জাতীয়
শহরাঞ্চলে জমি কিংবা ফ্ল্যাট কেনাবেচা, বণ্টননামা ও নামজারির ক্ষেত্রে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন (TIN) বাধ্যতামূলক করার যে প্রস্তাব ছিল, তা থেকে শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে এসেছে সরকার। তীব্র আপত্তির মুখে এই নিয়ম প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থবিল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে কালোটাকা সাদা করার বিতর্কিত জমি নিবন্ধন সুবিধাটি, যা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
আজ সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে ২০২৬ সালের অর্থবিল পাসের সময় এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনগুলো আনা হয়। এর আগে গত ১১ জুন বাজেট অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের দীর্ঘ আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণের পর বেশ কিছু সংশোধনীসহ বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়।
বাজেট প্রস্তাবনার পর জনস্বার্থে অর্থবিলে যে সমস্ত বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
উচ্চশিক্ষার খরচ সাধারণের সাধ্যে রাখতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ কর অর্ধেক কমিয়ে ৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ও সার্চ ইঞ্জিনে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাটের যে প্রস্তাব ছিল, তাও কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতে উদ্যোক্তা এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের খরচ এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা কমে আসবে।
স্বর্ণ, রুপা, প্লাটিনাম ও হীরা দিয়ে তৈরি অলংকার ব্যবসার ভ্যাট কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়েছে। এখন থেকে মূল্যবান এসব গহনা কেনার সময় প্রতি কেষ্ট্রে ৫০ পয়সা হারে উৎসে কর কাটার নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। অন্যদিকে, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় ওষুধ, চিংড়ি চাষ, বৈদ্যুতিক তার, পিভিসি ও পিইটি রেজিন, পরিশোধিত তামা এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে বড় অঙ্কের শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা মেটাতে মাছ সরবরাহকারী এবং টেলিযোগাযোগ খাতের রাজস্ব ভাগের ওপর থেকে ভ্যাট সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো যদি তাদের বছর শেষের আসল মুনাফার ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের দেয়, তবে সেই কম দেওয়া অংশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জরিমানা কর দিতে হবে। অবশ্য ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই নিয়মের বাইরে থাকবে। পাশাপাশি বড় মূলধন কিংবা বিশাল বার্ষিক বিক্রয় রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সিএ) ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এখন থেকে যেকোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব সচল রাখা, নতুন ঋণ নেওয়া, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর বা বিআইএন (BIN) থাকা বাধ্যতামূলক। এমনকি প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো গাড়ি কিনতে গেলেও এই নম্বর লাগবে।
বিদেশ থেকে যেকোনো ধরনের সেবা বা সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার ক্ষেত্রে ভ্যাট আদায়ের সরাসরি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও অনুমোদিত বিদেশি মুদ্রা লেনদেনকারী সংস্থাকে।
করদাতারা এখন থেকে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একবার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে সরকারি দপ্তর, ব্যাংক ও বিমা খাতের জন্য এই সময়সীমা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা থাকবে।
জমির মালিক যদি কোনো ডেভেলপার কোম্পানির সাথে যৌথ উন্নয়ন চুক্তি (JDA) করেন এবং বিনিময়ে ফ্ল্যাট বা নগদ অর্থ পান, তবে সেটিকে মূলধনি আয় হিসেবে গণ্য করে তার ওপর নতুন নিয়মে ট্যাক্স কাটা হবে।
বিষয় : অর্থবিল পাস টিআইএন বিআইএন
2.png)
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
শহরাঞ্চলে জমি কিংবা ফ্ল্যাট কেনাবেচা, বণ্টননামা ও নামজারির ক্ষেত্রে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন (TIN) বাধ্যতামূলক করার যে প্রস্তাব ছিল, তা থেকে শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে এসেছে সরকার। তীব্র আপত্তির মুখে এই নিয়ম প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থবিল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে কালোটাকা সাদা করার বিতর্কিত জমি নিবন্ধন সুবিধাটি, যা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
আজ সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে ২০২৬ সালের অর্থবিল পাসের সময় এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনগুলো আনা হয়। এর আগে গত ১১ জুন বাজেট অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের দীর্ঘ আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণের পর বেশ কিছু সংশোধনীসহ বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়।
বাজেট প্রস্তাবনার পর জনস্বার্থে অর্থবিলে যে সমস্ত বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
উচ্চশিক্ষার খরচ সাধারণের সাধ্যে রাখতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ কর অর্ধেক কমিয়ে ৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ও সার্চ ইঞ্জিনে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাটের যে প্রস্তাব ছিল, তাও কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতে উদ্যোক্তা এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের খরচ এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা কমে আসবে।
স্বর্ণ, রুপা, প্লাটিনাম ও হীরা দিয়ে তৈরি অলংকার ব্যবসার ভ্যাট কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়েছে। এখন থেকে মূল্যবান এসব গহনা কেনার সময় প্রতি কেষ্ট্রে ৫০ পয়সা হারে উৎসে কর কাটার নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। অন্যদিকে, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় ওষুধ, চিংড়ি চাষ, বৈদ্যুতিক তার, পিভিসি ও পিইটি রেজিন, পরিশোধিত তামা এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে বড় অঙ্কের শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা মেটাতে মাছ সরবরাহকারী এবং টেলিযোগাযোগ খাতের রাজস্ব ভাগের ওপর থেকে ভ্যাট সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো যদি তাদের বছর শেষের আসল মুনাফার ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের দেয়, তবে সেই কম দেওয়া অংশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জরিমানা কর দিতে হবে। অবশ্য ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই নিয়মের বাইরে থাকবে। পাশাপাশি বড় মূলধন কিংবা বিশাল বার্ষিক বিক্রয় রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সিএ) ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এখন থেকে যেকোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব সচল রাখা, নতুন ঋণ নেওয়া, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর বা বিআইএন (BIN) থাকা বাধ্যতামূলক। এমনকি প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো গাড়ি কিনতে গেলেও এই নম্বর লাগবে।
বিদেশ থেকে যেকোনো ধরনের সেবা বা সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার ক্ষেত্রে ভ্যাট আদায়ের সরাসরি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও অনুমোদিত বিদেশি মুদ্রা লেনদেনকারী সংস্থাকে।
করদাতারা এখন থেকে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একবার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে সরকারি দপ্তর, ব্যাংক ও বিমা খাতের জন্য এই সময়সীমা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা থাকবে।
জমির মালিক যদি কোনো ডেভেলপার কোম্পানির সাথে যৌথ উন্নয়ন চুক্তি (JDA) করেন এবং বিনিময়ে ফ্ল্যাট বা নগদ অর্থ পান, তবে সেটিকে মূলধনি আয় হিসেবে গণ্য করে তার ওপর নতুন নিয়মে ট্যাক্স কাটা হবে।
2.png)