসের সুযোগ দেখছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “আমরা কৌশলগত কারণে ৬ সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত জোট অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। এ ক্ষেত্রে কিছু সিটিতে সমঝোতার আলোচনা হয়েছে।”
অন্যদিকে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “কেন্দ্র থেকেই মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, তফসিলের পর তা প্রকাশ করা হবে।”
শিবিরের বিবৃতির পর জামায়াত কি সাদিক কায়েমের বিকল্প কাউকে ভাবছে, নাকি এনসিপিকে ছাড় দেবে—এই প্রশ্নগুলো এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দীর্ঘদিনের জোটে ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ ৬টি সিটি কর্পোরেশনে এনসিপি ইতোমধ্যেই মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারণায় নেমে পড়েছে। অন্যদিকে জামায়াত জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পরই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করবে।
সবচেয়ে বড় সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এনসিপি এই পদে আগেই দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আসিফ মাহমুদ ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকাকে দখল ও দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নির্বাচিত হলে বাসিন্দাদের ময়লার বিল মওকুফের মতো জনপ্রিয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠে নেমেছেন।
অপরদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের নাম অনানুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাদিক কায়েম এখনও শিবিরের পদে থাকায় এখনই কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তার নেই। এই দ্বিমুখী বার্তার পরও জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মীরা সাদিক কায়েম ছাড়া অন্য কাউকে মেনে নিতে নারাজ। ফলে সমঝোতা না হলে এই দুই তরুণ নেতার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখার সম্ভাবনা প্রবল।
এই পরিস্থিতিতে জামায়াত-সমর্থিত সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো করেছে। তিনি লিখেছেন, “এনসিপিকে বিদায় জানানোর সময় হয়েছে।” এই মন্তব্য উভয় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা চলছে।
দুই দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে উভয় দলই এককভাবে নির্বাচন করার কথা ভাবছে। তবে এনসিপির একটি অংশ এখনও সমঝোতার আশা ছাড়েনি। তারা ঢাকার অন্তত একটি সিটিতে ছাড় চায়, বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আসিফ মাহমুদের বিষয়ে তারা আপসের সুযোগ দেখছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “আমরা কৌশলগত কারণে ৬ সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত জোট অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। এ ক্ষেত্রে কিছু সিটিতে সমঝোতার আলোচনা হয়েছে।”
অন্যদিকে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “কেন্দ্র থেকেই মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, তফসিলের পর তা প্রকাশ করা হবে।”
শিবিরের বিবৃতির পর জামায়াত কি সাদিক কায়েমের বিকল্প কাউকে ভাবছে, নাকি এনসিপিকে ছাড় দেবে—এই প্রশ্নগুলো এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
