বাংলাদেশ
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই আমন্ত্রণ জানান।
সাক্ষাতের শুরুতেই আলোইস জভিংগি বাংলাদেশের নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন সময়োচিত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন ডেল্টা বা বদ্বীপ রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকিতে থাকা উপকূলীয় দেশগুলোর সুরক্ষায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামকে একটি সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পরিবেশ রক্ষায় তাঁর নতুন সরকারের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশজুড়ে ২৫০ মিলিয়ন (২৫ কোটি) বৃক্ষরোপণের একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর পাশাপাশি জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং প্রাকৃতিক পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করার বিষয়টিও তিনি ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সামনে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অগ্রগতি বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, গ্রিন এনার্জি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ কর-সুবিধা (ট্যাক্স রিবেট) দেওয়া হয়েছে। সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যে, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করা হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন সুদূরপ্রসারী অভিজ্ঞতা ও কর্মপরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন আলোইস জভিংগি। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের এই জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের নানামুখী উদ্যোগ বিশ্বমঞ্চে আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং বড় বড় বহুজাতিক বিনিয়োগকারীদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করবে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বৈশ্বিক জলবায়ু সহায়তার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশের এই টেকসই উন্নয়নযাত্রায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাতকারের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
2.png)
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই আমন্ত্রণ জানান।
সাক্ষাতের শুরুতেই আলোইস জভিংগি বাংলাদেশের নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন সময়োচিত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন ডেল্টা বা বদ্বীপ রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকিতে থাকা উপকূলীয় দেশগুলোর সুরক্ষায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামকে একটি সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পরিবেশ রক্ষায় তাঁর নতুন সরকারের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশজুড়ে ২৫০ মিলিয়ন (২৫ কোটি) বৃক্ষরোপণের একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর পাশাপাশি জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং প্রাকৃতিক পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করার বিষয়টিও তিনি ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সামনে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অগ্রগতি বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, গ্রিন এনার্জি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ কর-সুবিধা (ট্যাক্স রিবেট) দেওয়া হয়েছে। সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যে, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করা হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন সুদূরপ্রসারী অভিজ্ঞতা ও কর্মপরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন আলোইস জভিংগি। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের এই জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের নানামুখী উদ্যোগ বিশ্বমঞ্চে আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং বড় বড় বহুজাতিক বিনিয়োগকারীদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করবে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বৈশ্বিক জলবায়ু সহায়তার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশের এই টেকসই উন্নয়নযাত্রায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাতকারের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
2.png)