ইসলাম ও জীবন
পবিত্র আশুরা আজ। হিজরি মহররম মাসের ১০ তারিখ, যা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে একাধারে শোক ও ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর। সৃষ্টির শুরু থেকে নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদতবরণ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মুসলমানকে এখনো অশ্রুসিক্ত করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন হওয়ার দীক্ষা দেয়।
দিনটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছেন। মসজিদে মসজিদে নফল ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বের করা হচ্ছে তাজিয়া মিছিল।
কুরআন ও হাদিসের বর্ণনায় জানা যায়, আল্লাহ তাআলা এই দিনেই আরশ, কুরসি, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছিলেন। মানবজাতির আদি পিতা আদম (আ.)-এর সৃষ্টি ও প্রতিনিধি হওয়া, নূহ (আ.)-এর মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পাওয়া, ইব্রাহিম (আ.)-এর জন্ম এবং মূসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইলদের ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো ঘটেছে আশুরার দিনেই। তবে ঐতিহাসিকভাবে আশুরা সবচেয়ে বেশি পরিচিত কারবালার সেই ট্র্যাজেডির জন্য, যেখানে হজরত হোসাইন (রা.) অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে পরিবারসহ শাহাদতবরণ করেন।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ দেখায়।’
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, ‘পবিত্র আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই।’
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তাজিয়া মিছিলসহ যাবতীয় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের দক্ষ ডুবুরি দল মোতায়েন করা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীতে আতশবাজি বা পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত রুটে ট্রাফিক ডাইভারশন ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। যানজট এড়াতে এবং মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ডিএমপি’র পক্ষ থেকে নগরবাসীকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিষয় : আশুরা
2.png)
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
পবিত্র আশুরা আজ। হিজরি মহররম মাসের ১০ তারিখ, যা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে একাধারে শোক ও ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর। সৃষ্টির শুরু থেকে নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদতবরণ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মুসলমানকে এখনো অশ্রুসিক্ত করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন হওয়ার দীক্ষা দেয়।
দিনটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছেন। মসজিদে মসজিদে নফল ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বের করা হচ্ছে তাজিয়া মিছিল।
কুরআন ও হাদিসের বর্ণনায় জানা যায়, আল্লাহ তাআলা এই দিনেই আরশ, কুরসি, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছিলেন। মানবজাতির আদি পিতা আদম (আ.)-এর সৃষ্টি ও প্রতিনিধি হওয়া, নূহ (আ.)-এর মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পাওয়া, ইব্রাহিম (আ.)-এর জন্ম এবং মূসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইলদের ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো ঘটেছে আশুরার দিনেই। তবে ঐতিহাসিকভাবে আশুরা সবচেয়ে বেশি পরিচিত কারবালার সেই ট্র্যাজেডির জন্য, যেখানে হজরত হোসাইন (রা.) অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে পরিবারসহ শাহাদতবরণ করেন।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ দেখায়।’
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, ‘পবিত্র আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই।’
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তাজিয়া মিছিলসহ যাবতীয় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের দক্ষ ডুবুরি দল মোতায়েন করা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীতে আতশবাজি বা পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত রুটে ট্রাফিক ডাইভারশন ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। যানজট এড়াতে এবং মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ডিএমপি’র পক্ষ থেকে নগরবাসীকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
2.png)