রাজধানী
দীর্ঘদিন ধরে 'রাষ্ট্রের ভেতর আরেকটি রাষ্ট্র' হিসেবে পরিচিত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একক নিয়ন্ত্রণের দিন শেষ হতে চলেছে। ৭ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এলাকাটিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ-সংক্রান্ত নথিতে অনুমোদন দিয়েছেন। এর মাধ্যমে এলাকাটির রাস্তাঘাট, পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক সুবিধা এবং কর আদায়ের দায়িত্ব এখন থেকে ডিএনসিসির হাতে ন্যস্ত হতে যাচ্ছে।
নাগরিক দুর্ভোগ ও 'বসুন্ধরা কর'
সাড়ে তিন হাজার একর আয়তনের এই এলাকায় বসবাসকারী দুই লক্ষাধিক মানুষের অভিযোগ, বসুন্ধরা গ্রুপ বছরের পর বছর ধরে নিজেদের আইন ও নিয়ম চাপিয়ে দিয়ে এলাকাটি পরিচালনা করছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি কেনাবেচাতেও গ্রুপের কোম্পানিকে কাঠাপ্রতি ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তি মাশুল গুনতে হয়, যা জমির মূল দামের বাইরে এক প্রকার 'অঘোষিত কর'। এছাড়া, ‘বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-এর নামে ফ্ল্যাটমালিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সার্ভিস চার্জ এবং নির্মাণকাজে তাদের নির্ধারিত সামগ্রী ব্যবহারে বাধ্য করার মতো অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ডিএনসিসির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে এখন থেকে মালিকেরা সরকারি নির্ধারিত গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) পরিশোধ করবেন এবং এর বিনিময়ে সিটি করপোরেশন এলাকাটিতে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করবে। এছাড়া সেখানে পুলিশের পৃথক থানা স্থাপন এবং খেলার মাঠসহ অন্যান্য নাগরিক স্থাপনা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
সময়ক্ষেপণের কৌশল ও রাজউকের অবস্থান
বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তে সময় চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিলেও সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা এটিকে সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবেই দেখছেন। রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বসুন্ধরার সাথে রাজউকের কোনো সমঝোতা চুক্তি বা দীর্ঘ মেয়াদে এলাকাটি দখলের রাখার কোনো আইনি সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী, প্রকল্পের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার কথা, যা বসুন্ধরা অদ্যাবধি করেনি।
আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তা
১৯৮৭ সালে যাত্রা শুরু করা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ও পেশিশক্তির দাপট নিয়ে বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়ছে। সম্প্রতি আবাসিক এলাকাটিতে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং নিরাপত্তার নামে সাধারণ বাসিন্দাদের ওপর হয়রানির অভিযোগ স্থানীয়দের জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। নগর-পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি পরিকল্পিত নগরের ভেতরে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে নিজস্ব ‘রাজত্ব’ চালাতে পারে না।
ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে খুব দ্রুতই বিভাগীয় প্রধানদের সাথে বৈঠক করে এলাকাটিতে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এর ফলে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের সেই ‘রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্র’ ব্যবস্থার কবল থেকে মুক্তি পেয়ে সিটি করপোরেশনের সেবার অধীনে আসতে যাচ্ছেন।
সূত্র: প্র আ
বিষয় : বসুন্ধরা আবাসিক সিটি করপোরেশন
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে 'রাষ্ট্রের ভেতর আরেকটি রাষ্ট্র' হিসেবে পরিচিত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একক নিয়ন্ত্রণের দিন শেষ হতে চলেছে। ৭ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এলাকাটিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ-সংক্রান্ত নথিতে অনুমোদন দিয়েছেন। এর মাধ্যমে এলাকাটির রাস্তাঘাট, পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক সুবিধা এবং কর আদায়ের দায়িত্ব এখন থেকে ডিএনসিসির হাতে ন্যস্ত হতে যাচ্ছে।
নাগরিক দুর্ভোগ ও 'বসুন্ধরা কর'
সাড়ে তিন হাজার একর আয়তনের এই এলাকায় বসবাসকারী দুই লক্ষাধিক মানুষের অভিযোগ, বসুন্ধরা গ্রুপ বছরের পর বছর ধরে নিজেদের আইন ও নিয়ম চাপিয়ে দিয়ে এলাকাটি পরিচালনা করছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি কেনাবেচাতেও গ্রুপের কোম্পানিকে কাঠাপ্রতি ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তি মাশুল গুনতে হয়, যা জমির মূল দামের বাইরে এক প্রকার 'অঘোষিত কর'। এছাড়া, ‘বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-এর নামে ফ্ল্যাটমালিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সার্ভিস চার্জ এবং নির্মাণকাজে তাদের নির্ধারিত সামগ্রী ব্যবহারে বাধ্য করার মতো অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ডিএনসিসির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে এখন থেকে মালিকেরা সরকারি নির্ধারিত গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) পরিশোধ করবেন এবং এর বিনিময়ে সিটি করপোরেশন এলাকাটিতে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করবে। এছাড়া সেখানে পুলিশের পৃথক থানা স্থাপন এবং খেলার মাঠসহ অন্যান্য নাগরিক স্থাপনা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
সময়ক্ষেপণের কৌশল ও রাজউকের অবস্থান
বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তে সময় চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিলেও সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা এটিকে সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবেই দেখছেন। রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বসুন্ধরার সাথে রাজউকের কোনো সমঝোতা চুক্তি বা দীর্ঘ মেয়াদে এলাকাটি দখলের রাখার কোনো আইনি সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী, প্রকল্পের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার কথা, যা বসুন্ধরা অদ্যাবধি করেনি।
আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তা
১৯৮৭ সালে যাত্রা শুরু করা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ও পেশিশক্তির দাপট নিয়ে বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়ছে। সম্প্রতি আবাসিক এলাকাটিতে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং নিরাপত্তার নামে সাধারণ বাসিন্দাদের ওপর হয়রানির অভিযোগ স্থানীয়দের জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। নগর-পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি পরিকল্পিত নগরের ভেতরে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে নিজস্ব ‘রাজত্ব’ চালাতে পারে না।
ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে খুব দ্রুতই বিভাগীয় প্রধানদের সাথে বৈঠক করে এলাকাটিতে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এর ফলে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের সেই ‘রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্র’ ব্যবস্থার কবল থেকে মুক্তি পেয়ে সিটি করপোরেশনের সেবার অধীনে আসতে যাচ্ছেন।
সূত্র: প্র আ
2.png)