সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

আকাশসীমায় কড়া নজরদারি: শাহজালালে রাজস্ব আয় ২০০ কোটি ছাড়াল

অত্যাধুনিক রাডার ও নতুন এটিসি টাওয়ারের সুবাদে আকাশসীমায় আর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। তিন মাসের ফ্লাইং ওভার চার্জ থেকেই এল বড় অঙ্কের রাজস্ব।

আকাশসীমায় কড়া নজরদারি: শাহজালালে রাজস্ব আয় ২০০ কোটি ছাড়াল
ছবি -সংগৃহীত

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন এটিসি টাওয়ার চালুর পর থেকেই বদলে গেছে আকাশসীমার নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় শুধু বিমান চলাচল ব্যবস্থাই উন্নত হয়নি, বরং বেড়েছে ফ্লাইং ওভার চার্জ বাবদ সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এই খাত থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা আগে একসময় রাডারের নজর এড়িয়ে যাওয়ার কারণে সম্ভব হতো না।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ফ্লাইং ওভার চার্জ থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অথচ ২০২৪ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ১৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার মতো। ধারাবাহিকভাবে আয়ের এই প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, আকাশপথের নজরদারি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ৮০ কোটি ১৬ লাখ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৭০ কোটি এবং মার্চ মাসে ৬২ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের আকাশসীমার একটি বড় অংশ, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন এলাকা রাডারের আওতার বাইরে ছিল। এই অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশ ব্যবহার করে অনেক উড়োজাহাজ কোনো ফি বা চার্জ না দিয়েই পার হয়ে যেত। নতুন এটিসি টাওয়ার ও অত্যাধুনিক এস-ব্যান্ড প্রাইমারি ও মোড-এস সেকেন্ডারি সার্ভেল্যান্স রাডার স্থাপনের ফলে এখন আর কোনো উড়োজাহাজের পক্ষেই নজরদারি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ৮০ থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাডার সিস্টেম এখন রিয়েল-টাইম তথ্য দিচ্ছে, যা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করছে।

৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের জন্য এক বড় মাইলফলক। সরকারি অর্থায়নের বদলে সিএএবি-র নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ায় তা এখন জাতীয় অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখতে শুরু করেছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টাওয়ারটি চালুর পর ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায়ের হার যেমন বেড়েছে, তেমনি দেশের পুরো আকাশসীমা এখন ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও হয়েছে সুদৃঢ়। আধুনিক এই প্রযুক্তির ফলে এখন থেকে দেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী প্রতিটি উড়োজাহাজকে যথাযথ নিয়মের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে, যা বিমান পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখছে।

বিষয় : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর atc tower

আকাশসীমায় কড়া নজরদারি: শাহজালালে রাজস্ব আয় ২০০ কোটি ছাড়াল
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


আকাশসীমায় কড়া নজরদারি: শাহজালালে রাজস্ব আয় ২০০ কোটি ছাড়াল

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন এটিসি টাওয়ার চালুর পর থেকেই বদলে গেছে আকাশসীমার নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় শুধু বিমান চলাচল ব্যবস্থাই উন্নত হয়নি, বরং বেড়েছে ফ্লাইং ওভার চার্জ বাবদ সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এই খাত থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা আগে একসময় রাডারের নজর এড়িয়ে যাওয়ার কারণে সম্ভব হতো না।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ফ্লাইং ওভার চার্জ থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অথচ ২০২৪ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ১৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার মতো। ধারাবাহিকভাবে আয়ের এই প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, আকাশপথের নজরদারি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ৮০ কোটি ১৬ লাখ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৭০ কোটি এবং মার্চ মাসে ৬২ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের আকাশসীমার একটি বড় অংশ, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন এলাকা রাডারের আওতার বাইরে ছিল। এই অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশ ব্যবহার করে অনেক উড়োজাহাজ কোনো ফি বা চার্জ না দিয়েই পার হয়ে যেত। নতুন এটিসি টাওয়ার ও অত্যাধুনিক এস-ব্যান্ড প্রাইমারি ও মোড-এস সেকেন্ডারি সার্ভেল্যান্স রাডার স্থাপনের ফলে এখন আর কোনো উড়োজাহাজের পক্ষেই নজরদারি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ৮০ থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাডার সিস্টেম এখন রিয়েল-টাইম তথ্য দিচ্ছে, যা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করছে।

৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের জন্য এক বড় মাইলফলক। সরকারি অর্থায়নের বদলে সিএএবি-র নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ায় তা এখন জাতীয় অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখতে শুরু করেছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টাওয়ারটি চালুর পর ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায়ের হার যেমন বেড়েছে, তেমনি দেশের পুরো আকাশসীমা এখন ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও হয়েছে সুদৃঢ়। আধুনিক এই প্রযুক্তির ফলে এখন থেকে দেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী প্রতিটি উড়োজাহাজকে যথাযথ নিয়মের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে, যা বিমান পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখছে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত