জাতীয়
বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির নিচে লুকিয়ে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডার নিয়ে এখন বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার অত্যাধুনিক ড্রিলিং প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বাংলাদেশের সীমানার ভেতর থাকা ভূগর্ভস্থ গ্যাস নিজেদের দিকে টেনে নিচ্ছে। পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ নীতি—উচ্চচাপ থেকে গ্যাস নিম্নচাপের দিকে ধাবিত হয়—এই নিয়মকে কাজে লাগিয়ে ‘ক্রস-বর্ডার ড্রিলিং’-এর মাধ্যমে এই গ্যাস লুণ্ঠন চলছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। ইরাক-কুয়েত যুদ্ধের সময়ের সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতির মিল খুঁজে পাচ্ছেন।
২০১২ সালে সমুদ্রসীমা জয়ের পর বিষয়টি দেশের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছিল। অথচ এরপর থেকেই উল্টো চিত্র দেখা গেছে। সমুদ্রে বাংলাদেশের নির্ধারিত ব্লকগুলোর দায়িত্ব ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে দেওয়া হলেও, দীর্ঘ ১৪ বছরেও সেখানে কার্যকর কোনো গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রকল্পগুলো যেন এক দীর্ঘ ‘ঘুমের’ দেশে তলিয়ে ছিল। আর এর মাসুল দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। একদিকে গ্যাস উত্তোলনে ব্যর্থতা, অন্যদিকে জ্বালানি চাহিদার চাপে পড়ে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানিতে প্রতি বছর গচ্চা দিতে হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছে বাংলাদেশ। জ্বালানি সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান কিংবা চীনের সহায়তায় মিয়ানমারের মতো দেশগুলো যে মডেল অনুসরণ করে সফল হয়েছে, তা এখন বাংলাদেশের সামনে বড় উদাহরণ। সরকার এখন আর বসে নেই; চীনের সাথে একটি বড় ধরনের সমঝোতা ও নতুন মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো—বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে নিজস্ব গ্যাস উত্তোলন নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘বাপেক্স’-এর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিজেদের সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এই নতুন কৌশল বাস্তবায়ন করা গেলে জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন দিগন্তে পৌঁছাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
2.png)
রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির নিচে লুকিয়ে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডার নিয়ে এখন বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার অত্যাধুনিক ড্রিলিং প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বাংলাদেশের সীমানার ভেতর থাকা ভূগর্ভস্থ গ্যাস নিজেদের দিকে টেনে নিচ্ছে। পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ নীতি—উচ্চচাপ থেকে গ্যাস নিম্নচাপের দিকে ধাবিত হয়—এই নিয়মকে কাজে লাগিয়ে ‘ক্রস-বর্ডার ড্রিলিং’-এর মাধ্যমে এই গ্যাস লুণ্ঠন চলছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। ইরাক-কুয়েত যুদ্ধের সময়ের সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতির মিল খুঁজে পাচ্ছেন।
২০১২ সালে সমুদ্রসীমা জয়ের পর বিষয়টি দেশের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছিল। অথচ এরপর থেকেই উল্টো চিত্র দেখা গেছে। সমুদ্রে বাংলাদেশের নির্ধারিত ব্লকগুলোর দায়িত্ব ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে দেওয়া হলেও, দীর্ঘ ১৪ বছরেও সেখানে কার্যকর কোনো গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রকল্পগুলো যেন এক দীর্ঘ ‘ঘুমের’ দেশে তলিয়ে ছিল। আর এর মাসুল দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। একদিকে গ্যাস উত্তোলনে ব্যর্থতা, অন্যদিকে জ্বালানি চাহিদার চাপে পড়ে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানিতে প্রতি বছর গচ্চা দিতে হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছে বাংলাদেশ। জ্বালানি সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান কিংবা চীনের সহায়তায় মিয়ানমারের মতো দেশগুলো যে মডেল অনুসরণ করে সফল হয়েছে, তা এখন বাংলাদেশের সামনে বড় উদাহরণ। সরকার এখন আর বসে নেই; চীনের সাথে একটি বড় ধরনের সমঝোতা ও নতুন মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো—বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে নিজস্ব গ্যাস উত্তোলন নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘বাপেক্স’-এর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিজেদের সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এই নতুন কৌশল বাস্তবায়ন করা গেলে জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন দিগন্তে পৌঁছাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
2.png)