সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বাংলাদেশবাংলাদেশ

কুরবানির খাটিয়া: এক দিনের প্রয়োজনে কত তেঁতুল গাছ নিধন?

এখনি সচেতনতা প্রয়োজন, অন্যথায় পরিবেশ থেজে খুব শীঘ্রই বিলুপ্ত হয়ে যাবে এই তেঁতুল গাছ।

কুরবানির খাটিয়া: এক দিনের প্রয়োজনে কত তেঁতুল গাছ নিধন?
ছবি -সংগৃহীত

কুরবানির ঈদের প্রস্তুতির বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে হাটে গরু খোঁজা আর খাটিয়া কেনা। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, মাত্র একদিনের ব্যবহারের জন্য এই যে খাটিয়াগুলো কেনা হয়, তার পেছনে বলি দিতে হচ্ছে আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের ধারক বিশাল তেঁতুল গাছগুলোকে?

একটি তেঁতুল গাছকে পূর্ণবয়স্ক মহীরুহে পরিণত হতে সময় লাগে অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর। অথচ বছরের এই নির্দিষ্ট দিনে হাজারো মানুষের চাহিদার জোগান দিতে গিয়ে নিমিষেই করাত চালানো হচ্ছে সেই সব বৃক্ষের গায়ে। গ্রামবাংলার চিরচেনা পুরোনো বড় তেঁতুল গাছগুলো আজ তাই চোখের সামনেই বিরল হয়ে পড়ছে। পরিবেশের এই নীরব বিপর্যয় আর বৃক্ষ নিধনের এই মহোৎসব আমাদের অনেকেরই অগোচরে রয়ে যায়।

দায়বদ্ধতা থেকে এই অভ্যাস বদলানো খুব কঠিন কিছু নয়। আমরা যদি এ বছর কেনা খাটিয়াটি ব্যবহার শেষে ফেলে না দিয়ে একটু যত্ন করে সংরক্ষণ করি, তবে অনায়াসেই সেটি আগামী ৫ থেকে ৭ বছর ব্যবহার করা সম্ভব। আর এই ছোট পদক্ষেপই কিন্তু বাঁচিয়ে দিতে পারে অসংখ্য গাছকে।

কুরবানির পশু কেনার আনন্দ আর প্রস্তুতির সঙ্গে যদি আমরা আরও একটি ছোট কাজ যোগ করতে পারি, তবে কেমন হয়? পশুর দামের সঙ্গে সামান্য কিছু টাকা যোগ করে অন্তত একটি তেঁতুল বা দেশি চারাগাছ রোপণের শপথ নিতে পারি আমরা। ত্যাগ শুধু পশুর রক্তে সীমাবদ্ধ না রেখে, প্রাণ ও প্রকৃতির বেঁচে থাকার রসদ জোগানোই তো প্রকৃত ইবাদত। আমাদের এই সচেতনতা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ রেখে যেতে সহায়তা করবে।

বিষয় : কুরবানির খাটিয়া তেতুল গাছ নিধন

কুরবানির খাটিয়া: এক দিনের প্রয়োজনে কত তেঁতুল গাছ নিধন?
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


কুরবানির খাটিয়া: এক দিনের প্রয়োজনে কত তেঁতুল গাছ নিধন?

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

featured Image

কুরবানির ঈদের প্রস্তুতির বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে হাটে গরু খোঁজা আর খাটিয়া কেনা। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, মাত্র একদিনের ব্যবহারের জন্য এই যে খাটিয়াগুলো কেনা হয়, তার পেছনে বলি দিতে হচ্ছে আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের ধারক বিশাল তেঁতুল গাছগুলোকে?

একটি তেঁতুল গাছকে পূর্ণবয়স্ক মহীরুহে পরিণত হতে সময় লাগে অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর। অথচ বছরের এই নির্দিষ্ট দিনে হাজারো মানুষের চাহিদার জোগান দিতে গিয়ে নিমিষেই করাত চালানো হচ্ছে সেই সব বৃক্ষের গায়ে। গ্রামবাংলার চিরচেনা পুরোনো বড় তেঁতুল গাছগুলো আজ তাই চোখের সামনেই বিরল হয়ে পড়ছে। পরিবেশের এই নীরব বিপর্যয় আর বৃক্ষ নিধনের এই মহোৎসব আমাদের অনেকেরই অগোচরে রয়ে যায়।

দায়বদ্ধতা থেকে এই অভ্যাস বদলানো খুব কঠিন কিছু নয়। আমরা যদি এ বছর কেনা খাটিয়াটি ব্যবহার শেষে ফেলে না দিয়ে একটু যত্ন করে সংরক্ষণ করি, তবে অনায়াসেই সেটি আগামী ৫ থেকে ৭ বছর ব্যবহার করা সম্ভব। আর এই ছোট পদক্ষেপই কিন্তু বাঁচিয়ে দিতে পারে অসংখ্য গাছকে।

কুরবানির পশু কেনার আনন্দ আর প্রস্তুতির সঙ্গে যদি আমরা আরও একটি ছোট কাজ যোগ করতে পারি, তবে কেমন হয়? পশুর দামের সঙ্গে সামান্য কিছু টাকা যোগ করে অন্তত একটি তেঁতুল বা দেশি চারাগাছ রোপণের শপথ নিতে পারি আমরা। ত্যাগ শুধু পশুর রক্তে সীমাবদ্ধ না রেখে, প্রাণ ও প্রকৃতির বেঁচে থাকার রসদ জোগানোই তো প্রকৃত ইবাদত। আমাদের এই সচেতনতা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ রেখে যেতে সহায়তা করবে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত