গ্রাউন্ড রিপোর্ট
কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ভবনের বিভিন্ন অংশে নির্মাণ ও ফিনিশিংয়ের কাজ চলমান। অথচ লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) দুটি ভবন নির্মাণকাজের বিপরীতে প্রায় ৩৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার ফাইনাল বিল পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে।
এর মধ্যে একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবনের বিপরীতে প্রায় ২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং মহিলা হোস্টেল ভবনের বিপরীতে প্রায় ১১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই এত বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের ঘটনায় ফাইনাল বিল অনুমোদন, কাজের পরিমাপ ও প্রকল্প তদারকির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর পিটিআই প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন অংশের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। ভবনের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ ও ফিনিশিংয়ের কাজ চলছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, মহিলা হোস্টেল ভবনের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি রয়েছে।
এলজিইডির নথি অনুযায়ী, পিটিআইয়ের পাঁচতলা একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য প্রায় ২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কাজ শুরুর তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০২৩ এবং কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ১৪ অক্টোবর ২০২৪, অন্যদিকে, মহিলা হোস্টেল নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য প্রায় ১৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এলজিইডির নথিতে এ প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। কাজ শুরু হয় ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ এবং শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
দুটি প্রকল্পের মোট চুক্তিমূল্য প্রায় ৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৩৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা ফাইনাল বিল হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি থেকে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, অর্থবছরের জুন ক্লোজিংকে কেন্দ্র করে দ্রুত বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের অগ্রগতির তুলনায় বিল পরিশোধের গতি ছিল বেশি। জুন ক্লোজিংয়ের অজুহাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিল ছাড় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে এলজিইডি। গত ২৮ জুলাই তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্তও করে। তবে তদন্তের পর এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠনের পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উপজেলা প্রকৌশলী আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের দাবি, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত ২ জুলাই এলজিইডির বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে কর্মকর্তাদের নিজ জেলা এবং স্বামী বা স্ত্রীর জেলা ছাড়া অন্য জেলায় পদায়নের নীতিমালার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইকবাল হোসেনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় হলেও তিনি বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।
ফাইনাল বিল নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বেলাল হোসেন বলেন, “আমি ফাইনাল বিল নিয়েছি। তবে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাইনি। কাজ দ্রুত শেষ করে দিচ্ছি। আপনার সঙ্গে এসে চা খাব।”
অভিযোগের বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ হবে। ফাইনাল বিল এখনো দেওয়া হয়নি। যতটুকু কাজ হয়েছে, ততটুকুর বিল পরিশোধ করা হয়েছে।”
তবে লক্ষ্মীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী ফাইনাল বিল দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। যদিও তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
2.png)
রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ভবনের বিভিন্ন অংশে নির্মাণ ও ফিনিশিংয়ের কাজ চলমান। অথচ লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) দুটি ভবন নির্মাণকাজের বিপরীতে প্রায় ৩৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার ফাইনাল বিল পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে।
এর মধ্যে একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবনের বিপরীতে প্রায় ২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং মহিলা হোস্টেল ভবনের বিপরীতে প্রায় ১১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই এত বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের ঘটনায় ফাইনাল বিল অনুমোদন, কাজের পরিমাপ ও প্রকল্প তদারকির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর পিটিআই প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন অংশের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। ভবনের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ ও ফিনিশিংয়ের কাজ চলছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, মহিলা হোস্টেল ভবনের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি রয়েছে।
এলজিইডির নথি অনুযায়ী, পিটিআইয়ের পাঁচতলা একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য প্রায় ২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কাজ শুরুর তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০২৩ এবং কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ১৪ অক্টোবর ২০২৪, অন্যদিকে, মহিলা হোস্টেল নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য প্রায় ১৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এলজিইডির নথিতে এ প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। কাজ শুরু হয় ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ এবং শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
দুটি প্রকল্পের মোট চুক্তিমূল্য প্রায় ৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৩৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা ফাইনাল বিল হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি থেকে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, অর্থবছরের জুন ক্লোজিংকে কেন্দ্র করে দ্রুত বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের অগ্রগতির তুলনায় বিল পরিশোধের গতি ছিল বেশি। জুন ক্লোজিংয়ের অজুহাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিল ছাড় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে এলজিইডি। গত ২৮ জুলাই তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্তও করে। তবে তদন্তের পর এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠনের পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উপজেলা প্রকৌশলী আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের দাবি, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত ২ জুলাই এলজিইডির বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে কর্মকর্তাদের নিজ জেলা এবং স্বামী বা স্ত্রীর জেলা ছাড়া অন্য জেলায় পদায়নের নীতিমালার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইকবাল হোসেনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় হলেও তিনি বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।
ফাইনাল বিল নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বেলাল হোসেন বলেন, “আমি ফাইনাল বিল নিয়েছি। তবে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাইনি। কাজ দ্রুত শেষ করে দিচ্ছি। আপনার সঙ্গে এসে চা খাব।”
অভিযোগের বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ হবে। ফাইনাল বিল এখনো দেওয়া হয়নি। যতটুকু কাজ হয়েছে, ততটুকুর বিল পরিশোধ করা হয়েছে।”
তবে লক্ষ্মীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী ফাইনাল বিল দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। যদিও তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
2.png)