সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 ঢাকাঢাকা

কালশীতে বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই সহস্রাধিক ঘর

দীর্ঘ দুই ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এল আগুন; ভাঙারি ও দাহ্য বস্তুর স্তূপে মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ, উঠেছে নাশকতার অভিযোগ।

কালশীতে বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই সহস্রাধিক ঘর
ছবি -সংগৃহীত


রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকায় একটি বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি ও দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে লাগা এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে। ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের দীর্ঘ দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে বস্তিবাসীর মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও ছাই হয়ে গেছে। প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বস্তিতে প্লাস্টিক, কাগজ ও ভাঙারির মালামালসহ দাহ্য বস্তু বেশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া বাতাসের গতিবেগ এবং আশপাশে পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্মীদের বেগ পেতে হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার জানিয়েছেন, আগুন পুরোপুরি নির্বাপণে সময় লাগলেও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

তবে এই অগ্নিকাণ্ডকে নিছক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিকেলে এক দোকানির সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের ঝগড়া হয়েছিল। সেই সময় ওই যুবক বস্তিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ঘটনার দেড়-দুই ঘণ্টা পরেই বস্তিতে আগুন লাগে। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই যুবককে আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক যুবককে আটক করা হয়েছে এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। অগ্নিকাণ্ডের পেছনে নাশকতার কোনো যোগসূত্র আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্দেহ অমূলক নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বস্তির বিশাল এই এলাকাজুড়ে ছিল প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ঘর ও দোকান। আগুনে সব কয়টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় বস্তিবাসীর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে কালশীর আকাশ বাতাস। রাস্তার পাশে বসে বিলাপ করছিলেন ভাঙারির দোকানি লাল মিয়া। তিনি জানান, আগামীকাল মালামাল বিক্রির কথা ছিল। প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল ছিল দোকানে, যার কিছুই অবশিষ্ট নেই। একই চিত্র আমির উদ্দিনের পরিবারে, ঘর পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসার ৩৭ হাজার নগদ টাকাও আগুনের গ্রাসে হারিয়েছে তার। ঈদের আগে পরিবারের জীবিকা ও সম্বল হারিয়ে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে শত শত শ্রমজীবী মানুষের।


বিষয় : কালশী অগ্নিকাণ্ড ২০২৬

কালশীতে বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই সহস্রাধিক ঘর
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


কালশীতে বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই সহস্রাধিক ঘর

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image


রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকায় একটি বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি ও দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে লাগা এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে। ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের দীর্ঘ দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে বস্তিবাসীর মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও ছাই হয়ে গেছে। প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বস্তিতে প্লাস্টিক, কাগজ ও ভাঙারির মালামালসহ দাহ্য বস্তু বেশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া বাতাসের গতিবেগ এবং আশপাশে পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্মীদের বেগ পেতে হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার জানিয়েছেন, আগুন পুরোপুরি নির্বাপণে সময় লাগলেও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

তবে এই অগ্নিকাণ্ডকে নিছক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিকেলে এক দোকানির সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের ঝগড়া হয়েছিল। সেই সময় ওই যুবক বস্তিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ঘটনার দেড়-দুই ঘণ্টা পরেই বস্তিতে আগুন লাগে। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই যুবককে আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক যুবককে আটক করা হয়েছে এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। অগ্নিকাণ্ডের পেছনে নাশকতার কোনো যোগসূত্র আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্দেহ অমূলক নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বস্তির বিশাল এই এলাকাজুড়ে ছিল প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ঘর ও দোকান। আগুনে সব কয়টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় বস্তিবাসীর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে কালশীর আকাশ বাতাস। রাস্তার পাশে বসে বিলাপ করছিলেন ভাঙারির দোকানি লাল মিয়া। তিনি জানান, আগামীকাল মালামাল বিক্রির কথা ছিল। প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল ছিল দোকানে, যার কিছুই অবশিষ্ট নেই। একই চিত্র আমির উদ্দিনের পরিবারে, ঘর পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসার ৩৭ হাজার নগদ টাকাও আগুনের গ্রাসে হারিয়েছে তার। ঈদের আগে পরিবারের জীবিকা ও সম্বল হারিয়ে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে শত শত শ্রমজীবী মানুষের।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত