সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের জামাইয়ের বিনিয়োগ ফাঁদে পড়ে আরব শেখদের বিলিয়ন ডলারের গচ্চা

ওয়াশিংটনের নীতিতে প্রভাব বিস্তারের আশায় জারেড কুশনারের তহবিলে হাজার কোটি ডলার ঢেলেছিল উপসাগরীয় রাজপরিবার। বিনিময়ে তারা পেল কেবল ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও মিত্রহীনতার বোধ।

ট্রাম্পের জামাইয়ের বিনিয়োগ ফাঁদে পড়ে আরব শেখদের বিলিয়ন ডলারের গচ্চা
ছবি -সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের ‘অ্যাফিনিটি পার্টনার্স’-এ বিপুল বিনিয়োগ করে এখন চরম অস্বস্তিতে পড়েছে উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো। রাজনৈতিক প্রভাব কেনার আশায় যে অর্থ তারা ব্যয় করেছিল, তা এখন তাদেরই নিরাপত্তার বিপরীতে এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা একে দেখছেন ক্ষমতার করিডোরে ‘বিনিয়োগের ফাঁদ’ হিসেবে।

২০২১ সালে জারেড কুশনার যখন অ্যাফিনিটি পার্টনার্স প্রতিষ্ঠা করেন, তখন থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে তার আর্থিক লেনদেন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল। তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় থাকা প্রায় ৬২০ কোটি ডলারের ৯৯ শতাংশই এসেছে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। ২০২৩ সালে যেখানে এই তহবিলের আকার ছিল ৩০০ কোটি ডলার, তা ২০২৪ সালে ৪৮০ কোটি এবং ২০২৫ সালে ৬২০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। এই জ্যামিতিক হারে তহবিল বৃদ্ধির সাথে ট্রাম্পের সম্ভাব্য ক্ষমতায় ফেরার একটি স্পষ্ট সম্পর্ক দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে একটি ‘বিশেষ সম্পর্ক’ বা নীতি-নির্ধারণী মহলে সহজে প্রবেশের পথ তৈরি করা। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মুখে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট সংকট উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে সরাসরি আঘাত করছে। অথচ, যে কুশনারকে তারা ‘মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিদূত’ মনে করেছিল, তার কাছ থেকে তারা কোনো কার্যকর সুরক্ষাই পায়নি। উল্টো ইসরায়েলের সাথে কুশনারের ঘনিষ্ঠতা এবং মার্কিন নীতিতে তার প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোকে এক ধরণের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুশনারকে অর্থ দেওয়াটা ছিল রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর একটি ক্ল্যাসিক চেষ্টা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শেখদের এই ‘বিনিয়োগ’ ওয়াশিংটনের কোনো নীতির পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। বরং তাদের স্বার্থ রক্ষার বদলে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতি এখন একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসছে। সৌদি আরব এখন ইরানসহ আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর সাথে সরাসরি শান্তি আলোচনার পথ খুঁজছে। রিয়াদের এই নীতি পরিবর্তনের পেছনে ওয়াশিংটনের ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাওয়া এবং কুশনারের মতো ব্যক্তি-কেন্দ্রিক কূটনীতির ব্যর্থতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, শেখরা ভেবেছিলেন তারা ওয়াশিংটনের ‘দরজা’ কিনছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ঢুকে পড়েছেন এক গভীর ভূ-রাজনৈতিক ফাঁদে। বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য কোনো কূটনৈতিক সুবিধা বয়ে না এনে বরং এনেছে এক গভীর মিত্রহীনতার বোধ। ট্রাম্পের পরিবারের সাথে এই গভীর আর্থিক গাঁটছড়া এখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্রগুলোর জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং চরম এক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝামেলার নাম।

বিষয় : JaredKushner জারেড কুশনার আরব শেখ বিলিয়ন ডলার ঘচ্চা

ট্রাম্পের জামাইয়ের বিনিয়োগ ফাঁদে পড়ে আরব শেখদের বিলিয়ন ডলারের গচ্চা
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


ট্রাম্পের জামাইয়ের বিনিয়োগ ফাঁদে পড়ে আরব শেখদের বিলিয়ন ডলারের গচ্চা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের ‘অ্যাফিনিটি পার্টনার্স’-এ বিপুল বিনিয়োগ করে এখন চরম অস্বস্তিতে পড়েছে উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো। রাজনৈতিক প্রভাব কেনার আশায় যে অর্থ তারা ব্যয় করেছিল, তা এখন তাদেরই নিরাপত্তার বিপরীতে এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা একে দেখছেন ক্ষমতার করিডোরে ‘বিনিয়োগের ফাঁদ’ হিসেবে।

২০২১ সালে জারেড কুশনার যখন অ্যাফিনিটি পার্টনার্স প্রতিষ্ঠা করেন, তখন থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে তার আর্থিক লেনদেন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল। তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় থাকা প্রায় ৬২০ কোটি ডলারের ৯৯ শতাংশই এসেছে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। ২০২৩ সালে যেখানে এই তহবিলের আকার ছিল ৩০০ কোটি ডলার, তা ২০২৪ সালে ৪৮০ কোটি এবং ২০২৫ সালে ৬২০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। এই জ্যামিতিক হারে তহবিল বৃদ্ধির সাথে ট্রাম্পের সম্ভাব্য ক্ষমতায় ফেরার একটি স্পষ্ট সম্পর্ক দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে একটি ‘বিশেষ সম্পর্ক’ বা নীতি-নির্ধারণী মহলে সহজে প্রবেশের পথ তৈরি করা। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মুখে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট সংকট উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে সরাসরি আঘাত করছে। অথচ, যে কুশনারকে তারা ‘মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিদূত’ মনে করেছিল, তার কাছ থেকে তারা কোনো কার্যকর সুরক্ষাই পায়নি। উল্টো ইসরায়েলের সাথে কুশনারের ঘনিষ্ঠতা এবং মার্কিন নীতিতে তার প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোকে এক ধরণের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুশনারকে অর্থ দেওয়াটা ছিল রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর একটি ক্ল্যাসিক চেষ্টা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শেখদের এই ‘বিনিয়োগ’ ওয়াশিংটনের কোনো নীতির পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। বরং তাদের স্বার্থ রক্ষার বদলে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতি এখন একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসছে। সৌদি আরব এখন ইরানসহ আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর সাথে সরাসরি শান্তি আলোচনার পথ খুঁজছে। রিয়াদের এই নীতি পরিবর্তনের পেছনে ওয়াশিংটনের ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাওয়া এবং কুশনারের মতো ব্যক্তি-কেন্দ্রিক কূটনীতির ব্যর্থতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, শেখরা ভেবেছিলেন তারা ওয়াশিংটনের ‘দরজা’ কিনছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ঢুকে পড়েছেন এক গভীর ভূ-রাজনৈতিক ফাঁদে। বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য কোনো কূটনৈতিক সুবিধা বয়ে না এনে বরং এনেছে এক গভীর মিত্রহীনতার বোধ। ট্রাম্পের পরিবারের সাথে এই গভীর আর্থিক গাঁটছড়া এখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্রগুলোর জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং চরম এক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝামেলার নাম।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত