আন্তর্জাতিক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ বা যেকোনো অনুরোধের মুখে ইসরাইল মাথা নত করবে না এবং প্রয়োজনে তাঁর সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করার পূর্ণ সার্বভৌম ক্ষমতা তেল আবিবের রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইসরাইলের উগ্র-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইরানের সাথে করা সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে একে ইসরাইলের জন্য একটি ‘মারাত্মক ভুল’ এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
ইসরাইলি গণমাধ্যম নেটওয়ার্ক ‘আরুতজ শেভা’ (চ্যানেল ৭)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বেন-গভির ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে এই মন্তব্য করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে কোনো আপিল বা অনুরোধ আসলে ইসরাইল তা নাকচ করতে পারে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কড়া সুরে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের সবটুকু শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আছে, কিন্তু ইসরাইল কোনো ‘বানানা রিপাবলিক’ নয় যে ওয়াশিংটনের সব নির্দেশ চোখ বুজে মেনে নেবে। এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টকেও ‘না’ বলার সাহস দেখাতে হয়।"
লেবানন প্রসঙ্গে নিজের কট্টর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এই উগ্রপন্থী মন্ত্রী দাবি করেন, কোনো অবস্থাতেই উত্তর সীমান্তে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি হতে দেওয়া যাবে না। তাঁর মতে, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগেই এই ধরনের ‘দুর্বল চুক্তি’র অর্থ হলো তাদের আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। বেন-গভির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে মার্কিন চাপ উপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমাদের সুনির্দিষ্ট লাল রেখা রয়েছে, যা আমাদের সেনা ও নাগরিকদের নিরাপত্তার সাথে জড়িত। লেবাননকে হিজবুল্লাহর আস্তানা হতে দেওয়া যাবে না, প্রয়োজনে বৈরুতকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে হবে।"
এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং উগ্র-ডানপন্থী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন ওতজমা ইয়েহুদিত (ইউহুদি শক্তি) পার্টির এই শীর্ষ নেতা। ওয়াশিংটন ও আন্তর্জাতিক মহলের ক্রমাগত অসন্তোষ সত্ত্বেও বেন-গভির আশা প্রকাশ করেন যে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ যাই হোক না কেন, তাদের বর্তমান ডানপন্থী গভর্নিং কোয়ালিশন বা জোট সরকার শক্ত অবস্থানেই টিকে থাকবে। তবে এই উগ্র-জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে ক্ষমতা ধরে রাখতে তাদের আগামী দিনগুলোতে বেশ কঠোর ও প্রতিকূল রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিষয় : ডোনাল্ড ট্রাম্প বেন-গভির
2.png)
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ বা যেকোনো অনুরোধের মুখে ইসরাইল মাথা নত করবে না এবং প্রয়োজনে তাঁর সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করার পূর্ণ সার্বভৌম ক্ষমতা তেল আবিবের রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইসরাইলের উগ্র-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইরানের সাথে করা সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে একে ইসরাইলের জন্য একটি ‘মারাত্মক ভুল’ এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
ইসরাইলি গণমাধ্যম নেটওয়ার্ক ‘আরুতজ শেভা’ (চ্যানেল ৭)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বেন-গভির ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে এই মন্তব্য করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে কোনো আপিল বা অনুরোধ আসলে ইসরাইল তা নাকচ করতে পারে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কড়া সুরে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের সবটুকু শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আছে, কিন্তু ইসরাইল কোনো ‘বানানা রিপাবলিক’ নয় যে ওয়াশিংটনের সব নির্দেশ চোখ বুজে মেনে নেবে। এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টকেও ‘না’ বলার সাহস দেখাতে হয়।"
লেবানন প্রসঙ্গে নিজের কট্টর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এই উগ্রপন্থী মন্ত্রী দাবি করেন, কোনো অবস্থাতেই উত্তর সীমান্তে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি হতে দেওয়া যাবে না। তাঁর মতে, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগেই এই ধরনের ‘দুর্বল চুক্তি’র অর্থ হলো তাদের আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। বেন-গভির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে মার্কিন চাপ উপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমাদের সুনির্দিষ্ট লাল রেখা রয়েছে, যা আমাদের সেনা ও নাগরিকদের নিরাপত্তার সাথে জড়িত। লেবাননকে হিজবুল্লাহর আস্তানা হতে দেওয়া যাবে না, প্রয়োজনে বৈরুতকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে হবে।"
এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং উগ্র-ডানপন্থী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন ওতজমা ইয়েহুদিত (ইউহুদি শক্তি) পার্টির এই শীর্ষ নেতা। ওয়াশিংটন ও আন্তর্জাতিক মহলের ক্রমাগত অসন্তোষ সত্ত্বেও বেন-গভির আশা প্রকাশ করেন যে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ যাই হোক না কেন, তাদের বর্তমান ডানপন্থী গভর্নিং কোয়ালিশন বা জোট সরকার শক্ত অবস্থানেই টিকে থাকবে। তবে এই উগ্র-জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে ক্ষমতা ধরে রাখতে তাদের আগামী দিনগুলোতে বেশ কঠোর ও প্রতিকূল রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
2.png)