বাংলাদেশ
এক বিঘা জমিতে ফসল চাষে যেখানে সাধারণ ইউরিয়া সারে খরচ হয় ৪২০০ টাকা, সেখানে মাত্র ২৩০ টাকায় পাওয়া যাবে সমতুল্য ফলাফল। কৃষিতে ব্যয় সাশ্রয়ের এমন অভাবনীয় সুযোগ নিয়ে এসেছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ন্যানো ইউরিয়া’। যশোরের বিজ্ঞানীর হাত ধরে দেশের মাটিতেই উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনবে, তেমনি কৃষিখাতে নিয়ে আসবে আমূল পরিবর্তন।
ন্যানো প্রযুক্তির কল্যাণে তৈরি এই সার গাছের পাতার ক্ষুদ্র ছিদ্র বা স্টোমাটা দিয়ে সরাসরি ও দ্রুত শোষিত হতে পারে। সাধারণ ইউরিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাওয়া কিংবা বাষ্পীভূত হওয়ার কারণে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ সার অপচয় হয়। কিন্তু ন্যানো ইউরিয়া গাছের নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করে অত্যন্ত কার্যকরভাবে। সার প্রয়োগের পরিমাণ কম হলেও গাছের পুষ্টি জোগাতে এটি অনেক বেশি শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।
এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনের নেপথ্যে রয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান। দীর্ঘ সাত বছরের নিরলস গবেষণার ফসল এই ন্যানো ইউরিয়া। যদিও তিনি এই প্রযুক্তির একক উদ্ভাবক নন, তবে দেশীয় উপাদান ও পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি ল্যাবরেটরিতে এর সফল উৎপাদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছেন। তাঁর এই মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি এখন মিলছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জৈব সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড. জাভেদের এই গবেষণার ব্যাপক প্রশংসা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় 'কোলা বায়ো' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন। এই চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছর তাঁরা যৌথভাবে ন্যানো ইউরিয়ার গবেষণা ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবেন। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রসারে সফল হতে পারলে তা জাতীয় অর্থনীতি ও কৃষকদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
বিষয় : ন্যানো ইউরিয়া ড.জাভেদ হোসেন খান
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
এক বিঘা জমিতে ফসল চাষে যেখানে সাধারণ ইউরিয়া সারে খরচ হয় ৪২০০ টাকা, সেখানে মাত্র ২৩০ টাকায় পাওয়া যাবে সমতুল্য ফলাফল। কৃষিতে ব্যয় সাশ্রয়ের এমন অভাবনীয় সুযোগ নিয়ে এসেছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ন্যানো ইউরিয়া’। যশোরের বিজ্ঞানীর হাত ধরে দেশের মাটিতেই উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনবে, তেমনি কৃষিখাতে নিয়ে আসবে আমূল পরিবর্তন।
ন্যানো প্রযুক্তির কল্যাণে তৈরি এই সার গাছের পাতার ক্ষুদ্র ছিদ্র বা স্টোমাটা দিয়ে সরাসরি ও দ্রুত শোষিত হতে পারে। সাধারণ ইউরিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাওয়া কিংবা বাষ্পীভূত হওয়ার কারণে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ সার অপচয় হয়। কিন্তু ন্যানো ইউরিয়া গাছের নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করে অত্যন্ত কার্যকরভাবে। সার প্রয়োগের পরিমাণ কম হলেও গাছের পুষ্টি জোগাতে এটি অনেক বেশি শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।
এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনের নেপথ্যে রয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান। দীর্ঘ সাত বছরের নিরলস গবেষণার ফসল এই ন্যানো ইউরিয়া। যদিও তিনি এই প্রযুক্তির একক উদ্ভাবক নন, তবে দেশীয় উপাদান ও পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি ল্যাবরেটরিতে এর সফল উৎপাদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছেন। তাঁর এই মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি এখন মিলছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জৈব সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড. জাভেদের এই গবেষণার ব্যাপক প্রশংসা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় 'কোলা বায়ো' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন। এই চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছর তাঁরা যৌথভাবে ন্যানো ইউরিয়ার গবেষণা ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবেন। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রসারে সফল হতে পারলে তা জাতীয় অর্থনীতি ও কৃষকদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
2.png)