সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 লোকাল ফোকাসলোকাল ফোকাস

ভোলার চরাঞ্চলে আবার মহিষের বাথানে ডাকাত দল, অস্ত্রের মুখে ২৩টি মহিষ লুট

মদনপুরে মাঝরাতে ফাঁকা গুলি ছুড়ে রাখালদের জিম্মি করে ট্রলারে মহিষ তুলে নিল সশস্ত্র চক্র; ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা।

ভোলার চরাঞ্চলে আবার মহিষের বাথানে ডাকাত দল, অস্ত্রের মুখে ২৩টি মহিষ লুট
ছবি -সংগৃহীত

ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের এক দুর্গম চরাঞ্চলে আবারও গবাদিপশু লুটের ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে পাহারাদার ও রাখালদের তাড়িয়ে একটি সশস্ত্র ডাকাত দল বাথান থেকে ২৩টি মহিষ ট্রলারে তুলে নিয়ে গেছে বলে ভুক্তভোগী খামারিরা অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী খামারি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মদনপুর ইউনিয়নের মধুপুর ৪ নম্বর শিট এলাকার একটি মহিষের বাথানে দুই থেকে তিনটি বড় ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অতর্কিত হানা দেয়। বাথানে ঢুকেই তারা কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। গুলির শব্দে ভয় পেয়ে বাথানের রাখাল ও পাহারাদারেরা প্রাণ বাঁচাতে পাশের হোগলাবনে গিয়ে আশ্রয় নেন। এই সুযোগে ডাকাতেরা বাথান থেকে ২৩টি বড় মাদি মহিষ টেনেহিঁচড়ে তাদের ট্রলারে তুলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের দাবি, লুট হওয়া এই মহিষগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে খামারি অলি ঘোষের সাতটি, ফয়সাল জমাদারের চারটি, মিজান হাওলাদারের তিনটি, দুলাল মিয়ার তিনটি, জসিমের দুটি, জুয়েল হাওলাদারের দুটি এবং বাহার ঘোষের একটি মহিষ রয়েছে।

মহিষের মালিকেরা জানান, ঘটনার পরপরই তারা প্রথমে আশপাশের বিভিন্ন চর ও নদীপথে নিজেদের উদ্যোগে মহিষগুলোর খোঁজখুঁজি করেন। সব জায়গায় খুঁজেও যখন কোনো সন্ধান মেলেনি, তখন তারা নিশ্চিত হয়ে বিষয়টি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। ভুক্তভোগীদের ধারণা, লুট হওয়া মহিষগুলো নদীপথ ব্যবহার করে ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চল, পাতার চর অথবা পাতার খালের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চরাঞ্চলে এ ধরনের ডাকাতির পেছনে একটি বড় সিন্ডিকেট বা সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এলাকার অনেকেরই সন্দেহ, পাতার চরের বাসিন্দা মেন্টু খাঁ ও তাঁর সহযোগীরা এই সুনির্দিষ্ট লুটের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি চরের বাসিন্দারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কথিত সোর্স এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডাকাতদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন। অবশ্য এই সমস্ত দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য মেলেনি।

চরাঞ্চলের বাসিন্দারা দাবি করেন, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে গত দুই বছরে ভোলার বিভিন্ন চরে গবাদিপশু চুরি ও ডাকাতির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এই দুই বছরের মধ্যে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত দুই হাজারের বেশি গবাদিপশু নিখোঁজ বা চুরি হয়েছে।

এরই মধ্যে সম্প্রতি ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের নতুন চর হোসেন এলাকায় এক নৃশংস ঘটনা ঘটে। সেখানে দুর্বৃত্তরা বনি আমিন ফরাজির দুটি এবং মো. হোসেন ফরাজির একটি মহিষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে কোনো উপায় না দেখে মালিকেরা বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে সেগুলো কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। এছাড়া চরমোহাম্মদ এলাকা থেকেও কয়েক দিন আগে আরও তিনটি মহিষ চুরি হওয়ার খবর দিয়েছেন স্থানীয়রা।

অবশ্য এর আগে গত ১৭ জুন মনপুরা উপজেলার দুর্গম চর বইশা থেকে লুট হওয়া ১৫টি মহিষ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল পুলিশ। ওই মহিষগুলো ১৬ জুন রাতে চরফ্যাশন উপজেলার চর নিজাম এলাকা থেকে লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় বাথানের কেয়ারটেকার পরিমল চন্দ্র দাস মনপুরা থানায় একটি মামলা করেন। মামলার একমাত্র আসামি আবদুর রহিমকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানে মহিষগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

সর্বশেষ মদনপুর চর থেকে ২৩টি মহিষ লুটের ঘটনায় ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো থানায় লিখিত অভিযোগ এবং সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ভোলার ইলিশা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, মদনপুর বা মাঝের চর থেকে ২৩টি মহিষ লুটের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। তিনি নিজেই প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছেন। চরাঞ্চল নৌ থানার আইনি এখতিয়ারের মধ্যে না থাকলেও খবরটি দ্রুত পেলে আশপাশের অন্যান্য ইউনিটগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো যেত। তিনি আরও বলেন, নদীপথে ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক টহল দেওয়া সম্ভব নয়, তাই মহিষের মালিকদেরও বাথানের নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বিষয় : ভোলা মহিষ লুট

ভোলার চরাঞ্চলে আবার মহিষের বাথানে ডাকাত দল, অস্ত্রের মুখে ২৩টি মহিষ লুট
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


ভোলার চরাঞ্চলে আবার মহিষের বাথানে ডাকাত দল, অস্ত্রের মুখে ২৩টি মহিষ লুট

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের এক দুর্গম চরাঞ্চলে আবারও গবাদিপশু লুটের ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে পাহারাদার ও রাখালদের তাড়িয়ে একটি সশস্ত্র ডাকাত দল বাথান থেকে ২৩টি মহিষ ট্রলারে তুলে নিয়ে গেছে বলে ভুক্তভোগী খামারিরা অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী খামারি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মদনপুর ইউনিয়নের মধুপুর ৪ নম্বর শিট এলাকার একটি মহিষের বাথানে দুই থেকে তিনটি বড় ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অতর্কিত হানা দেয়। বাথানে ঢুকেই তারা কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। গুলির শব্দে ভয় পেয়ে বাথানের রাখাল ও পাহারাদারেরা প্রাণ বাঁচাতে পাশের হোগলাবনে গিয়ে আশ্রয় নেন। এই সুযোগে ডাকাতেরা বাথান থেকে ২৩টি বড় মাদি মহিষ টেনেহিঁচড়ে তাদের ট্রলারে তুলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের দাবি, লুট হওয়া এই মহিষগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে খামারি অলি ঘোষের সাতটি, ফয়সাল জমাদারের চারটি, মিজান হাওলাদারের তিনটি, দুলাল মিয়ার তিনটি, জসিমের দুটি, জুয়েল হাওলাদারের দুটি এবং বাহার ঘোষের একটি মহিষ রয়েছে।

মহিষের মালিকেরা জানান, ঘটনার পরপরই তারা প্রথমে আশপাশের বিভিন্ন চর ও নদীপথে নিজেদের উদ্যোগে মহিষগুলোর খোঁজখুঁজি করেন। সব জায়গায় খুঁজেও যখন কোনো সন্ধান মেলেনি, তখন তারা নিশ্চিত হয়ে বিষয়টি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। ভুক্তভোগীদের ধারণা, লুট হওয়া মহিষগুলো নদীপথ ব্যবহার করে ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চল, পাতার চর অথবা পাতার খালের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চরাঞ্চলে এ ধরনের ডাকাতির পেছনে একটি বড় সিন্ডিকেট বা সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এলাকার অনেকেরই সন্দেহ, পাতার চরের বাসিন্দা মেন্টু খাঁ ও তাঁর সহযোগীরা এই সুনির্দিষ্ট লুটের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি চরের বাসিন্দারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কথিত সোর্স এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডাকাতদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন। অবশ্য এই সমস্ত দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য মেলেনি।

চরাঞ্চলের বাসিন্দারা দাবি করেন, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে গত দুই বছরে ভোলার বিভিন্ন চরে গবাদিপশু চুরি ও ডাকাতির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এই দুই বছরের মধ্যে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত দুই হাজারের বেশি গবাদিপশু নিখোঁজ বা চুরি হয়েছে।

এরই মধ্যে সম্প্রতি ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের নতুন চর হোসেন এলাকায় এক নৃশংস ঘটনা ঘটে। সেখানে দুর্বৃত্তরা বনি আমিন ফরাজির দুটি এবং মো. হোসেন ফরাজির একটি মহিষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে কোনো উপায় না দেখে মালিকেরা বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে সেগুলো কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। এছাড়া চরমোহাম্মদ এলাকা থেকেও কয়েক দিন আগে আরও তিনটি মহিষ চুরি হওয়ার খবর দিয়েছেন স্থানীয়রা।

অবশ্য এর আগে গত ১৭ জুন মনপুরা উপজেলার দুর্গম চর বইশা থেকে লুট হওয়া ১৫টি মহিষ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল পুলিশ। ওই মহিষগুলো ১৬ জুন রাতে চরফ্যাশন উপজেলার চর নিজাম এলাকা থেকে লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় বাথানের কেয়ারটেকার পরিমল চন্দ্র দাস মনপুরা থানায় একটি মামলা করেন। মামলার একমাত্র আসামি আবদুর রহিমকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানে মহিষগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

সর্বশেষ মদনপুর চর থেকে ২৩টি মহিষ লুটের ঘটনায় ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো থানায় লিখিত অভিযোগ এবং সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ভোলার ইলিশা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, মদনপুর বা মাঝের চর থেকে ২৩টি মহিষ লুটের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। তিনি নিজেই প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছেন। চরাঞ্চল নৌ থানার আইনি এখতিয়ারের মধ্যে না থাকলেও খবরটি দ্রুত পেলে আশপাশের অন্যান্য ইউনিটগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো যেত। তিনি আরও বলেন, নদীপথে ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক টহল দেওয়া সম্ভব নয়, তাই মহিষের মালিকদেরও বাথানের নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত