আন্তর্জাতিক
ইউক্রেনজুড়ে আবারও ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। যুদ্ধক্ষেত্রের ফ্রন্টলাইন বা সম্মুখভাগ থেকে দূরবর্তী শহরগুলোকে নিশানা করে চালানো এই হামলায় অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার (২৯ জুন) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে ইউক্রেনের এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দেশটির অন্যতম প্রধান শিল্পনগরী দনিপ্রোকে লক্ষ্য করে ক্রেমলিন এই প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সেখানে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, এই অঞ্চলটিকে দীর্ঘদিন ধরেই রুশ বাহিনী তাদের নিয়মিত হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে।
টেলিগ্রাম অ্যাপে দেওয়া এক পোস্টে দনিপ্রোর আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্ডার হানজা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে। তিনি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভাঙা জানালাযুক্ত একটি বহুতল ভবন এবং সিঁড়ির পাশে পড়ে থাকা একটি মরদেহের ঝাপসা ছবি পোস্ট করে চরের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। গভর্নর আরও জানান, রুশ হামলায় আহতদের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। অনেকের মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত লেগেছে, শরীরে স্প্লিন্টারের গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং অনেকের হাড় ভেঙে গেছে। এ ছাড়া বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেকের শরীরজুড়ে মারাত্মক দাহ্য চিহ্ন দেখা গেছে।
জেলেনস্কি আরও জানান, ফ্রন্টলাইন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জাপোরিঝিয়া শহরেও পৃথক ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। সেখানে এক শিশুসহ অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। এই অঞ্চলটিকে মস্কো নিজেদের দাবি করলেও এর পুরো নিয়ন্ত্রণ এখনো নিতে পারেনি রুশ সেনারা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, দনিপ্রো ও জাপোরিঝিয়া ছাড়াও রাশিয়ার ড্রোন ও মিসাইল সুমি, ওডেসা, চেরনিহিভ, খেরসন এবং খারকিভ অঞ্চলেও আঘাত হেনেছে।
এদিকে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই সোমবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইউক্রেনের সাথে শান্তি চুক্তির বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান ২০২৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। ওই বছর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শর্ত দিয়েছিলেন যে, শান্তি চুক্তির আলোচনা শুরু করতে হলে ইউক্রেনকে মস্কোর দাবি করা চারটি অঞ্চল থেকে তাদের সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নিতে হবে এবং পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে (NATO) যোগদানের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে চিরকালের জন্য ত্যাগ করতে হবে।
চলতি সপ্তাহে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন আবারও হুংকার দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাশিয়া অবিচল রয়েছে। একই সাথে কিয়েভের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন এক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। পুতিন জানান, কিয়েভ সরকারের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিকভাবে দূরপাল্লার হামলা বন্ধ করার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ওই প্রস্তাবে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেবল দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলেছিল, যা রাশিয়া আমলেই নেয়নি।
বিষয় : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ
2.png)
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
ইউক্রেনজুড়ে আবারও ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। যুদ্ধক্ষেত্রের ফ্রন্টলাইন বা সম্মুখভাগ থেকে দূরবর্তী শহরগুলোকে নিশানা করে চালানো এই হামলায় অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার (২৯ জুন) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে ইউক্রেনের এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দেশটির অন্যতম প্রধান শিল্পনগরী দনিপ্রোকে লক্ষ্য করে ক্রেমলিন এই প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সেখানে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, এই অঞ্চলটিকে দীর্ঘদিন ধরেই রুশ বাহিনী তাদের নিয়মিত হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে।
টেলিগ্রাম অ্যাপে দেওয়া এক পোস্টে দনিপ্রোর আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্ডার হানজা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে। তিনি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভাঙা জানালাযুক্ত একটি বহুতল ভবন এবং সিঁড়ির পাশে পড়ে থাকা একটি মরদেহের ঝাপসা ছবি পোস্ট করে চরের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। গভর্নর আরও জানান, রুশ হামলায় আহতদের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। অনেকের মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত লেগেছে, শরীরে স্প্লিন্টারের গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং অনেকের হাড় ভেঙে গেছে। এ ছাড়া বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেকের শরীরজুড়ে মারাত্মক দাহ্য চিহ্ন দেখা গেছে।
জেলেনস্কি আরও জানান, ফ্রন্টলাইন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জাপোরিঝিয়া শহরেও পৃথক ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। সেখানে এক শিশুসহ অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। এই অঞ্চলটিকে মস্কো নিজেদের দাবি করলেও এর পুরো নিয়ন্ত্রণ এখনো নিতে পারেনি রুশ সেনারা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, দনিপ্রো ও জাপোরিঝিয়া ছাড়াও রাশিয়ার ড্রোন ও মিসাইল সুমি, ওডেসা, চেরনিহিভ, খেরসন এবং খারকিভ অঞ্চলেও আঘাত হেনেছে।
এদিকে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই সোমবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইউক্রেনের সাথে শান্তি চুক্তির বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান ২০২৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। ওই বছর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শর্ত দিয়েছিলেন যে, শান্তি চুক্তির আলোচনা শুরু করতে হলে ইউক্রেনকে মস্কোর দাবি করা চারটি অঞ্চল থেকে তাদের সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নিতে হবে এবং পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে (NATO) যোগদানের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে চিরকালের জন্য ত্যাগ করতে হবে।
চলতি সপ্তাহে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন আবারও হুংকার দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাশিয়া অবিচল রয়েছে। একই সাথে কিয়েভের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন এক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। পুতিন জানান, কিয়েভ সরকারের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিকভাবে দূরপাল্লার হামলা বন্ধ করার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ওই প্রস্তাবে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেবল দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলেছিল, যা রাশিয়া আমলেই নেয়নি।
2.png)