জাতীয়
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ সোমবার থেকে চার্জ গঠন শুনানি শুরু হয়েছে। সকাল ১১টার দিকে যখন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে হাজির করা হয়, তখন পুরো আদালত চত্বরে এক চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসামি সোহেল রানা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি চিৎকার করে দাবি করেন, এই খুনের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। সোহেলের ভাষ্যমতে, ‘আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার।’ এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার নেপথ্যে ডলার নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি তাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলেন। এছাড়া ফরেনসিক রিপোর্টের ডিএনএ টেস্টের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। যদিও মিরপুর ১১ নম্বরের এই রহস্যময় 'ডলারের' কোনো পরিচয় তিনি স্পষ্ট করেননি।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে এই নৃশংস অপরাধে সহায়তার সুস্পষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। মামলার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এতে ১৮ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত দ্রুতই চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আজিজুর রহমান দুলু জানান, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা তারা নিশ্চিত করবেন। তবে মামলার চূড়ান্ত রায় কার্যকর হওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে অনেকেরই। ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুইয়ের মতে, নিম্ন আদালতে বিচার দ্রুত শেষ হলেও ডেথ রেফারেন্সসহ উচ্চ আদালতের আইনি জটিলতা নিরসনে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, প্রধান বিচারপতির বিশেষ হস্তক্ষেপ থাকলে এই দীর্ঘসূত্রতা এড়ানো সম্ভব।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পপুলার মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রামিসাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যান স্বপ্না আক্তার। এরপরই ঘটে ইতিহাসের জঘন্যতম এক ঘটনা। ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে প্রতিবেশীরা রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির ভেতরে তার কাটা মাথা উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালা কেটে পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি; নারায়ণগঞ্জ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে এর আগেও আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল, তবুও আজ চার্জ গঠনের শুনানিতে সোহেলের এই নতুন নাটকীয় দাবি স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
2.png)
সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ সোমবার থেকে চার্জ গঠন শুনানি শুরু হয়েছে। সকাল ১১টার দিকে যখন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে হাজির করা হয়, তখন পুরো আদালত চত্বরে এক চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসামি সোহেল রানা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি চিৎকার করে দাবি করেন, এই খুনের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। সোহেলের ভাষ্যমতে, ‘আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার।’ এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার নেপথ্যে ডলার নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি তাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলেন। এছাড়া ফরেনসিক রিপোর্টের ডিএনএ টেস্টের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। যদিও মিরপুর ১১ নম্বরের এই রহস্যময় 'ডলারের' কোনো পরিচয় তিনি স্পষ্ট করেননি।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে এই নৃশংস অপরাধে সহায়তার সুস্পষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। মামলার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এতে ১৮ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত দ্রুতই চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আজিজুর রহমান দুলু জানান, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা তারা নিশ্চিত করবেন। তবে মামলার চূড়ান্ত রায় কার্যকর হওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে অনেকেরই। ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুইয়ের মতে, নিম্ন আদালতে বিচার দ্রুত শেষ হলেও ডেথ রেফারেন্সসহ উচ্চ আদালতের আইনি জটিলতা নিরসনে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, প্রধান বিচারপতির বিশেষ হস্তক্ষেপ থাকলে এই দীর্ঘসূত্রতা এড়ানো সম্ভব।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পপুলার মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রামিসাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যান স্বপ্না আক্তার। এরপরই ঘটে ইতিহাসের জঘন্যতম এক ঘটনা। ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে প্রতিবেশীরা রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির ভেতরে তার কাটা মাথা উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালা কেটে পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি; নারায়ণগঞ্জ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে এর আগেও আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল, তবুও আজ চার্জ গঠনের শুনানিতে সোহেলের এই নতুন নাটকীয় দাবি স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
2.png)