সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আইন-কানুনআইন-কানুন

সরকারি ভবনে র‍্যাম্প নির্মাণে হাইকোর্টের রুল

ভবন নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিবন্ধীদের চলাচল সহজ করতে কেন সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে র‍্যাম্প স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন উচ্চ আদালত।

সরকারি ভবনে র‍্যাম্প নির্মাণে হাইকোর্টের রুল
ছবি- (এ আই জেনারেটেড)


দেশের প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবাধ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৫ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮-এর যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে এই রুল জারি করেন। আদালতের এই আদেশে মূলত জানতে চাওয়া হয়েছে, বিধিমালা অনুযায়ী কেন সব সরকারি ভবনে প্রতিবন্ধীবান্ধব ‘র‍্যাম্প’ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হবে না।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, আমাদের সংবিধান এবং বিদ্যমান আইন প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় স্পষ্ট গ্যারান্টি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুবই কম। যথাযথ অবকাঠামোর অভাবে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী নাগরিক অনেক সময় গৃহবন্দি থাকতে বাধ্য হন, যা সরাসরি মানবাধিকারের লঙ্ঘন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "একজন মানুষ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হবেন কি না, সেটা তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই; কিন্তু প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে সম্মানের সাথে বাঁচবেন, সেই সুযোগ করে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।"

হাইকোর্টের জারি করা এই রুলে ইমারত নির্মাণ বিধিমালার বিধি ৬৪ মেনে না চলাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সাথে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের সময়ই রাজউক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন প্রতিবন্ধীদের প্রবেশাধিকার ও বিশেষ সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করবে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন আদালত। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—উভয় ধরনের অবকাঠামোতেই যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে, রুলে সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জবাব চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ এপ্রিল ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। এখন রাজউক এবং সরকারি ভবন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে আদালতের এই প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর দিতে হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রুল বাস্তবায়িত হলে দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তি পাবে এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার সুযোগ পাবে।

বিষয় : হাইকোর্ট সরকারি ভবনে প্রতিবন্ধীবান্ধব ‘র‍্যাম্প

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


সরকারি ভবনে র‍্যাম্প নির্মাণে হাইকোর্টের রুল

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image


দেশের প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবাধ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৫ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮-এর যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে এই রুল জারি করেন। আদালতের এই আদেশে মূলত জানতে চাওয়া হয়েছে, বিধিমালা অনুযায়ী কেন সব সরকারি ভবনে প্রতিবন্ধীবান্ধব ‘র‍্যাম্প’ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হবে না।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, আমাদের সংবিধান এবং বিদ্যমান আইন প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় স্পষ্ট গ্যারান্টি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুবই কম। যথাযথ অবকাঠামোর অভাবে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী নাগরিক অনেক সময় গৃহবন্দি থাকতে বাধ্য হন, যা সরাসরি মানবাধিকারের লঙ্ঘন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "একজন মানুষ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হবেন কি না, সেটা তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই; কিন্তু প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে সম্মানের সাথে বাঁচবেন, সেই সুযোগ করে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।"

হাইকোর্টের জারি করা এই রুলে ইমারত নির্মাণ বিধিমালার বিধি ৬৪ মেনে না চলাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সাথে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের সময়ই রাজউক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন প্রতিবন্ধীদের প্রবেশাধিকার ও বিশেষ সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করবে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন আদালত। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—উভয় ধরনের অবকাঠামোতেই যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে, রুলে সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জবাব চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ এপ্রিল ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। এখন রাজউক এবং সরকারি ভবন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে আদালতের এই প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর দিতে হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রুল বাস্তবায়িত হলে দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তি পাবে এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার সুযোগ পাবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত