সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

শেখ হাসিনাসহ ১১ শিল্পগোষ্ঠীর তদন্তে ফুলটাইম টিম

অর্থ পাচার, কর ফাঁকি, ঘুষ-দুর্নীতি ও ব্যাংক জালিয়াতির অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ১১টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পূর্ণ সময় কাজের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। আন্তঃসংস্থা সমন্বয় আরও জোরদারে বাংলাদেশ ব্যাংকের অস্থায়ী কার্যালয় থেকেই তদন্ত পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনাসহ ১১ শিল্পগোষ্ঠীর তদন্তে ফুলটাইম টিম
ছবি -সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দেশের আলোচিত ১১টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, কর ফাঁকি, ঘুষ-দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত দ্রুত শেষ করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তাদের অন্য দায়িত্ব থেকে সরিয়ে কেবল এসব মামলার অনুসন্ধানেই পূর্ণ সময় নিয়োজিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি), শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) অর্থ মন্ত্রণালয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে। পাশাপাশি তদন্তকারীদের বাংলাদেশ ব্যাংকে গঠিত যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে বসেই দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ ধরনের ব্যবস্থা দেশে এই প্রথম নেওয়া হচ্ছে।

গত ৭ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, অগ্রাধিকারভিত্তিতে তদন্তাধীন ১১টি শিল্পগোষ্ঠীর অনুসন্ধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিকভাবে এই দায়িত্বে রাখতে হবে। একই সঙ্গে যৌথ তদন্ত কার্যক্রম আরও সমন্বিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অস্থায়ী কার্যালয় থেকেই অনুসন্ধান পরিচালনার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, তদন্তের গতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় পুরো প্রক্রিয়াকে আরও নিবিড়ভাবে তদারকির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও দুদক একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের এমন চিঠি নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাধারণভাবে কোনো মন্ত্রণালয় দুদককে নির্দেশনা দেয় না। তবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকি, ব্যাংক জালিয়াতি, ঘুষ এবং দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি মিলেছে। অনুসন্ধান শেষ হলে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হবে। প্রয়োজন হলে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা হতে পারে।

একই সঙ্গে এসব অনিয়মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তের আওতায় রয়েছে এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, নাসা, সিকদার ও আরামিট গ্রুপসহ আরও কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী। শুধু করপোরেট প্রতিষ্ঠান নয়, এসব গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রকৃত সুবিধাভোগী, তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) সরকারের যৌথ অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত জানায়। পরে ৬ জানুয়ারি তদন্তের কাঠামো, নেতৃত্ব এবং কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করা হয়। পুরো তদন্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএফআইইউকে। মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে সিআইডি, দুদক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং শুল্ক গোয়েন্দা। আইনি সহায়তা দিচ্ছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি শিল্পগোষ্ঠীর জন্য পৃথক তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুসরণ করে গোপনীয়তার সঙ্গে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স এবং বিএফআইইউকে জানানো হচ্ছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া, ভুয়া বা অতিমূল্যায়িত আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ। এসব অভিযোগের পক্ষে ব্যাংক লেনদেন, আর্থিক নথি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে তদন্তাধীন অধিকাংশ শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে বিএফআইইউ। পাশাপাশি তাদের ঋণের ব্যবহার, প্রকৃত সুবিধাভোগী, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং অর্থের গতিপথ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের তথ্য সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই এবার তদন্তে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের পূর্ণ সময় এই কাজে নিয়োজিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের আশা, আন্তঃসংস্থার সমন্বিত এই উদ্যোগে আলোচিত শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত দ্রুত শেষ হবে এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের প্রক্রিয়াও আরও এগিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাই এ ধরনের মামলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক।

তার মতে, এটিকে দুদক বা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং রাষ্ট্রীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত দ্রুত ও কার্যকরভাবে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবেই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, শুধু অগ্রাধিকার ঘোষণা করলেই হবে না, বাস্তবেও তার প্রতিফলন থাকতে হবে। যেসব কর্মকর্তাকে অন্য দায়িত্ব থেকে সরিয়ে একচেটিয়াভাবে এই তদন্তে নিয়োজিত করা হবে, তাদের নিরপেক্ষতা, গভীরতা ও দ্রুততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে। শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে তদন্তের মান, গতি এবং জবাবদিহির ওপর।

বিষয় : শেখ হাসিনা দুদক ১১টি শিল্পগোষ্ঠী অর্থ পাচার, কর ফাঁকি, ঘুষ-দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতি

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬


শেখ হাসিনাসহ ১১ শিল্পগোষ্ঠীর তদন্তে ফুলটাইম টিম

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দেশের আলোচিত ১১টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, কর ফাঁকি, ঘুষ-দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত দ্রুত শেষ করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তাদের অন্য দায়িত্ব থেকে সরিয়ে কেবল এসব মামলার অনুসন্ধানেই পূর্ণ সময় নিয়োজিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি), শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) অর্থ মন্ত্রণালয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে। পাশাপাশি তদন্তকারীদের বাংলাদেশ ব্যাংকে গঠিত যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে বসেই দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ ধরনের ব্যবস্থা দেশে এই প্রথম নেওয়া হচ্ছে।

গত ৭ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, অগ্রাধিকারভিত্তিতে তদন্তাধীন ১১টি শিল্পগোষ্ঠীর অনুসন্ধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিকভাবে এই দায়িত্বে রাখতে হবে। একই সঙ্গে যৌথ তদন্ত কার্যক্রম আরও সমন্বিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অস্থায়ী কার্যালয় থেকেই অনুসন্ধান পরিচালনার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, তদন্তের গতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় পুরো প্রক্রিয়াকে আরও নিবিড়ভাবে তদারকির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও দুদক একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের এমন চিঠি নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাধারণভাবে কোনো মন্ত্রণালয় দুদককে নির্দেশনা দেয় না। তবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকি, ব্যাংক জালিয়াতি, ঘুষ এবং দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি মিলেছে। অনুসন্ধান শেষ হলে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হবে। প্রয়োজন হলে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা হতে পারে।

একই সঙ্গে এসব অনিয়মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তের আওতায় রয়েছে এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, নাসা, সিকদার ও আরামিট গ্রুপসহ আরও কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী। শুধু করপোরেট প্রতিষ্ঠান নয়, এসব গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রকৃত সুবিধাভোগী, তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) সরকারের যৌথ অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত জানায়। পরে ৬ জানুয়ারি তদন্তের কাঠামো, নেতৃত্ব এবং কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করা হয়। পুরো তদন্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএফআইইউকে। মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে সিআইডি, দুদক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং শুল্ক গোয়েন্দা। আইনি সহায়তা দিচ্ছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি শিল্পগোষ্ঠীর জন্য পৃথক তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুসরণ করে গোপনীয়তার সঙ্গে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স এবং বিএফআইইউকে জানানো হচ্ছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া, ভুয়া বা অতিমূল্যায়িত আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ। এসব অভিযোগের পক্ষে ব্যাংক লেনদেন, আর্থিক নথি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে তদন্তাধীন অধিকাংশ শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে বিএফআইইউ। পাশাপাশি তাদের ঋণের ব্যবহার, প্রকৃত সুবিধাভোগী, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং অর্থের গতিপথ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের তথ্য সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই এবার তদন্তে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের পূর্ণ সময় এই কাজে নিয়োজিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের আশা, আন্তঃসংস্থার সমন্বিত এই উদ্যোগে আলোচিত শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত দ্রুত শেষ হবে এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের প্রক্রিয়াও আরও এগিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাই এ ধরনের মামলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক।

তার মতে, এটিকে দুদক বা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং রাষ্ট্রীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত দ্রুত ও কার্যকরভাবে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবেই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, শুধু অগ্রাধিকার ঘোষণা করলেই হবে না, বাস্তবেও তার প্রতিফলন থাকতে হবে। যেসব কর্মকর্তাকে অন্য দায়িত্ব থেকে সরিয়ে একচেটিয়াভাবে এই তদন্তে নিয়োজিত করা হবে, তাদের নিরপেক্ষতা, গভীরতা ও দ্রুততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে। শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে তদন্তের মান, গতি এবং জবাবদিহির ওপর।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত