রাজধানী
দুদিন আগের এক পশলা বৃষ্টিতে মনে হয়েছিল ঢাকার আকাশ বুঝি একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। কিন্তু সেই স্বস্তি কাটতে না কাটতেই তপ্ত রোদ আর ভ্যাপসা গরমে ঢাকার বাতাস আবার তার চেনা রূপ ধারণ করেছে। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই নগরবাসী দেখল, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় দশম স্থানে উঠে এসেছে আমাদের এই রাজধানী।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য বলছে, আজ সকাল সাড়ে সাতটায় ঢাকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই ছিল ১১৯। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই বাতাসকে বলা হয় 'সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর'। সোজা কথায়, যাদের শ্বাসকষ্ট আছে কিংবা যারা ফুসফুসের নানা জটিলতায় ভুগছেন, এই বাতাসে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়া তাদের জন্য এখন বড় এক ভয়ের কারণ। গতকাল বৃহস্পতিবারও ঠিক এই সময়ে ঢাকার সূচক ছিল ১০৭, আর তার আগের দিন বুধবার দূষণের মাত্রা ছিল আরও একটু চড়া।
ভাবনার বিষয় হল মেগাসিটি না হয়েও ঢাকা যেভাবে বছরের পর বছর এই দূষণের তালিকায় নিজের জায়গা পাকা করে রাখছে, তা সত্যিই আশঙ্কাজনক। আজকের বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো, যার সূচক ১৫৮। এর ঠিক পরেই ১৫৪ সূচক নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরবের রিয়াদ। এই দুটি শহরের বাতাস অবশ্য সাধারণ মানুষের জন্যই পুরোপুরি অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে চলে গেছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আজকের বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শীর্ষ শহরগুলোর একিউআই সূচক :
প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিল্লি ও কলকাতা প্রায়ই দূষণের চূড়ায় থাকে, আজকেও তারা যথাক্রমে অষ্টম ও নবম স্থানে আছে। তবে মূল প্রশ্ন হলো, মুম্বাইয়ের মতো মেগাসিটি যদি আজ মাত্র ৫৮ সূচক নিয়ে বেশ ভালো অবস্থানে থাকতে পারে, তবে ঢাকা কেন বারবার এই বিষাক্ত বাতাসের বৃত্তে আটকে যাচ্ছে? পরিবেশবিদরা মনে করেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ধুলোবালি আর ফিটনেসবিহীন গাড়ির ধোঁয়া বন্ধ করতে না পারলে সাময়িক বৃষ্টি আমাদের বড় কোনো মুক্তি দিতে পারবে না। এর মানে দাঁড়ায়, আবহাওয়া বদলের সাথে সাথে সূচক হয়তো সাময়িক একটু নামবে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের বিষাক্ত বাতাস গিলে খেয়েই এই শহরে বাঁচতে হবে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, সূচক যখনই একশো পার হয়, তখন থেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে থাকে। এই সময়ে বিশেষ করে শিশু আর প্রবীণদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কাজের প্রয়োজনে যাদের প্রতিদিন রাস্তায় নামতেই হয়, তাদের জন্য তো আর ঘরে বসে থাকার উপায় নেই। প্রশ্ন হলো, ঢাকার বাসিন্দারা কি এভাবেই প্রতিদিন নিজের ফুসফুসকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে, নাকি ঢাকাকে সত্যিকার অর্থে নিঃশ্বাস নেওয়ার উপযোগী শহর হিসেবে গড়ে তোলার কোনো কার্যকর উদ্যোগ কোনোদিন দেখতে পাবে নগরবাসী?
বিষয় : বায়ুদূষণ
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
দুদিন আগের এক পশলা বৃষ্টিতে মনে হয়েছিল ঢাকার আকাশ বুঝি একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। কিন্তু সেই স্বস্তি কাটতে না কাটতেই তপ্ত রোদ আর ভ্যাপসা গরমে ঢাকার বাতাস আবার তার চেনা রূপ ধারণ করেছে। শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই নগরবাসী দেখল, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় দশম স্থানে উঠে এসেছে আমাদের এই রাজধানী।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য বলছে, আজ সকাল সাড়ে সাতটায় ঢাকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই ছিল ১১৯। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই বাতাসকে বলা হয় 'সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর'। সোজা কথায়, যাদের শ্বাসকষ্ট আছে কিংবা যারা ফুসফুসের নানা জটিলতায় ভুগছেন, এই বাতাসে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়া তাদের জন্য এখন বড় এক ভয়ের কারণ। গতকাল বৃহস্পতিবারও ঠিক এই সময়ে ঢাকার সূচক ছিল ১০৭, আর তার আগের দিন বুধবার দূষণের মাত্রা ছিল আরও একটু চড়া।
ভাবনার বিষয় হল মেগাসিটি না হয়েও ঢাকা যেভাবে বছরের পর বছর এই দূষণের তালিকায় নিজের জায়গা পাকা করে রাখছে, তা সত্যিই আশঙ্কাজনক। আজকের বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো, যার সূচক ১৫৮। এর ঠিক পরেই ১৫৪ সূচক নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরবের রিয়াদ। এই দুটি শহরের বাতাস অবশ্য সাধারণ মানুষের জন্যই পুরোপুরি অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে চলে গেছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আজকের বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শীর্ষ শহরগুলোর একিউআই সূচক :
প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিল্লি ও কলকাতা প্রায়ই দূষণের চূড়ায় থাকে, আজকেও তারা যথাক্রমে অষ্টম ও নবম স্থানে আছে। তবে মূল প্রশ্ন হলো, মুম্বাইয়ের মতো মেগাসিটি যদি আজ মাত্র ৫৮ সূচক নিয়ে বেশ ভালো অবস্থানে থাকতে পারে, তবে ঢাকা কেন বারবার এই বিষাক্ত বাতাসের বৃত্তে আটকে যাচ্ছে? পরিবেশবিদরা মনে করেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ধুলোবালি আর ফিটনেসবিহীন গাড়ির ধোঁয়া বন্ধ করতে না পারলে সাময়িক বৃষ্টি আমাদের বড় কোনো মুক্তি দিতে পারবে না। এর মানে দাঁড়ায়, আবহাওয়া বদলের সাথে সাথে সূচক হয়তো সাময়িক একটু নামবে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের বিষাক্ত বাতাস গিলে খেয়েই এই শহরে বাঁচতে হবে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, সূচক যখনই একশো পার হয়, তখন থেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে থাকে। এই সময়ে বিশেষ করে শিশু আর প্রবীণদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কাজের প্রয়োজনে যাদের প্রতিদিন রাস্তায় নামতেই হয়, তাদের জন্য তো আর ঘরে বসে থাকার উপায় নেই। প্রশ্ন হলো, ঢাকার বাসিন্দারা কি এভাবেই প্রতিদিন নিজের ফুসফুসকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে, নাকি ঢাকাকে সত্যিকার অর্থে নিঃশ্বাস নেওয়ার উপযোগী শহর হিসেবে গড়ে তোলার কোনো কার্যকর উদ্যোগ কোনোদিন দেখতে পাবে নগরবাসী?
2.png)