রাজধানী
সাধারণত ঈদুল আজহার ঠিক আগের দিনটি রাজধানীর মানুষের জন্য থাকে প্রবল কর্মচঞ্চল আর দৌড়ঝাঁপের। কেনাকাটা, পশুর হাটে শেষ মুহূর্তের দরদাম আর ঘরে ফেরার তাগিদে রাজপথ থাকার কথা সরগরম। কিন্তু আজ সেই চিরচেনা চিত্র পুরোপুরি বিপরীত। সকাল থেকেই অঝোর ধারায় ঝরছে আকাশ, আর সেই ভারী বর্ষণে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকার জনজীবন। টানা বৃষ্টির তোড়ে ম্লান হয়ে গেছে উৎসবের আমেজ।
শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক—কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর চেয়েও করুণ দশা এখন রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে। এমনিতেই কর্দমাক্ত মাটির ওপর গরু রাখার কষ্টকর পরিবেশ, তার ওপর অবিরাম বর্ষণে হাটের ভেতরে হাঁটু সমান কাঁদা আর পানি জমে একাকার। ক্রেতাদের উপস্থিতি হাতেগোনা, আর যারা এসেছেন তারাও বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ঠিকমতো গরু দেখে পছন্দ করতে পারছেন না। ফলে হাটের ইজারাদার থেকে শুরু করে গরু ব্যবসায়ীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দূর-দূরান্ত থেকে বিপুল বিনিয়োগ করে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ীরা এখন পড়ছেন মহাবিপাকে। হাটে ক্রেতা না থাকায় তাদের চোখেমুখে লোকসানের স্পষ্ট আতঙ্ক। অনেক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলছেন, বছরের এই একটি সময়ের অপেক্ষায় তারা বছরের দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন। গরুগুলো লালন-পালন করতে যে খরচ হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে তা উঠে আসাই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টির দাপটে গরুগুলোও অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। হাটে গরু নিয়ে বসে থাকা ব্যবসায়ীদের কণ্ঠে এখন শুধুই দীর্ঘশ্বাস, কারণ এই বৃষ্টি আর স্থবিরতা তাদের জন্য বয়ে আনছে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির বার্তা।
এদিকে, নগরীর জনজীবনও আজ যেন এক প্রকার বন্দি। বৃষ্টির ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। জরুরি প্রয়োজনে যারা বের হয়েছেন, তাদের পড়তে হয়েছে তীব্র যানজট আর জলজটের কবলে। রিকশা বা সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না সহজে, আবার পেলেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। ঈদের ঠিক আগের এই দিনে প্রকৃতির এমন আচরণে রাজধানীবাসীর পাশাপাশি বিপণিবিতান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। আজ রাতটি এখন ব্যবসায়ীদের জন্য এক দীর্ঘ অপেক্ষার রাত, যেখানে বৃষ্টির চেয়েও তাদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে গরু বিক্রির অনিশ্চয়তা।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
সাধারণত ঈদুল আজহার ঠিক আগের দিনটি রাজধানীর মানুষের জন্য থাকে প্রবল কর্মচঞ্চল আর দৌড়ঝাঁপের। কেনাকাটা, পশুর হাটে শেষ মুহূর্তের দরদাম আর ঘরে ফেরার তাগিদে রাজপথ থাকার কথা সরগরম। কিন্তু আজ সেই চিরচেনা চিত্র পুরোপুরি বিপরীত। সকাল থেকেই অঝোর ধারায় ঝরছে আকাশ, আর সেই ভারী বর্ষণে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকার জনজীবন। টানা বৃষ্টির তোড়ে ম্লান হয়ে গেছে উৎসবের আমেজ।
শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক—কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর চেয়েও করুণ দশা এখন রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে। এমনিতেই কর্দমাক্ত মাটির ওপর গরু রাখার কষ্টকর পরিবেশ, তার ওপর অবিরাম বর্ষণে হাটের ভেতরে হাঁটু সমান কাঁদা আর পানি জমে একাকার। ক্রেতাদের উপস্থিতি হাতেগোনা, আর যারা এসেছেন তারাও বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ঠিকমতো গরু দেখে পছন্দ করতে পারছেন না। ফলে হাটের ইজারাদার থেকে শুরু করে গরু ব্যবসায়ীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দূর-দূরান্ত থেকে বিপুল বিনিয়োগ করে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ীরা এখন পড়ছেন মহাবিপাকে। হাটে ক্রেতা না থাকায় তাদের চোখেমুখে লোকসানের স্পষ্ট আতঙ্ক। অনেক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলছেন, বছরের এই একটি সময়ের অপেক্ষায় তারা বছরের দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন। গরুগুলো লালন-পালন করতে যে খরচ হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে তা উঠে আসাই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টির দাপটে গরুগুলোও অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। হাটে গরু নিয়ে বসে থাকা ব্যবসায়ীদের কণ্ঠে এখন শুধুই দীর্ঘশ্বাস, কারণ এই বৃষ্টি আর স্থবিরতা তাদের জন্য বয়ে আনছে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির বার্তা।
এদিকে, নগরীর জনজীবনও আজ যেন এক প্রকার বন্দি। বৃষ্টির ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। জরুরি প্রয়োজনে যারা বের হয়েছেন, তাদের পড়তে হয়েছে তীব্র যানজট আর জলজটের কবলে। রিকশা বা সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না সহজে, আবার পেলেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। ঈদের ঠিক আগের এই দিনে প্রকৃতির এমন আচরণে রাজধানীবাসীর পাশাপাশি বিপণিবিতান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। আজ রাতটি এখন ব্যবসায়ীদের জন্য এক দীর্ঘ অপেক্ষার রাত, যেখানে বৃষ্টির চেয়েও তাদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে গরু বিক্রির অনিশ্চয়তা।
2.png)