আন্তর্জাতিক
বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাতের দামামা আর অর্থনৈতিক অস্থিরতার কালো ছায়া, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব গ্রহণ করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনে তিনি এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি বিশ্বশান্তি, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবিক মর্যাদাকে কেন্দ্রে রেখে এক ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
ড. খলিলুর রহমান তার বক্তব্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে, যার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সমর্থন এই আন্তর্জাতিক অবস্থানে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের প্রশংসা করতেও ভোলেননি তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ইতিবাচক প্রচারণাকে তিনি ভবিষ্যতের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। এই সৌজন্যবোধ এবং গণতান্ত্রিক চর্চা তার নেতৃত্বে জাতিসংঘের আগামীর কর্মপন্থা কেমন হবে, তার একটি আভাস দেয়।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় জাতিসংঘ যেসব বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি, তা নিয়ে ড. খলিলুর রহমান বেশ স্পষ্টবাদী ছিলেন। তিনি স্বীকার করেছেন, সংঘাত, মানবিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা সংস্থাটির গ্রহণযোগ্যতাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি শান্তিরক্ষাকে তার কর্মপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের যে অসামান্য অবদান, তাকে পুঁজি করে তিনি সংঘাত প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক সমাধানে আরও সমন্বিত কাঠামোর কথা বলেছেন। শান্তিরক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, তা আধুনিক বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে যে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছা তৈরির অঙ্গীকার করেছেন। ঋণের ব্যবস্থাপনা, আর্থিক কাঠামোর সংস্কার এবং নারী ও কন্যাশিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি তার বক্তৃতায় প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য গৃহীত দোহা কর্মসূচির পূর্ণ বাস্তবায়নে তিনি বৈশ্বিক সংহতির ডাক দিয়েছেন।
ড. খলিলুর রহমানের এই ছয় দফা কেবল শব্দচয়ন নয়, বরং এটি একটি অস্থিতিশীল পৃথিবীকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করার স্বপ্ন। তার এই যাত্রা কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্যও এক বিশাল গৌরবের। বিশ্বনেতাদের আস্থার কেন্দ্রে থেকে তিনি আগামীতে জাতিসংঘকে কতটুকু কার্যকর ও সক্রিয় করে তুলতে পারেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী।
2.png)
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাতের দামামা আর অর্থনৈতিক অস্থিরতার কালো ছায়া, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব গ্রহণ করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনে তিনি এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি বিশ্বশান্তি, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবিক মর্যাদাকে কেন্দ্রে রেখে এক ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
ড. খলিলুর রহমান তার বক্তব্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে, যার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সমর্থন এই আন্তর্জাতিক অবস্থানে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের প্রশংসা করতেও ভোলেননি তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ইতিবাচক প্রচারণাকে তিনি ভবিষ্যতের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। এই সৌজন্যবোধ এবং গণতান্ত্রিক চর্চা তার নেতৃত্বে জাতিসংঘের আগামীর কর্মপন্থা কেমন হবে, তার একটি আভাস দেয়।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় জাতিসংঘ যেসব বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি, তা নিয়ে ড. খলিলুর রহমান বেশ স্পষ্টবাদী ছিলেন। তিনি স্বীকার করেছেন, সংঘাত, মানবিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা সংস্থাটির গ্রহণযোগ্যতাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি শান্তিরক্ষাকে তার কর্মপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের যে অসামান্য অবদান, তাকে পুঁজি করে তিনি সংঘাত প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক সমাধানে আরও সমন্বিত কাঠামোর কথা বলেছেন। শান্তিরক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, তা আধুনিক বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে যে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছা তৈরির অঙ্গীকার করেছেন। ঋণের ব্যবস্থাপনা, আর্থিক কাঠামোর সংস্কার এবং নারী ও কন্যাশিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি তার বক্তৃতায় প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য গৃহীত দোহা কর্মসূচির পূর্ণ বাস্তবায়নে তিনি বৈশ্বিক সংহতির ডাক দিয়েছেন।
ড. খলিলুর রহমানের এই ছয় দফা কেবল শব্দচয়ন নয়, বরং এটি একটি অস্থিতিশীল পৃথিবীকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করার স্বপ্ন। তার এই যাত্রা কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্যও এক বিশাল গৌরবের। বিশ্বনেতাদের আস্থার কেন্দ্রে থেকে তিনি আগামীতে জাতিসংঘকে কতটুকু কার্যকর ও সক্রিয় করে তুলতে পারেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী।
2.png)