আন্তর্জাতিক
ইতিহাসের পাতায় প্রতিটি ক্ষমতার উত্থান যেমন ধ্রুব সত্য, তেমনি তার পতনও অনিবার্য। এক সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে অন্য শক্তির উত্থান—মানব সভ্যতার এই চিরায়ত ধারা বর্তমান সময়ে এসে এক জটিল মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিংয়ের যৌথ ঘোষণা বিশ্বরাজনীতির সেই অস্থিরতা ও উদ্বেগেরই প্রতিচ্ছবি। তারা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, বিশ্বব্যবস্থা ক্রমশ ‘জঙ্গলের আইন’ বা আইনহীন অরাজকতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যেখানে বলপ্রয়োগই হয়ে উঠছে সর্বশেষ মানদণ্ড।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বৈশ্বিক কাঠামো—জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তি—মূলত তৈরি হয়েছিল অরাজকতা প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু গত এক দশকে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের বহুমুখী সংঘাত, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এই কাঠামোকে কেবলই দুর্বল করেছে। পুতিন ও শির ভাষায়, ঔপনিবেশিক মানসিকতা নিয়ে কিছু রাষ্ট্রের এককভাবে বিশ্ব পরিচালনার চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। এই অতিকথনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার আসল সংকট—একক কেন্দ্রিকতা ভেঙে বহুমুখী (multipolar) শক্তির উত্থান।
কি এই ‘জঙ্গলের আইন’?
আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘জঙ্গলের আইন’ বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রসমূহ তাদের জাতীয় স্বার্থকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ঊর্ধ্বে রাখে সবসময়। যখন বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজের কার্যকারিতা হারায়, তখনই রাষ্ট্রগুলো জোটবদ্ধ বিভাজনের পথ বেছে নেয়। বর্তমানে বিশ্ব যে সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কি সত্যিই আইনের শাসনের সমাপ্তি ঘটাচ্ছে?
বিশ্লেষকদের মতে, পৃথিবী এখন এক ভয়াবহ সন্ধিক্ষণে।বৈশ্বিক ক্ষমতাধরেরা কেবল সামরিক প্রতিযোগিতার সেই পুরনো ধারায় ফিরে যাচ্ছে। দখল সাম্রাজ্যবাদ আর যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নানা রকম চুক্তি,সমঝোতা, সংঘ, পরিষদ আর জোট হল। এই শতাব্দীতে এসে যেন সবগুলো সভ্য প্রক্রিয়াই তাদের গৌরব হারিয়ে তাচ্ছিলের খোরাক যোগাচ্ছে। ঠিক নতুন কোন শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি পুণ:প্রতিষ্ঠিত হবে তা এখন ভাবনার বিষয়।
সভ্যতার ভবিষ্যৎ: শক্তি নাকি নীতি?
ইতিহাসে দেখা যায় শক্তির দাপট বা অর্থনৈতিক আধিপত্য কোনো সভ্যতার স্থায়িত্বের একমাত্র নিশ্চয়তা দিতে পারে নি। একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই বিশ্বব্যবস্থা গড়ে ওঠে মূলত ন্যায়বিচার, সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে। রাশিয়া–চীনের এই যৌথ হুংকার কিংবা পশ্চিমাদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া—উভয়ই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা হবে অত্যন্ত জটিল।
পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা কি কেবল শক্তির লড়াইয়ের আখড়া হবে, নাকি মানুষ কোনো বৃহত্তর নৈতিক ও মানবিক নীতিকে কেন্দ্র করে তার ভবিষ্যৎ নতুন করে নির্মাণ করবে? এই উত্তরটিই নির্ধারণ করবে একুশ শতকের পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ। আমরা কি ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি সহযোগিতার নতুন কোনো মেরুকরণ সম্ভব? এই উত্তর খুঁজছে আজকের পুরো পৃথিবী।
বিষয় : বিশ্ব শান্তি পুতিন শি বৈঠক
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
ইতিহাসের পাতায় প্রতিটি ক্ষমতার উত্থান যেমন ধ্রুব সত্য, তেমনি তার পতনও অনিবার্য। এক সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে অন্য শক্তির উত্থান—মানব সভ্যতার এই চিরায়ত ধারা বর্তমান সময়ে এসে এক জটিল মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিংয়ের যৌথ ঘোষণা বিশ্বরাজনীতির সেই অস্থিরতা ও উদ্বেগেরই প্রতিচ্ছবি। তারা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, বিশ্বব্যবস্থা ক্রমশ ‘জঙ্গলের আইন’ বা আইনহীন অরাজকতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যেখানে বলপ্রয়োগই হয়ে উঠছে সর্বশেষ মানদণ্ড।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বৈশ্বিক কাঠামো—জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তি—মূলত তৈরি হয়েছিল অরাজকতা প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু গত এক দশকে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের বহুমুখী সংঘাত, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এই কাঠামোকে কেবলই দুর্বল করেছে। পুতিন ও শির ভাষায়, ঔপনিবেশিক মানসিকতা নিয়ে কিছু রাষ্ট্রের এককভাবে বিশ্ব পরিচালনার চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। এই অতিকথনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার আসল সংকট—একক কেন্দ্রিকতা ভেঙে বহুমুখী (multipolar) শক্তির উত্থান।
কি এই ‘জঙ্গলের আইন’?
আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘জঙ্গলের আইন’ বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রসমূহ তাদের জাতীয় স্বার্থকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ঊর্ধ্বে রাখে সবসময়। যখন বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজের কার্যকারিতা হারায়, তখনই রাষ্ট্রগুলো জোটবদ্ধ বিভাজনের পথ বেছে নেয়। বর্তমানে বিশ্ব যে সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কি সত্যিই আইনের শাসনের সমাপ্তি ঘটাচ্ছে?
বিশ্লেষকদের মতে, পৃথিবী এখন এক ভয়াবহ সন্ধিক্ষণে।বৈশ্বিক ক্ষমতাধরেরা কেবল সামরিক প্রতিযোগিতার সেই পুরনো ধারায় ফিরে যাচ্ছে। দখল সাম্রাজ্যবাদ আর যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নানা রকম চুক্তি,সমঝোতা, সংঘ, পরিষদ আর জোট হল। এই শতাব্দীতে এসে যেন সবগুলো সভ্য প্রক্রিয়াই তাদের গৌরব হারিয়ে তাচ্ছিলের খোরাক যোগাচ্ছে। ঠিক নতুন কোন শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি পুণ:প্রতিষ্ঠিত হবে তা এখন ভাবনার বিষয়।
সভ্যতার ভবিষ্যৎ: শক্তি নাকি নীতি?
ইতিহাসে দেখা যায় শক্তির দাপট বা অর্থনৈতিক আধিপত্য কোনো সভ্যতার স্থায়িত্বের একমাত্র নিশ্চয়তা দিতে পারে নি। একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই বিশ্বব্যবস্থা গড়ে ওঠে মূলত ন্যায়বিচার, সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে। রাশিয়া–চীনের এই যৌথ হুংকার কিংবা পশ্চিমাদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া—উভয়ই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা হবে অত্যন্ত জটিল।
পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা কি কেবল শক্তির লড়াইয়ের আখড়া হবে, নাকি মানুষ কোনো বৃহত্তর নৈতিক ও মানবিক নীতিকে কেন্দ্র করে তার ভবিষ্যৎ নতুন করে নির্মাণ করবে? এই উত্তরটিই নির্ধারণ করবে একুশ শতকের পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ। আমরা কি ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি সহযোগিতার নতুন কোনো মেরুকরণ সম্ভব? এই উত্তর খুঁজছে আজকের পুরো পৃথিবী।
2.png)