রাজনীতি
ঈদের দিনে আপনজনদের থেকে দূরে থেকে যারা দেশের নিরাপত্তায় কাজ করছেন, সেইসব সৈনিক ও তাদের কর্মকর্তাদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিতেই বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রীতিভোজে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক উষ্ণ আবহের।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেন ফিরে গেলেন ৪৫-৪৬ বছর আগের সেই দিনগুলোতে। সিএমএইচ, পুরোনো প্যাথোলজি সেন্টার কিংবা শহীদ মইনুল সড়কের সেই ছোট রাস্তা—পুরো সেনানিবাসের প্রতিটি কোণ যেন তার শৈশবের সুখ-দুঃখের সাক্ষী। প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, সে সময় বন্ধুদের নিয়ে সাইকেল চালিয়ে ঘুরে বেড়ানো আর এই জনপদের সাথে মিশে থাকার সেই দিনগুলো এখনো তাঁকে টানে। স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকাটা তার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার সাথে মিশে আছে সুখ-দুঃখের অনেক গল্প।
স্মৃতির আয়না থেকে বেরিয়ে এসেই প্রধানমন্ত্রী তার কণ্ঠে তুলে ধরলেন আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা। তারেক রহমান স্পষ্ট করলেন, সাধারণ মানুষ ও সৈনিকরা যে ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ কল্পনা করে, সরকার তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে কাজ করছে। দীর্ঘ সময় দেশে থাকতে না পারার প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, অতীতের কোনো ব্যর্থতা বা ভালো-মন্দের হিসাব নিয়ে পড়ে না থেকে বরং বর্তমানের দায়িত্ব পালনই এখন মুখ্য। যার যার অবস্থান থেকে প্রত্যেকে যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তবেই সেই স্বপ্নের দেশ গড়া সম্ভব।
সেনাসদস্যদের দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন সাম্প্রতিক সময়ের একটি বিশেষ ঘটনা। কিছুদিন আগে দুটি পত্রিকার অফিসে অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে ১৮ জন সাংবাদিককে উদ্ধার করেছিলেন সেনাসদস্যরা, সেই সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির প্রয়োজনে সৈনিকেরা যে ত্যাগ স্বীকার করে, তা সবসময় কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে দেশবাসী।
প্রার্থনার সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদের এই দিনে আল্লাহর কাছে চাওয়া যেন তিনি দেশের কল্যাণে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের তৌফিক দেন। মানুষের সন্তানরা যাতে সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে এবং সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম। সেনা কর্মকর্তা, সৈনিক ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে শেষ হয় তাঁর এই সফর।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬
ঈদের দিনে আপনজনদের থেকে দূরে থেকে যারা দেশের নিরাপত্তায় কাজ করছেন, সেইসব সৈনিক ও তাদের কর্মকর্তাদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিতেই বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রীতিভোজে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক উষ্ণ আবহের।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেন ফিরে গেলেন ৪৫-৪৬ বছর আগের সেই দিনগুলোতে। সিএমএইচ, পুরোনো প্যাথোলজি সেন্টার কিংবা শহীদ মইনুল সড়কের সেই ছোট রাস্তা—পুরো সেনানিবাসের প্রতিটি কোণ যেন তার শৈশবের সুখ-দুঃখের সাক্ষী। প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, সে সময় বন্ধুদের নিয়ে সাইকেল চালিয়ে ঘুরে বেড়ানো আর এই জনপদের সাথে মিশে থাকার সেই দিনগুলো এখনো তাঁকে টানে। স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকাটা তার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার সাথে মিশে আছে সুখ-দুঃখের অনেক গল্প।
স্মৃতির আয়না থেকে বেরিয়ে এসেই প্রধানমন্ত্রী তার কণ্ঠে তুলে ধরলেন আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা। তারেক রহমান স্পষ্ট করলেন, সাধারণ মানুষ ও সৈনিকরা যে ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ কল্পনা করে, সরকার তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে কাজ করছে। দীর্ঘ সময় দেশে থাকতে না পারার প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, অতীতের কোনো ব্যর্থতা বা ভালো-মন্দের হিসাব নিয়ে পড়ে না থেকে বরং বর্তমানের দায়িত্ব পালনই এখন মুখ্য। যার যার অবস্থান থেকে প্রত্যেকে যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তবেই সেই স্বপ্নের দেশ গড়া সম্ভব।
সেনাসদস্যদের দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন সাম্প্রতিক সময়ের একটি বিশেষ ঘটনা। কিছুদিন আগে দুটি পত্রিকার অফিসে অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে ১৮ জন সাংবাদিককে উদ্ধার করেছিলেন সেনাসদস্যরা, সেই সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির প্রয়োজনে সৈনিকেরা যে ত্যাগ স্বীকার করে, তা সবসময় কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে দেশবাসী।
প্রার্থনার সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদের এই দিনে আল্লাহর কাছে চাওয়া যেন তিনি দেশের কল্যাণে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের তৌফিক দেন। মানুষের সন্তানরা যাতে সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে এবং সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম। সেনা কর্মকর্তা, সৈনিক ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে শেষ হয় তাঁর এই সফর।
2.png)