সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

জ্বালানি সহায়তায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে জাপান

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরের টার্মিনালসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধি দলের বৈঠক। বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি পেট্রোল বোট দেওয়ার ঘোষণা।

জ্বালানি সহায়তায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে জাপান
ছবি -সংগৃহীত

বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় জাপানের ভূমিকা নতুন করে পাওয়ার মতো নয়। বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে আসা এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান প্রাপ্তি ছিল জ্বালানি খাতের সহায়তা। বর্তমানে বাংলাদেশকে দেওয়া জাপানের ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের জ্বালানি সহায়তা বাড়িয়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে জাপান ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও উভয় পক্ষ নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে।

জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো, বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিভিন্ন এমআরটি লাইন এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন হবে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে।

নিরাপত্তা খাতেও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে জাপান। বৈঠকে প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জাপানের পক্ষ থেকে পাঁচটি পেট্রোল বোট প্রদান করা হবে।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরিসরে জাপানের আরও সক্রিয় ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।

বৈঠকের এক পর্যায়ে প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানায়। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আশা ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান। জাপানের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর পরিচালক হিরোসে আইকো, জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।

বিষয় : বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জাইকা জ্বালানি সহায়তা রোহিঙ্গা সংকট

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


জ্বালানি সহায়তায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে জাপান

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় জাপানের ভূমিকা নতুন করে পাওয়ার মতো নয়। বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে আসা এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান প্রাপ্তি ছিল জ্বালানি খাতের সহায়তা। বর্তমানে বাংলাদেশকে দেওয়া জাপানের ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের জ্বালানি সহায়তা বাড়িয়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে জাপান ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও উভয় পক্ষ নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে।

জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো, বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিভিন্ন এমআরটি লাইন এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন হবে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে।

নিরাপত্তা খাতেও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে জাপান। বৈঠকে প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জাপানের পক্ষ থেকে পাঁচটি পেট্রোল বোট প্রদান করা হবে।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরিসরে জাপানের আরও সক্রিয় ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।

বৈঠকের এক পর্যায়ে প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানায়। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আশা ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান। জাপানের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর পরিচালক হিরোসে আইকো, জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত