সরাসরি

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হলেন ঢাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান

অ+ অ-
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হলেন ঢাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান
ছবি- সংগৃহীত
​‘তিন শূন্য’ (Three Zeros) এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে জ্যেষ্ঠ কৌশলগত পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন এই অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ; নতুন শিক্ষা দর্শনে যাত্রা শুরু করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়। আর এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটির সাথে যুক্ত হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তিনি প্রতিষ্ঠানটির ‘সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার’ বা জ্যেষ্ঠ কৌশলগত পরামর্শক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন।

​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমতি সাপেক্ষেই তিনি এই নতুন ও উচ্চতর পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্তি গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশেষ গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

​স্থিতিশীলতার কারিগর থেকে নতুন গন্তব্যে

​অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি সংকটের সময়ে নেতৃত্বের কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এক অস্থির সময়ে, অর্থাৎ ২৭ আগস্ট তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ওই বিশেষ প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো সচল রাখা এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

​দীর্ঘ ১৮ মাস অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করার পর, ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। এরপর কিছুদিন বিরতি দিয়ে তিনি এবার যুক্ত হলেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দর্শন নির্ভর এই নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের মতো একজন অভিজ্ঞ মানুষের পরামর্শ গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সহায়তা করবে।

​তিন শূন্য’র দর্শনে সাজানো হচ্ছে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়

​গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশ্বখ্যাত ‘তিন শূন্য’ (Three Zeros) দর্শনের ওপর। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিত করা। কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে তারা সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে।

​এই লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে পাঁচটি ভিন্ন স্কুলের অধীনে ১৪টি অগ্রাধিকারমূলক শিক্ষা কর্মসূচি বা প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষার প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে কর্মমুখী এবং টেকসই উন্নয়ন নির্ভর এই সিলেবাস দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও একাডেমিক পদগুলোতে যোগ্য জনবল নিয়োগের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

​জনকল্যাণে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

​বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালনার ধরণেও রাখা হয়েছে অনন্য এক দৃষ্টান্ত। এটি সম্পূর্ণ একটি ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হবে, যেখানে সদস্যরা কাজ করবেন সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা এই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের বেতন বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করবেন না। এমনকি বোর্ড সভার জন্য নির্ধারিত সিটিং অ্যালাউন্সও নেবেন না তারা। তাদের এই মেধা ও শ্রম ব্যয় হবে কেবল জনকল্যাণের মহৎ উদ্দেশ্যে।

​উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে একাডেমিক কার্যক্রমের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়। অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের মতো অভিজ্ঞ পরামর্শকের হাত ধরে প্রতিষ্ঠানটি এখন তাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন একটি আদর্শিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দেবে, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দেশের শিক্ষাবিদরা।

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৭ এএম

পারমাণবিক জ্বালানিতে ভারতের অভাবনীয় সাফল্য

পারমাণবিক জ্বালানিতে ভারতের অভাবনীয় সাফল্য
ছবি- সংগৃহীত

থোরিয়াম প্রযুক্তিতে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বিরল মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত; বিপরীতে রূপপুর প্রকল্পে বাংলাদেশের ব্যয় ও পরনির্ভরশীলতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

​দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ইতিহাসে গত এপ্রিল মাসটি ছিল অত্যন্ত ঘটনাবহুল। একদিকে বাংলাদেশ তার প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোড করে বিশ্ব পরমাণু ক্লাবে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশ ভারত সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এমন এক বৈজ্ঞানিক বিস্ময় উপহার দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে ভারতকে একক আধিপত্যের পথে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিল।

​তামিলনাড়ুর কালপাক্কাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা সফলভাবে প্লুটোনিয়ামকে রূপান্তর করে ‘ইউরেনিয়াম-২৩৩’ তৈরি করেছেন। বৈজ্ঞানিক মহলের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ অর্জন নয়, বরং দীর্ঘ আট দশকের এক অসাধ্য সাধনের গল্প।

​হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার স্বপ্ন ও থোরিয়াম বিপ্লব

​১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর ভারত যখন জ্বালানি সংকটে ধুঁকছিল, তখন বিখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা এক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ভারতে বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী ‘ইউরেনিয়াম-২৩৫’ এর মজুদ ছিল অত্যন্ত নগণ্য। কিন্তু ভারতের ওড়িশা ও কেরালা উপকূলে বিশ্বের বৃহত্তম ‘থোরিয়াম’ এর মজুদ রয়েছে। থোরিয়াম সরাসরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না, তবে একে রূপান্তর করে ইউরেনিয়াম-২৩৩ তৈরি করা সম্ভব।

​হোমি ভাবা একটি তিন-স্তরের মহাপরিকল্পনা করেছিলেন: ১. সহজলভ্য ইউরেনিয়াম থেকে প্লুটোনিয়াম তৈরি। ২. সেই প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম-২৩৩ উৎপাদন। ৩. সবশেষে ইউরেনিয়াম-২৩৩ দিয়ে ভারতের বিশাল থোরিয়াম ভাণ্ডারকে সক্রিয় করা।

​কালপাক্কামের সাম্প্রতিক সাফল্য ভারতের এই পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ নিশ্চিত করেছে। আগামী এক দশকের মধ্যে ভারত সম্পূর্ণভাবে থোরিয়াম নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে ২০৪০ সাল নাগাদ দেশটিকে জ্বালানি তেল বা গ্যাসের জন্য আর মধ্যপ্রাচ্য বা আমেরিকার ওপর নির্ভর করতে হবে না।

​রূপপুর বনাম কালপাক্কাম: খরচের অসম পাহাড়

​ভারতের এই ঐতিহাসিক অগ্রগতির বিপরীতে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আর্থিক ও কৌশলগত দিক নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ভারতের এই রেকর্ড সৃষ্টিকারী প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR) প্রকল্পে খরচ হয়েছে মাত্র ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

​অন্যদিকে, বাংলাদেশের রূপপুর প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। ঋণ, সুদ এবং মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিলে এর প্রকৃত ব্যয় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদী স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করলেও, বাংলাদেশের প্রকল্পটি উচ্চ সুদের রুশ ঋণের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ জানান, "রূপপুরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ২-৩ টাকা হওয়ার যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তাতে কেবল পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে। বিশাল অংকের ঋণ, সুদ এবং প্ল্যান্টের অবচয় ধরলে এই বিদ্যুৎ হবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল।"

​দেশীয় সম্পদ ও গবেষণার অবহেলা

​ভারতের মতো বাংলাদেশের কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতেও প্রচুর পরিমাণে থোরিয়াম সমৃদ্ধ খনিজ বালু রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মৌলিক গবেষণার অভাবের কারণে বাংলাদেশ নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে পিছিয়ে রয়েছে। ভারতের আইআইটি (IIT) সহ অন্যান্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে কারিগরি জনবল তৈরি করেছে, বাংলাদেশে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না।

​পরিহাসের বিষয় হলো, রূপপুরের মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা পরিচালনার জন্য আমাদের এখনো বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এমনকি দেশের তৈরি পোশাক খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও এখনো বিপুল সংখ্যক বিদেশি কর্মকর্তা কর্মরত।

​ভূ-রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা

​ভারতের এই সাফল্য কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশটিকে চীন, আমেরিকা ও রাশিয়ার জ্বালানি বলয় থেকে মুক্ত করবে। অথচ বাংলাদেশের রূপপুর প্রকল্প আগামী ৬০ বছরের জন্য রাশিয়ার প্রযুক্তি ও জ্বালানির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল।

​বিশ্লেষকদের মতে, একটি রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন দক্ষ আমলাতন্ত্র এবং বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং গবেষণায় অনীহার কারণে বিদেশি প্রযুক্তি কেনাই এখন একমাত্র সমাধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরনির্ভরশীলতা ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে কোনো ঝুঁকির মুখে ফেলে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১০ এএম

রাজধানীসহ সারাদেশে আষাঢ়ে মেজাজে বৃষ্টির দাপট

রাজধানীসহ সারাদেশে আষাঢ়ে মেজাজে বৃষ্টির দাপট
ছবি-সংগৃহিত

ভোর থেকেই আকাশের মুখ ভার। ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল আটটা, কিন্তু চারপাশের অন্ধকার জানান দিচ্ছিল এ যেন কোনো এক বর্ষণমুখর আষাঢ়ের সকাল। রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা প্রতীক বর্ধন তার ছেলেকে নিয়ে ইস্কাটনের স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রা যেন এক অগ্নিপরীক্ষায় রূপ নিল। রাস্তায় রিকশার আকাল, আর যা-ও বা পাওয়া গেল, তাতে পলিথিন নেই। বৃষ্টির ছাট আর ঝোড়ো হাওয়ায় ছাতা সামলাতে গিয়ে বাবা-ছেলে দুজনেই ভিজে একশা।

প্রতীক বর্ধনের মতো এমন বিড়ম্বনার শিকার আজ রাজধানীর হাজারো মানুষ। বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি জনজীবনে স্থবিরতা নামিয়ে এনেছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং অফিসযাত্রীদের জন্য আজকের সকালটি ছিল চরম ভোগান্তির।

মেঘের আড়ালে ঢাকা শহর: পরিস্থিতির বিস্তারিত

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যেই পানি জমতে শুরু করেছে। কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর এবং মিরপুরের কিছু অংশে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় যানবাহন চলাচলে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। সকাল পৌনে নয়টার দিকেও যখন এই প্রতিবেদন লেখা হচ্ছিল, তখনো দমকা হাওয়ার সাথে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল।

আবহাওয়াবিদদের মতে, সাধারণত বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড় হয় যা অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। গতকাল মঙ্গলবার থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৯৬ ঘণ্টা দেশের সব বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও এই বৃষ্টিপাত জলাবদ্ধতা তৈরি করবে এবং চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।

কেন এই অসময়ের বর্ষণ?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, বৈশাখের এই সময়ে একটানা বৃষ্টির কারণ কী? আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, "দেশের অভ্যন্তরে গভীর সঞ্চরণশীল মেঘমালা বা বজ্রমেঘ তৈরি হয়েছে, যা সরতে কিছুটা সময় নিচ্ছে। এছাড়া সাগরে একটি লঘুচাপ তৈরির প্রক্রিয়া চলছে, যার প্রভাবও এখানে দৃশ্যমান। এটি একেবারে অস্বাভাবিক না হলেও, মেঘের এই দাপট আরও কয়েক দিন চলতে পারে।"

তিনি আরও জানান যে, বৃষ্টি একটানা না হয়ে থেমে থেমে হবে। তবে আকাশ মেঘলা থাকার কারণে ভ্যাপসা গরম বা গুমোট ভাবও অনুভূত হতে পারে। বেলা ১১টার পর বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির চিত্র ও বিশেষজ্ঞ মতামত

শুধু ঢাকা নয়, বৃষ্টির দাপট চলছে সারা দেশেই। গত ২৪ ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে দেশের সর্বোচ্চ ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিজ্ঞানের ভাষায়, ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তাকে 'অতি ভারী' বৃষ্টিপাত বলা হয়।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, "বজ্রমেঘের কারণে এই বৃষ্টিপাত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। ভোলা ও খুলনা অঞ্চলে মেঘ কিছুটা কাটতে শুরু করলেও রাজধানীতে আজ দিনভর মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রোদেলা আকাশ দেখার জন্য নগরবাসীকে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।"

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই ধরণের টানা বৃষ্টিতে ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়া এবং গণপরিবহনের সংকট সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

আজকের এই বৈরী আবহাওয়ায় চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার সময় রেইনকোট বা মজবুত ছাতা সাথে রাখা এবং শিশুদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪০ এএম

মুদ্রাস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ, নতুন আর্থিক নীতি ঘোষণার পথে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

মুদ্রাস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ, নতুন আর্থিক নীতি ঘোষণার পথে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বিশ্বজুড়ে অস্থির সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের দামের প্রভাবে দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি 'সংকোচনমূলক' মুদ্রানীতি ঘোষণার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।


২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৩ এএম

ইরানের ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা
ছবি -সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা যখন চরমে, তখনই ইরানের বিরুদ্ধে আরও একদফা কঠোর অবস্থান নিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ড্রোন কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে দেশটির ৩৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরানের হয়ে প্রক্সি যুদ্ধে ইন্ধন দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের সামরিক খাতের অর্থনৈতিক উৎসগুলো বন্ধ করে দেওয়া। বিশেষ করে দেশটির ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তিতে যারা যন্ত্রাংশ এবং অর্থ সরবরাহ করত, তাদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আর্থিক ব্যবস্থার সুবিধা নিতে পারবে না এবং মার্কিন কোনো নাগরিক বা সংস্থার সাথে ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারবে না।

নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে: কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান গত কয়েক বছরে তাদের ড্রোন প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছে। এসব ড্রোন কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ওয়াশিংটন মনে করছে, এই ৩৫টি টার্গেট আসলে ইরানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) একটি অদৃশ্য নেটওয়ার্কের অংশ।

এই নেটওয়ার্কটি মূলত এশিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছদ্মবেশে ব্যবসা পরিচালনা করত। তারা এমন সব ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ আমদানি করত, যা সরাসরি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও কামিকাজে ড্রোন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আমরা তেহরানকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই—তাদের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আঞ্চলিক অস্থিরতা ছড়ানোর প্রচেষ্টাকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তেহরান থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটন আলোচনার পথ বন্ধ করে দিয়ে পুনরায় ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের সেই পুরোনো নীতিতে ফিরে যাচ্ছে, যা অতীতেও সফল হয়নি।



ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটন আলোচনার পথ বন্ধ করে দিয়ে পুনরায় ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের সেই পুরোনো নীতিতে ফিরে যাচ্ছে, যা অতীতেও সফল হয়নি। তেহরানের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, এ ধরনের একতরফা নিষেধাজ্ঞা ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং এর মাধ্যমে ইরানকে তার প্রতিরক্ষা কর্মসূচি থেকে বিচ্যুত করা যাবে না।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে তাদের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো। বিশেষ করে ইসরায়েল ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ড্রোন কর্মসূচির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর পারমাণবিক চুক্তির (JCPOA) পুনর্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ল।

বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ: কতটা কার্যকর হবে এই নিষেধাজ্ঞা?

অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে চাপ তৈরি করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ ইরান গত কয়েক দশকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামরিক বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। তবে এবারের তালিকায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিবর্গকে অন্তর্ভুক্ত করায় তাদের আন্তর্জাতিক যাতায়াত এবং গোপন ব্যাংকিং লেনদেন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান কেবল ইরানের জন্যই নয়, বরং তেহরানের সাথে ব্যবসা করা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্যও একটি সর্তকবার্তা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটন এখন সামরিক সংঘাতের চেয়ে অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমেই ইরানের লাগাম টেনে ধরতে বেশি আগ্রহী। তবে এই টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বাজার ও সাধারণ নিরাপত্তার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২১ এএম

জলবায়ু পরিবর্তন নাকি কৃত্রিম হস্তক্ষেপ

জলবায়ু পরিবর্তন নাকি কৃত্রিম হস্তক্ষেপ
বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ এবং আকাশে বিমানের পেছনে রেখে যাওয়া দীর্ঘ সাদা রেখা বা 'ক্যামট্রেইল' নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ছে কৌতূহল ও আতঙ্ক। অনেকেই একে দেখছেন আবহাওয়া পরিবর্তনের এক কৃত্রিম নীল নকশা হিসেবে।


গত কয়েক দশকে পৃথিবীর তাপমাত্রার পারদ অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় যখন বইছে রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ, ঠিক তখন মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে দেখা যাচ্ছে নজিরবিহীন বৃষ্টিপাত ও বন্যা। প্রকৃতির এই খামখেয়ালি আচরণকে আধুনিক বিজ্ঞান ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বললেও একটি বড় অংশের মানুষের ধারণা—এই পরিবর্তন স্বাভাবিক নয়। তাদের মতে, চোখের সামনেই বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করা হচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ুকে। বিশেষ করে আকাশে বিমানের পেছনে পড়ে থাকা দীর্ঘস্থায়ী সাদা ধোঁয়ার রেখা, যা সাধারণ ভাষায় ‘ক্যামট্রেইল’ (Chemtrail) নামে পরিচিত, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক।

  আকাশ জুড়ে কৃত্রিম মেঘ ও আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

সাধারণত জেট বিমান অত্যন্ত উচ্চতায় উড়লে ইঞ্জিনের গরম বাতাস ও বায়ুমণ্ডলের ঠান্ডার সংস্পর্শে এক ধরনের বাষ্প তৈরি হয়, যাকে বলা হয় 'কনট্রেইল'। তবে পর্যবেক্ষকদের দাবি, বর্তমানে আকাশে এমন কিছু সাদা রেখা দেখা যাচ্ছে যা দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকে এবং ধীরে ধীরে ছড়িয়ে গিয়ে কৃত্রিম মেঘের আকার ধারণ করে।

অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ রাসায়নিক মিশ্রিত এই গ্যাস জেট প্লেন থেকে ছড়ানো হচ্ছে মূলত কৃত্রিম মেঘ তৈরি এবং আয়োনোস্ফিয়ারের পরিবর্তন ঘটানোর জন্য। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্যালোক বাধাগ্রস্ত করে কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা কমানো বা বাড়ানো হচ্ছে। এই তত্ত্বের অনুসারীদের মতে, ভারত বা বাংলাদেশের মতো অঞ্চলের মেঘ বিশেষ প্রযুক্তিতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। ফলে এক অঞ্চলে দেখা দিচ্ছে দীর্ঘ খরা, আর অন্য অঞ্চলে হচ্ছে অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত।

  জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

এই রহস্যময় রাসায়নিক গ্যাসের ব্যবহার কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। অভিযোগ আছে যে, এই গ্যাসগুলোতে মারাত্মক সব বিষাক্ত উপাদান রয়েছে যা মানুষের শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের মতো রোগের কারণ হতে পারে। কেবল মানুষই নয়, গৃহপালিত পশুপাখির মধ্যে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের পেছনেও এই কৃত্রিম আবহাওয়া পরিবর্তনের হাত রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এন্টার্কটিকার বরফ গলিয়ে দেওয়া কিংবা শীতপ্রধান দেশে তাপমাত্রা বাড়ানোর এই বৈশ্বিক প্রচেষ্টার নেপথ্যে কি কোনো সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য রয়েছে? সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশে ‘হিট অফিস’ স্থাপন এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের নতুন সব নীতি গ্রহণকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাদের মতে, এটি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করা এবং সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি বৈশ্বিক পরিকল্পনা হতে পারে।

 আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে অনেকে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিশ্লেষণ করছেন। বিভিন্ন ধর্মতাত্ত্বিক আলোচনা এবং হাদিসের বর্ণনায় শেষ জমানার যে রূপরেখা পাওয়া যায়, তার সাথে বর্তমানের এই অস্বাভাবিক খরা ও বৃষ্টির মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে শয়তানি চক্রের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টি বা প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিকৃত করার চেষ্টার যে সতর্কবার্তা রয়েছে, সেটির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে এই আবহাওয়া বিকৃতিকে।

বিশ্বের প্রভাবশালী কয়েকটি পরিবার ও তাদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তি, যেমন ‘এজেন্ডা ২০৩০’ বা ‘প্যারিস এগ্রিমেন্ট’—এগুলোকে অনেকেই দেখছেন একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা বা ‘নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে। তাদের মতে, আবহাওয়াকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পৃথিবীর এক বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

প্রযুক্তি বনাম ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

আধুনিক বিজ্ঞান এই ধরনের ধারণাকে ‘কনসপিরেসি থিওরি’ বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বলে উড়িয়ে দিলেও, ‘হার্প’ (HAARP) বা ক্লাউড সিডিং-এর মতো প্রযুক্তির অস্তিত্ব কিন্তু অনস্বীকার্য। গত ১০০ বছর ধরে আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, যা সাধারণ মানুষের চোখে ষড়যন্ত্র মনে হয়, তা আসলে পর্দার আড়ালের এক কঠিন বাস্তবতা।

বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষ আজ এই বিষয়গুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার। তাদের দাবি, প্রকৃতির এই ভারসাম্য রক্ষার একমাত্র উপায় হলো কৃত্রিম হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং একটি মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা কায়েম করা। যেখানে মানুষ, পশুপাখি এবং পরিবেশ—সবই থাকবে নিরাপদ।

২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪ পিএম

‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পদদলিত হচ্ছে, আবারও শুরু হয়েছে দলীয়করণ’: এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পদদলিত হচ্ছে, আবারও শুরু হয়েছে দলীয়করণ’: এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
ছবি -সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে আবারও বৈষম্য ও পুরোনো কায়দায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করার প্রবণতা শুরু হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনোভাবেই যদি ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরতন্ত্র ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়, তবে জনগণ আবারও রাজপথে সংগঠিত হবে এবং এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন।

প্রতিষ্ঠানগুলোতে পুরোনো রোগের উপসর্গ

নাহিদ ইসলাম বলেন, যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছিল, তা আজ হুমকির মুখে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও ক্ষমতার নোংরা রাজনীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের ঐতিহাসিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, সরকার তা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। রাষ্ট্রকে ঢেলে সাজানোর যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তাকে অগ্রাহ্য করে আবারও দলীয়করণের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

ভোটের প্রতিশ্রুতি ও ‘গণভোট’ প্রসঙ্গ

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “আমরা জনগণকে কথা দিয়েছিলাম এটি কেবল সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়; এটি রাষ্ট্র সংস্কারের নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সরকার গঠনের পর সেই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা হচ্ছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা থেকে নির্বাচনকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। এটি এখন কেবল একটি সাধারণ ক্ষমতা বদলের পালায় পরিণত হয়েছে। সংবিধান সংস্কারসহ যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো সাধারণ মানুষ আশা করেছিল, সেগুলো একে একে বাতিল করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

তারুণ্যের শক্তিতে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

সারা দেশ থেকে এনসিপির প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়ার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তরুণ প্রজন্মের চাওয়া-পাওয়াকে ধারণ করে একটি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। যেখানে কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে, বৈষম্য দূর হবে এবং প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

বক্তব্যের শেষে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারুণ্যের শক্তিই এনসিপির মূল ভিত্তি। বাংলাদেশের পরিবর্তন ও সংস্কারের যে লড়াই শুরু হয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সেই লড়াই চলবে।


২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে নতুন আলো: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ ওয়েলনেস ফেস্টিভ্যাল’ শুরু

তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে নতুন আলো: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ ওয়েলনেস ফেস্টিভ্যাল’ শুরু
ছবি -সংগৃহীত

ঢাকার ব্যস্ত জীবনে একটু থামার জায়গা খুব কমই মেলে। সেই বাস্তবতায় ভিন্ন এক আবহ তৈরি হলো ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ২২ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ ওয়েলনেস ফেস্টিভ্যাল’-এর প্রথম দিনেই সেখানে জমে ওঠে আত্ম-অন্বেষণ, মানসিক স্বস্তি আর মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগের এক উন্মুক্ত পরিসর।

‘দ্যা ফ্লো ফেস্ট’ ও ‘প্রাইম নাও’-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে ঢাকার ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা আর সামাজিক চাপের ভেতর দিয়ে যাওয়া তরুণদের জন্য এই আয়োজন যেন কিছুটা স্বস্তির জায়গা তৈরি করে।

তরুণদের মানসিক চাপ: উদ্বেগজনক বাস্তবতা

আয়োজকদের এক জরিপে উঠে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র। ১৯ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ প্রতিদিন মানসিক চাপে থাকেন। আরও ৩০ শতাংশ বেশিরভাগ দিনই এই চাপ অনুভব করেন।
এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই উৎসবের প্রতিটি আয়োজন সাজানো হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—তরুণরা যেন নিজেদের কথা বলতে পারে, অন্যদের শুনতে পারে এবং বুঝতে পারে তারা একা নয়।

উদ্বোধনী বার্তা: নিজের জন্য সময় জরুরি

উৎসবের উদ্বোধন করেন ইসরাফিল খসরু। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। তারা নিজের স্বপ্ন অনুযায়ী এগোতে চায়। কিন্তু এই পথে মানসিক চাপ বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তার ভাষায়, কাজের ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য সময় রাখা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এখনকার তরুণরা নানা প্ল্যাটফর্ম থেকে শেখার সুযোগ পাচ্ছে, যা আগের প্রজন্মের ছিল না।

নিজের খোঁজে ফেরার পাঠ

দিনের শুরুতেই যোগ বিশেষজ্ঞ সাজিয়া ওমর একটি সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন—আমরা অনেক সময় নিজের কিংবা পাশের মানুষের খোঁজই রাখি না। নিজের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে জীবনের অনেক জটিলতা সহজ হয়ে যায়।

আলোচনা থেকে অভিজ্ঞতা

সকালের ‘ওয়েলনেস নাও’ প্যানেল আলোচনায় উঠে আসে ডিজিটাল বার্নআউট, ক্যারিয়ার নিয়ে উদ্বেগসহ তরুণদের প্রতিদিনের মানসিক চাপের নানা দিক। বিশেষজ্ঞরা শুধু সমস্যার কথা বলেননি, দিয়েছেন কিছু বাস্তবসম্মত সমাধানও।

দুপুরের পর উৎসবের পরিবেশে আসে নতুন মাত্রা। সেলফ ডিফেন্স ও ফেন্সিং সেশনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর অভিজ্ঞতা পান। অন্যদিকে অর্থী আহমেদ–এর নাচের সেশন পুরো পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

‘হিলিং আওয়ার’: নিজেকে জানার সময়

দিনটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘হিলিং আওয়ার’। এখানে ছিল ১০টি ভিন্নধর্মী কার্যক্রম—আর্ট হিলিং, গ্রাফিটি ওয়াল, ভিশন বোর্ড, জার্নালিং, ক্যারিকেচার, স্ক্রিন প্রিন্টিং, অরিগামি, পেইন্টিংসহ আরও অনেক কিছু।

কেউ তুলির আঁচড়ে নিজের মনের কথা প্রকাশ করেছেন, কেউ লিখেছেন না বলা অনুভূতি। আবার কেউ শরীরচর্চার মাধ্যমে খুঁজেছেন স্বস্তি। এই আয়োজন যেন মনে করিয়ে দেয়—সুস্থ থাকার পথ সবার জন্য এক নয়।

শেষে সুরের বন্ধন

দিনের শেষ হয় ‘সিং অ্যালং’ সেশনে। সবার কণ্ঠ মিলিয়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম পরিবেশ। অচেনা মানুষগুলো মুহূর্তেই হয়ে ওঠেন একে অপরের কাছের মানুষ।

সাজিয়া ওমর বলেন, এই অংশগ্রহণই প্রমাণ করে তরুণরা শুধু শুনতে চায় না, তারা পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতও।

পরবর্তী আয়োজন ও প্রত্যাশা

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে থাকছে আর্থিক সচেতনতা, আসক্তি নিয়ে আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। আয়োজকদের আশা, এমন উদ্যোগ তরুণদের মানসিকভাবে আরও শক্ত হতে সাহায্য করবে।

২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

তেলের দামে আগুন, বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ঝড়

তেলের দামে আগুন, বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ঝড়
ছবি-সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবার সরাসরি আঘাত হানছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক টানাপোড়েনের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা অবরোধ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা ১১০–১২০ ডলার পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে।

তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন, উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প সরবরাহের পথ খুঁজতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে শীত মৌসুমের আগেই গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে ভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক পর্যটন ও বাণিজ্য খাতেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটায় পণ্য পরিবহনে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে।

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। কারণ, এসব দেশের আমদানি ব্যয় বাড়বে, মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল আঞ্চলিক সংকটে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে—যার অভিঘাত অনুভূত হচ্ছে বাজার থেকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা পর্যন্ত সর্বত্র।

২ মে ২০২৫, ০২:৩২ এএম

ঈদে আসছে নতুন টাকা, থাকছে না কোনো ব্যক্তির ছবি: গভর্নর

ঈদে আসছে নতুন টাকা, থাকছে না কোনো ব্যক্তির ছবি: গভর্নর

শনিবার (২৪ মে) সকালে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনে দেশের প্রথম ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট স্কিম উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

গভর্নর বলেন, ‘নতুন নোটে থাকবে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা। ঈদে বাজারে প্রথমে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট আসবে।’

টাঁকশাল থেকে জানা গেছে, ২০ টাকার নোট ছাপা প্রায় সম্পন্ন। আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর পরে ৫০ ও ১০০০ টাকার নোট বাংলাদেশ ব্যাংককে বুঝিয়ে দেবে টাঁকশাল। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে এই টাকা কবে বাজারে আসবে।

টাঁকশাল জানিয়েছে, নতুন নকশার নোট ছাপাতে ১ থেকে দেড় বছর সময় লাগে। আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। 

গত ডিসেম্বরে নতুন নকশার নোট বাজারে আনার সিদ্ধান্ত নেয় এই সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় টাঁকশাল চলতি মাসে নতুন নকশার নোট ছাপানো শুরু করে।

টাঁকশাল আরও জানায়, একসঙ্গে ৩টি নোটের বেশি ছাপানোর সক্ষমতা নেই টাঁকশালের। তাই প্রথম ধাপে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট ছাপানো হচ্ছে।

এদিকে গভর্নর জানিয়েছে, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ায় তা ফেরত পাঠাতে চাপ তৈরি হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ ফ্রিজ করায় অর্থ ফেরত আনার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।’

গভর্নর বলেন, ‘স্কিমের আওতায় পিকেএসএফ অংশীদার এমএফআই গুলোকে ২৪০ কোটি টাকার রিজার্ভ তহবিল ভিত্তিতে ব্যাংক ঋণ গ্যারান্টি দেবে। ঋণের গ্যারান্টি অনুযায়ী এককালীন ০.৫ শতাংশ কমিশন আদায় করা হবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণ পাওয়া সহজ হবে।’

কাল মহাকাল

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হলেন ঢাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

​‘তিন শূন্য’ (Three Zeros) এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে জ্যেষ্ঠ কৌশলগত পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন এই অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ; নতুন শিক্ষা দর্শনে যাত্রা শুরু করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়। আর এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটির সাথে যুক্ত হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তিনি প্রতিষ্ঠানটির ‘সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার’ বা জ্যেষ্ঠ কৌশলগত পরামর্শক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন।

​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমতি সাপেক্ষেই তিনি এই নতুন ও উচ্চতর পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্তি গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশেষ গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

​স্থিতিশীলতার কারিগর থেকে নতুন গন্তব্যে

​অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি সংকটের সময়ে নেতৃত্বের কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এক অস্থির সময়ে, অর্থাৎ ২৭ আগস্ট তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ওই বিশেষ প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো সচল রাখা এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

​দীর্ঘ ১৮ মাস অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করার পর, ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। এরপর কিছুদিন বিরতি দিয়ে তিনি এবার যুক্ত হলেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দর্শন নির্ভর এই নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের মতো একজন অভিজ্ঞ মানুষের পরামর্শ গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সহায়তা করবে।

​তিন শূন্য’র দর্শনে সাজানো হচ্ছে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়

​গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশ্বখ্যাত ‘তিন শূন্য’ (Three Zeros) দর্শনের ওপর। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিত করা। কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে তারা সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে।

​এই লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে পাঁচটি ভিন্ন স্কুলের অধীনে ১৪টি অগ্রাধিকারমূলক শিক্ষা কর্মসূচি বা প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষার প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে কর্মমুখী এবং টেকসই উন্নয়ন নির্ভর এই সিলেবাস দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও একাডেমিক পদগুলোতে যোগ্য জনবল নিয়োগের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

​জনকল্যাণে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

​বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালনার ধরণেও রাখা হয়েছে অনন্য এক দৃষ্টান্ত। এটি সম্পূর্ণ একটি ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হবে, যেখানে সদস্যরা কাজ করবেন সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা এই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের বেতন বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করবেন না। এমনকি বোর্ড সভার জন্য নির্ধারিত সিটিং অ্যালাউন্সও নেবেন না তারা। তাদের এই মেধা ও শ্রম ব্যয় হবে কেবল জনকল্যাণের মহৎ উদ্দেশ্যে।

​উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে একাডেমিক কার্যক্রমের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়। অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের মতো অভিজ্ঞ পরামর্শকের হাত ধরে প্রতিষ্ঠানটি এখন তাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন একটি আদর্শিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দেবে, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দেশের শিক্ষাবিদরা।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ কে ডি এম আলী প্রকাশকঃ কিউ এম হাসান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত