সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজনীতিরাজনীতি

‘বদি তো জেলে, এখন মাদকের দায়িত্ব কে নিয়েছে’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গয়েশ্বর

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান নিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ঝাঁজালো প্রশ্ন; ইসলামী ব্যাংকে অমুসলিমদের চাকরির সুযোগ না থাকাকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা।

 ‘বদি তো জেলে, এখন মাদকের দায়িত্ব কে নিয়েছে’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গয়েশ্বর
ছবি -সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৈরি করা ইয়াবা চোরাকারবারিদের তালিকায় এক নম্বরে ছিল কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির নাম। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি এখন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু দেশ থেকে এখনো মাদকের বিস্তার কমেনি। তাহলে এখন ওখানকার মাদকের দায়িত্ব কে নিয়েছেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে সরাসরি সেই প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রবীণ রাজনীতিবিদ গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমাদের দেশে মাদকের সবচেয়ে বড় চালানটা কিন্তু আপনার নিজের বাড়ির আশপাশ দিয়েই আসে। আগে শুনতাম বদির নাম, এখন তো বদি নাই, সে জেলে। তাহলে এখন ওখানকার দায়িত্বটা কে নিছে?’ উল্লেখ্য, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার–১ আসনের সংসদ সদস্য, অন্যদিকে আবদুর রহমান বদি ছিলেন কক্সবাজার–৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে গয়েশ্বর রায় আরও বলেন, ‘যেহেতু ওটা আপনার বাড়ির আশপাশের এলাকা, আপনার তো চেনার কথা। এত দিনে ওদিক দিয়ে মাদক আসা অন্তত বন্ধ হওয়া উচিত ছিল।’ নিজের নির্বাচনী এলাকার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে একটি ১০ শয্যার সরকারি হাসপাতাল এখন কার্যত মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। হাসপাতালটিতে কোনো রোগী, চিকিৎসক কিংবা দারোয়ান পর্যন্ত নেই। অথচ সরকারি হিসাবে ওই এলাকায় ৬ লাখ এবং বেসরকারি হিসাবে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস করেন। মাদক রোধে আইনের চেয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আইন দিয়ে কোনো কিছু হয় না। আইন কার্যকরী করার জন্য সাহস ও ইচ্ছা লাগে।’

বিএনপি সরকারের বর্তমান মেয়াদের প্রথম বাজেট নিয়ে দলটির এই প্রবীণ নেতা বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ ঘোষণার মধ্যেই দেশের আগামীর একটি স্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে এবং সেই ভিশন সামনে রেখেই অর্থমন্ত্রী এই বাজেট তৈরি করেছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোকে তিনি স্বাগত জানান। তবে রাজস্ব আদায়ে দুর্নীতিকে বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে পুরো জাতি এর নিচে তলিয়ে যাবে।

আলোচনার এক পর্যায়ে বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যের সরকারিভাবে ‘ওয়াশিং মেশিন’ দেওয়ার দাবির সমালোচনা করে গয়েশ্বর রায় রসাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ‘আমি ওয়াশিং মেশিনের নাম শুনেছি, কিন্তু কখনো চোখে দেখিনি বা ব্যবহার করিনি। সংসদ আমাকে দিলেও আমি তা নেব না। সংসদ সদস্যদেরই যদি ওয়াশিং মেশিনের অভাব হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের অভাব যে কত বেশি, সেটা ভাবা উচিত। তখনই বোঝা যাবে প্রকৃত অর্থবহ বাজেট কাকে বলে।’ সাধারণ দিনমজুর ও কৃষকদের কথা বিবেচনা করে বিড়ির ওপর থেকে কর কমানোরও দাবি জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষ অংশে দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। তিনি দাবি করেন, দেশের একটি শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি ব্যাংকে একজন হিন্দু বা অমুসলিম প্রার্থী যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও চাকরি পান না, যা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক। রাষ্ট্র কাঠামোর সব জায়গায় এই ধরনের বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

বিষয় : মাদক গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ইয়াবা চোরাকারবারি

‘বদি তো জেলে, এখন মাদকের দায়িত্ব কে নিয়েছে’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গয়েশ্বর
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


‘বদি তো জেলে, এখন মাদকের দায়িত্ব কে নিয়েছে’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গয়েশ্বর

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৈরি করা ইয়াবা চোরাকারবারিদের তালিকায় এক নম্বরে ছিল কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির নাম। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি এখন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু দেশ থেকে এখনো মাদকের বিস্তার কমেনি। তাহলে এখন ওখানকার মাদকের দায়িত্ব কে নিয়েছেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে সরাসরি সেই প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রবীণ রাজনীতিবিদ গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমাদের দেশে মাদকের সবচেয়ে বড় চালানটা কিন্তু আপনার নিজের বাড়ির আশপাশ দিয়েই আসে। আগে শুনতাম বদির নাম, এখন তো বদি নাই, সে জেলে। তাহলে এখন ওখানকার দায়িত্বটা কে নিছে?’ উল্লেখ্য, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার–১ আসনের সংসদ সদস্য, অন্যদিকে আবদুর রহমান বদি ছিলেন কক্সবাজার–৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে গয়েশ্বর রায় আরও বলেন, ‘যেহেতু ওটা আপনার বাড়ির আশপাশের এলাকা, আপনার তো চেনার কথা। এত দিনে ওদিক দিয়ে মাদক আসা অন্তত বন্ধ হওয়া উচিত ছিল।’ নিজের নির্বাচনী এলাকার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে একটি ১০ শয্যার সরকারি হাসপাতাল এখন কার্যত মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। হাসপাতালটিতে কোনো রোগী, চিকিৎসক কিংবা দারোয়ান পর্যন্ত নেই। অথচ সরকারি হিসাবে ওই এলাকায় ৬ লাখ এবং বেসরকারি হিসাবে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস করেন। মাদক রোধে আইনের চেয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আইন দিয়ে কোনো কিছু হয় না। আইন কার্যকরী করার জন্য সাহস ও ইচ্ছা লাগে।’

বিএনপি সরকারের বর্তমান মেয়াদের প্রথম বাজেট নিয়ে দলটির এই প্রবীণ নেতা বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ ঘোষণার মধ্যেই দেশের আগামীর একটি স্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে এবং সেই ভিশন সামনে রেখেই অর্থমন্ত্রী এই বাজেট তৈরি করেছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোকে তিনি স্বাগত জানান। তবে রাজস্ব আদায়ে দুর্নীতিকে বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে পুরো জাতি এর নিচে তলিয়ে যাবে।

আলোচনার এক পর্যায়ে বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যের সরকারিভাবে ‘ওয়াশিং মেশিন’ দেওয়ার দাবির সমালোচনা করে গয়েশ্বর রায় রসাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ‘আমি ওয়াশিং মেশিনের নাম শুনেছি, কিন্তু কখনো চোখে দেখিনি বা ব্যবহার করিনি। সংসদ আমাকে দিলেও আমি তা নেব না। সংসদ সদস্যদেরই যদি ওয়াশিং মেশিনের অভাব হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের অভাব যে কত বেশি, সেটা ভাবা উচিত। তখনই বোঝা যাবে প্রকৃত অর্থবহ বাজেট কাকে বলে।’ সাধারণ দিনমজুর ও কৃষকদের কথা বিবেচনা করে বিড়ির ওপর থেকে কর কমানোরও দাবি জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষ অংশে দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। তিনি দাবি করেন, দেশের একটি শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি ব্যাংকে একজন হিন্দু বা অমুসলিম প্রার্থী যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও চাকরি পান না, যা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক। রাষ্ট্র কাঠামোর সব জায়গায় এই ধরনের বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান তিনি।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত