বাংলাদেশ
মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে তড়িঘড়ি করে সই হওয়া ‘যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হওয়া এই চুক্তি নিয়ে এখন খোদ জাতীয় সংসদেই বাতিলের দাবি উঠেছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—একটি অনির্বাচিত সরকার নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তি কীভাবে সই করে? তাঁর মতে, এই চুক্তিতে এমন অনেক শর্ত রয়েছে যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী।
চুক্তিটি নিয়ে সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। একে ‘অধীনতার চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে বাংলাদেশ নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারাবে এবং লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান সংকটে পড়বে। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির এক সমাবেশে তিনি এই চুক্তি সইয়ের জন্য দায়ীদের বিচারও দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, এটি বহাল থাকলে আমরা একটি ‘চোখ-কান বন্ধ’ জাতিতে পরিণত হব।
অন্যদিকে, বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তাঁর দাবি, এই চুক্তি নিয়ে অহেতুক ভয়ের কিছু নেই। কোনো ধারা যদি দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, তবে তা সংশোধনের সুযোগ খোদ চুক্তির মধ্যেই রাখা হয়েছে।
সরকারের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত হলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই চুক্তি নিয়ে এখনো কোনো প্রকাশ্য আন্দোলনে নামেনি। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, চুক্তির বিষয়ে তাঁদের সাথে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। তবে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, আমিরের বিদেশ সফর শেষে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে দলের অবস্থান পরিষ্কার করবেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এনসিপির কূটনীতি সেলের সম্পাদক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ দাবি করেছেন যে, চুক্তির প্রক্রিয়ায় না থাকলেও এর সাথে বিএনপি ও জামায়াতের পরোক্ষ সম্মতি বা ‘অ্যালাইনমেন্ট’ ছিল। তবে এনসিপি এই চুক্তির পুরোপুরি বিরোধিতা করছে না। তারা মনে করছে, ভারতের প্রভাব বলয় থেকে বের হয়ে বাণিজ্যকে বহুমুখী করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই সখ্য প্রয়োজন ছিল। যদিও তারা চুক্তির প্রক্রিয়াটিকে ‘চরম একপেশে’ বলে মনে করছে।
এই পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিকে ‘একতরফা বাধ্যবাধকতা’ ও ‘জাতির জন্য অশনি সংকেত’ বলে অভিহিত করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিসর্জনে যখন সরকার ও বিরোধী দল প্রায় একই অবস্থানে থাকে, তখন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা থেকে বাঁচতেই মূলত এই দীর্ঘ ৯ মাসের দর-কষাকষি এবং শেষ মুহূর্তের এই চুক্তি। তবে শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে গিয়ে বাংলাদেশ নিজের কতটা ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বিসর্জন দিল, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে তড়িঘড়ি করে সই হওয়া ‘যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হওয়া এই চুক্তি নিয়ে এখন খোদ জাতীয় সংসদেই বাতিলের দাবি উঠেছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—একটি অনির্বাচিত সরকার নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তি কীভাবে সই করে? তাঁর মতে, এই চুক্তিতে এমন অনেক শর্ত রয়েছে যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী।
চুক্তিটি নিয়ে সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। একে ‘অধীনতার চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে বাংলাদেশ নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারাবে এবং লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান সংকটে পড়বে। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির এক সমাবেশে তিনি এই চুক্তি সইয়ের জন্য দায়ীদের বিচারও দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, এটি বহাল থাকলে আমরা একটি ‘চোখ-কান বন্ধ’ জাতিতে পরিণত হব।
অন্যদিকে, বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তাঁর দাবি, এই চুক্তি নিয়ে অহেতুক ভয়ের কিছু নেই। কোনো ধারা যদি দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, তবে তা সংশোধনের সুযোগ খোদ চুক্তির মধ্যেই রাখা হয়েছে।
সরকারের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত হলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই চুক্তি নিয়ে এখনো কোনো প্রকাশ্য আন্দোলনে নামেনি। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, চুক্তির বিষয়ে তাঁদের সাথে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। তবে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, আমিরের বিদেশ সফর শেষে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে দলের অবস্থান পরিষ্কার করবেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এনসিপির কূটনীতি সেলের সম্পাদক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ দাবি করেছেন যে, চুক্তির প্রক্রিয়ায় না থাকলেও এর সাথে বিএনপি ও জামায়াতের পরোক্ষ সম্মতি বা ‘অ্যালাইনমেন্ট’ ছিল। তবে এনসিপি এই চুক্তির পুরোপুরি বিরোধিতা করছে না। তারা মনে করছে, ভারতের প্রভাব বলয় থেকে বের হয়ে বাণিজ্যকে বহুমুখী করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই সখ্য প্রয়োজন ছিল। যদিও তারা চুক্তির প্রক্রিয়াটিকে ‘চরম একপেশে’ বলে মনে করছে।
এই পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিকে ‘একতরফা বাধ্যবাধকতা’ ও ‘জাতির জন্য অশনি সংকেত’ বলে অভিহিত করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিসর্জনে যখন সরকার ও বিরোধী দল প্রায় একই অবস্থানে থাকে, তখন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা থেকে বাঁচতেই মূলত এই দীর্ঘ ৯ মাসের দর-কষাকষি এবং শেষ মুহূর্তের এই চুক্তি। তবে শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে গিয়ে বাংলাদেশ নিজের কতটা ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বিসর্জন দিল, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
