জাতীয়
আগামী ১ জুলাই থেকেই দেশে নতুন সরকারি বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা রয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারি, বিদ্যমান ভাতাগুলোর পুনর্বিন্যাস এবং কারিগরি প্রস্তুতি পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় বাড়তি টাকা হাতে পেতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। পে-স্কেলটি আসলে কয় ধাপে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত সচিব কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অর্থ বিভাগ ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পে-কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটি ইতোমধ্যে চার দফা বৈঠক করেছে। বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গঠিত পৃথক তিনটি পে-কমিশনের সুপারিশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে এই কমিটি। নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রভাব এবং সরকারের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতাকে।
সে কারণে অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে এটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের একটি মডেল সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বছর পুরো মূল বেতন (বেসিক) কার্যকর করা হবে এবং দ্বিতীয় বছরে গিয়ে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের আরেকটি প্রস্তাবও টেবিলে রয়েছে। সেই প্রস্তাব পাস হলে প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে বাকি ৫০ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে গিয়ে ভাতাগুলো কার্যকর করা হতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সচিব কমিটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। অর্থ বিভাগের কারিগরি কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, মূল বেতন ভেঙে দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ‘আইবিএএস’ (iBAS++)-এ জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই কারিগরি জটিলতা এড়াতে তারা একবারেই পুরো মূল বেতন কার্যকর করে দ্বিতীয় ধাপে ভাতা সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন এই বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
নতুন পে-স্কেলের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বর্তমান বাস্তবতায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী ও যৌক্তিক। দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন না থাকলে কর্মচারীদের কাছ থেকে দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা কঠিন। তবে শুধু বেতন বাড়ালেই দুর্নীতি কমবে—এমন ধারণা ভুল।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার পূর্বশর্ত হিসাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজের ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের সম্পদবিবরণী প্রকাশ ও প্রতিবছর তা হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
একই বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, “যেভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, তাতে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলতে কষ্ট হয়। এ অবস্থায় বর্ধিত বেতন তাদের জীবনযাত্রার মান কিছুটা উন্নত করবে। তবে আরেক শ্রেণির কর্মকর্তা রয়েছেন, যাদের বেতনেরই প্রয়োজন হয় না। এদের বিষয়ে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে। গত দেড় দশকে দেশে যত আর্থিক লুটপাট হয়েছে, সেখানে কিছু সরকারি কর্মকর্তাও জড়িত ছিলেন, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করা প্রয়োজন।”
বিষয় : নবম পে-স্কেল
2.png)
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
আগামী ১ জুলাই থেকেই দেশে নতুন সরকারি বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা রয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারি, বিদ্যমান ভাতাগুলোর পুনর্বিন্যাস এবং কারিগরি প্রস্তুতি পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় বাড়তি টাকা হাতে পেতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। পে-স্কেলটি আসলে কয় ধাপে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত সচিব কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অর্থ বিভাগ ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পে-কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটি ইতোমধ্যে চার দফা বৈঠক করেছে। বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গঠিত পৃথক তিনটি পে-কমিশনের সুপারিশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে এই কমিটি। নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রভাব এবং সরকারের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতাকে।
সে কারণে অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে এটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের একটি মডেল সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বছর পুরো মূল বেতন (বেসিক) কার্যকর করা হবে এবং দ্বিতীয় বছরে গিয়ে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের আরেকটি প্রস্তাবও টেবিলে রয়েছে। সেই প্রস্তাব পাস হলে প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে বাকি ৫০ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে গিয়ে ভাতাগুলো কার্যকর করা হতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সচিব কমিটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। অর্থ বিভাগের কারিগরি কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, মূল বেতন ভেঙে দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ‘আইবিএএস’ (iBAS++)-এ জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই কারিগরি জটিলতা এড়াতে তারা একবারেই পুরো মূল বেতন কার্যকর করে দ্বিতীয় ধাপে ভাতা সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন এই বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
নতুন পে-স্কেলের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বর্তমান বাস্তবতায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী ও যৌক্তিক। দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন না থাকলে কর্মচারীদের কাছ থেকে দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা কঠিন। তবে শুধু বেতন বাড়ালেই দুর্নীতি কমবে—এমন ধারণা ভুল।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার পূর্বশর্ত হিসাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজের ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের সম্পদবিবরণী প্রকাশ ও প্রতিবছর তা হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
একই বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, “যেভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, তাতে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলতে কষ্ট হয়। এ অবস্থায় বর্ধিত বেতন তাদের জীবনযাত্রার মান কিছুটা উন্নত করবে। তবে আরেক শ্রেণির কর্মকর্তা রয়েছেন, যাদের বেতনেরই প্রয়োজন হয় না। এদের বিষয়ে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে। গত দেড় দশকে দেশে যত আর্থিক লুটপাট হয়েছে, সেখানে কিছু সরকারি কর্মকর্তাও জড়িত ছিলেন, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করা প্রয়োজন।”
2.png)