রাজধানী
ক্ষমতার ১০০ দিনের মাইলফলক স্পর্শ করল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এই অল্প সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের অর্জন ও কর্মকৌশল মূল্যায়ন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলটি ২৬টি প্রধান সাফল্যের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। আজ বুধবার দুপুরে দলের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সরকারের এই ‘হাইলাইটস’ বা উল্লেখযোগ্য কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত একশ দিনে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে যেমন গতিশীলতা এসেছে, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে।
সরকারের এই মূল্যায়ন অনুযায়ী, অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোতে স্থিতিশীলতা ফেরানোই ছিল তাদের বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা অনেকটাই সফল বলে দাবি করছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। এছাড়া অর্থপাচার রোধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। সবমিলিয়ে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর বার্তা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলোকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছে সরকার। বিশেষ করে ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করা এবং জুলাই আন্দোলনে আহত ১৫২ জন যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। শ্রমিকদের ঈদ স্বস্তিতে কাটানোর লক্ষ্যে শিল্পকারখানায় বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করাকেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে সরকার। এছাড়া শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতেও গতি এনেছে বর্তমান প্রশাসন; ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ এবং ভূমিসেবা অটোমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এর প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডারের মাধ্যমে সমুদ্রসীমা ও আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বাদ পড়া ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি আবার পাসপোর্টে ফিরিয়ে আনাকে একটি বড় কূটনৈতিক ও জাতীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নের তালিকায় স্থান পেয়েছে পদ্মা ব্যারাজের চূড়ান্ত অনুমোদন।
সরকার পরিচালনার ধরণ নিয়ে বিএনপির দাবি, রাষ্ট্রযন্ত্র এখন আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বন্দি নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যপ্রণালী ও জনসম্পৃক্ততার উদাহরণ হিসেবে তারা বলছে, এখন ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ছোটাছুটি করেন না, বরং প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণের দুয়ারে পৌঁছানোর সংস্কৃতি চালু করেছেন। একশ দিনের এই ‘সফলতার খতিয়ান’ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার যেমন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি প্রান্তিক মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্পগুলোতেও নজর রেখেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই একশ দিনের কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার মূলত দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের একটি রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে, যার প্রতিফলন আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
ক্ষমতার ১০০ দিনের মাইলফলক স্পর্শ করল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এই অল্প সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের অর্জন ও কর্মকৌশল মূল্যায়ন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলটি ২৬টি প্রধান সাফল্যের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। আজ বুধবার দুপুরে দলের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সরকারের এই ‘হাইলাইটস’ বা উল্লেখযোগ্য কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত একশ দিনে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে যেমন গতিশীলতা এসেছে, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে।
সরকারের এই মূল্যায়ন অনুযায়ী, অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোতে স্থিতিশীলতা ফেরানোই ছিল তাদের বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা অনেকটাই সফল বলে দাবি করছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। এছাড়া অর্থপাচার রোধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। সবমিলিয়ে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর বার্তা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলোকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছে সরকার। বিশেষ করে ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করা এবং জুলাই আন্দোলনে আহত ১৫২ জন যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। শ্রমিকদের ঈদ স্বস্তিতে কাটানোর লক্ষ্যে শিল্পকারখানায় বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করাকেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে সরকার। এছাড়া শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতেও গতি এনেছে বর্তমান প্রশাসন; ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ এবং ভূমিসেবা অটোমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এর প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডারের মাধ্যমে সমুদ্রসীমা ও আকাশসীমা নজরদারিতে নতুন সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বাদ পড়া ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি আবার পাসপোর্টে ফিরিয়ে আনাকে একটি বড় কূটনৈতিক ও জাতীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নের তালিকায় স্থান পেয়েছে পদ্মা ব্যারাজের চূড়ান্ত অনুমোদন।
সরকার পরিচালনার ধরণ নিয়ে বিএনপির দাবি, রাষ্ট্রযন্ত্র এখন আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বন্দি নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যপ্রণালী ও জনসম্পৃক্ততার উদাহরণ হিসেবে তারা বলছে, এখন ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ছোটাছুটি করেন না, বরং প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণের দুয়ারে পৌঁছানোর সংস্কৃতি চালু করেছেন। একশ দিনের এই ‘সফলতার খতিয়ান’ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার যেমন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি প্রান্তিক মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্পগুলোতেও নজর রেখেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই একশ দিনের কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার মূলত দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের একটি রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে, যার প্রতিফলন আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে।
2.png)