সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজধানীরাজধানী

এআই ক্যামেরার কারিশমায় ট্রাফিক আইন মানছে রাজধানীর যানবাহনগুলো

ট্রাফিক পুলিশের সেই চিরচেনা দৌড়ঝাঁপ এখন অতীত, রাজধানীর ৩০টি মোড়ে বসানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হচ্ছে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন, যা কমিয়েছে চালকদের অনিয়ম করার প্রবণতা।

এআই ক্যামেরার কারিশমায় ট্রাফিক আইন মানছে রাজধানীর যানবাহনগুলো
ছবি -সংগৃহীত

রাজধানীর  কারওয়ান বাজার মোড়। ব্যস্ত এই চার রাস্তার মোড়ে বুধবার রাতে দেখা গেল এক অভাবনীয় দৃশ্য—ট্রাফিক সিগন্যালের লালবাতি জ্বলে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই থমকে যাচ্ছে সব গাড়ি। নেই কোনো হুড়োহুড়ি, নেই পুলিশ সদস্যের বাঁশি হাতে নিরন্তর ছোটাছুটি। অনেকটা যান্ত্রিক শৃঙ্খলায় আটকে পড়ছে যানবাহনগুলো, যা কয়েকদিন আগেও ছিল এক প্রকার কল্পনাতীত। ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন সংযোজন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিচালিত ক্যামেরা এখন কঠোর প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

গত ৭ মে থেকে রাজধানীর ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে শুরু হওয়া এই পরীক্ষামূলক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে পুরো চিত্রই পাল্টে গেছে। অত্যাধুনিক ‘পিটিজেড’ (প্যান-টিল্ট-জুম) প্রযুক্তির এই ক্যামেরাগুলো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ৩৬০ ডিগ্রি কোণেই পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। গাড়ি আইন মানছে কি না, স্টপ লাইনের ভেতরে গাড়ি থামছে কি না—এমন প্রতিটি খুঁটিনাটি তথ্য মুহূর্তেই ধরা পড়ছে এই ডিজিটাল চোখে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে কোনো গাড়ি আইন লঙ্ঘন করলে ক্যামেরাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি শনাক্ত করছে এবং নম্বর প্লেট ধরে সরাসরি গাড়ির মালিকের ঠিকানায় পৌঁছে যাচ্ছে ডিজিটাল মামলার বার্তা।

সরেজমিনে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা জানান, আগে ট্রাফিক সিগন্যাল মানাতে তাদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হতো, এখন দৃশ্যপট ভিন্ন। তবে যান্ত্রিক এই শৃঙ্খলার মধ্যেও ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো কিছুটা অস্বস্তি সৃষ্টি করছে বলে জানান তারা। অন্যদিকে, চালকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে এই আধুনিক ব্যবস্থাকে স্বাগত জানালেও, মাঝেমধ্যে ট্রাফিক পুলিশের সিগন্যাল দেওয়ার পদ্ধতির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার বৈপরীত্য নিয়ে দ্বিধায় পড়ছেন তারা।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে এই ট্রাফিক মামলার বিষয়টি গত ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। প্রতিটি ক্যামেরার পেছনে প্রায় ৬০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা চালকদের মধ্যে তৈরি করেছে স্বচ্ছ দায়বদ্ধতা। পুলিশের এই ডিজিটাল উদ্যোগ রাজধানী ঢাকার যান চলাচল ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে বলেই মনে করছেন নগরবিদ ও সচেতন নাগরিকরা।

বিষয় : এ আই ক্যামেরা ট্রাফিক মামলা ডিজিটাল মামলা

এআই ক্যামেরার কারিশমায় ট্রাফিক আইন মানছে রাজধানীর যানবাহনগুলো
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


এআই ক্যামেরার কারিশমায় ট্রাফিক আইন মানছে রাজধানীর যানবাহনগুলো

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর  কারওয়ান বাজার মোড়। ব্যস্ত এই চার রাস্তার মোড়ে বুধবার রাতে দেখা গেল এক অভাবনীয় দৃশ্য—ট্রাফিক সিগন্যালের লালবাতি জ্বলে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই থমকে যাচ্ছে সব গাড়ি। নেই কোনো হুড়োহুড়ি, নেই পুলিশ সদস্যের বাঁশি হাতে নিরন্তর ছোটাছুটি। অনেকটা যান্ত্রিক শৃঙ্খলায় আটকে পড়ছে যানবাহনগুলো, যা কয়েকদিন আগেও ছিল এক প্রকার কল্পনাতীত। ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন সংযোজন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিচালিত ক্যামেরা এখন কঠোর প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

গত ৭ মে থেকে রাজধানীর ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে শুরু হওয়া এই পরীক্ষামূলক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে পুরো চিত্রই পাল্টে গেছে। অত্যাধুনিক ‘পিটিজেড’ (প্যান-টিল্ট-জুম) প্রযুক্তির এই ক্যামেরাগুলো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ৩৬০ ডিগ্রি কোণেই পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। গাড়ি আইন মানছে কি না, স্টপ লাইনের ভেতরে গাড়ি থামছে কি না—এমন প্রতিটি খুঁটিনাটি তথ্য মুহূর্তেই ধরা পড়ছে এই ডিজিটাল চোখে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে কোনো গাড়ি আইন লঙ্ঘন করলে ক্যামেরাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি শনাক্ত করছে এবং নম্বর প্লেট ধরে সরাসরি গাড়ির মালিকের ঠিকানায় পৌঁছে যাচ্ছে ডিজিটাল মামলার বার্তা।

সরেজমিনে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা জানান, আগে ট্রাফিক সিগন্যাল মানাতে তাদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হতো, এখন দৃশ্যপট ভিন্ন। তবে যান্ত্রিক এই শৃঙ্খলার মধ্যেও ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো কিছুটা অস্বস্তি সৃষ্টি করছে বলে জানান তারা। অন্যদিকে, চালকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে এই আধুনিক ব্যবস্থাকে স্বাগত জানালেও, মাঝেমধ্যে ট্রাফিক পুলিশের সিগন্যাল দেওয়ার পদ্ধতির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার বৈপরীত্য নিয়ে দ্বিধায় পড়ছেন তারা।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে এই ট্রাফিক মামলার বিষয়টি গত ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। প্রতিটি ক্যামেরার পেছনে প্রায় ৬০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা চালকদের মধ্যে তৈরি করেছে স্বচ্ছ দায়বদ্ধতা। পুলিশের এই ডিজিটাল উদ্যোগ রাজধানী ঢাকার যান চলাচল ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে বলেই মনে করছেন নগরবিদ ও সচেতন নাগরিকরা।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত