লাইফ স্টাইল
আমাদের কুরবানির ঐতিহ্য লক্ষ্য করলেই দেখা যায় রান্নাঘরে নানা ধরনের রেসিপির পসরা। পায়া, নলা, ভুঁড়ি, মাথার মাংস আর মগজের তো বিশেষ আইটেম চাই-ই চাই। এককালে মা খালারা কোরবানির দিনে নানা পদের আয়োজন সামলাতে সামলাতে শ্রান্ত দেহে মাঝ রাত পর্যন্ত রীতিমত যুদ্ধে লিপ্ত থাকতেন। যদিও আধুনিক জীবনযাত্রায় স্টোরেজ করে দীর্ঘদিন যাবত সেই মাংসের নানা মুখরোচক রেসিপি উপভোগ করার সুয়োগ এখন প্রায় সবারই রয়েছে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, কোরবানির ঈদে আমরা যদি সচেতনভাবে মাংসের এসব বিশেষ অংশের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি, তবে তা আমাদের পরিবারের জন্য হতে পারে বছরের সেরা পুষ্টির উৎস।
আসুন জেনে নিই, কোরবানির গরুর কোন অংশটি আমাদের শরীরের জন্য কতটা কার্যকর:
১. পায়া: ত্বকের লাবণ্য ও হাড়ের সুরক্ষায়
দাদি-নানিরা যখন হাঁটু বা হাড়ের ব্যথায় পায়ার ঝোল খেতেন, তখন বিজ্ঞান হয়তো জানা ছিল না, কিন্তু অভিজ্ঞতায় তারা জানতেন এর জাদুকরী গুণের কথা। পায়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কোলাজেন ও জিলেটিন। দীর্ঘ সময় নিয়ে সেদ্ধ করা পায়ার ঝোল হাড়ের জয়েন্ট বা গিঁটের ব্যথায় প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে। এটি ত্বককে সতেজ রাখতেও অতুলনীয়।
২. নলা: আয়রনের খনি
নলার ভেতরে থাকা ‘বোন ম্যারো’ বা মজ্জা আয়রন ও ফ্যাটি অ্যাসিডের দারুণ উৎস। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও রক্তস্বল্পতায় ভোগা রোগীদের জন্য এটি একটি আশীর্বাদ। অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত শারীরিক শক্তি ফিরে পেতে বা দীর্ঘ অসুস্থতার ধকল কাটাতে নলার স্যুপ অত্যন্ত কার্যকর।
৩. ভুঁড়ি: প্রোটিন ও জিংকের উৎস
ভুঁড়িকে অবহেলার চোখে দেখার দিন শেষ। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও জিংক। সঠিক উপায়ে পরিষ্কার ও রান্না করা ভুঁড়ি হজমশক্তি উন্নয়নে সাহায্য করে। ঐতিহ্যবাহী ভুঁড়ি ভুনা বা খিচুড়ি কেবল স্বাদে অনন্য নয়, এটি প্রোটিনের চাহিদাও পূরণ করে চমৎকারভাবে।
৪. মাথার মাংস: সবার জন্য উপযোগী
মাথার মাংসে থাকে প্রচুর প্রোটিন, আয়রন, জিংক ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। অন্যান্য মাংসের তুলনায় এটি বেশ নরম ও রসালো। ফলে ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এটি সহজেই হজমযোগ্য এবং শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ করে।
৫. মগজ: স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষায়
মগজে পাওয়া যায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফসফরাস ও ভিটামিন বি-১২। এগুলো মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অবশ্য মগজ খেলেই বুদ্ধির বিকাশ ঘটবে—এমন অলীক ভাবার সুযোগ নেই, তবে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে এটি স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।
সব পুষ্টিগুণ তখনই কার্যকর হবে, যখন কোরবানির পশুটি হবে সম্পূর্ণ সুস্থ। হরমোন বা অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া পশু থেকে পাওয়া এসব অংশ স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই কোরবানি দেওয়ার সময় পশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।
এই ঈদে মাংসের সাধারণ পদের বাইরে ঐতিহ্যের এসব পুষ্টিকর খাবারকে পরিবারের পাতে ফিরিয়ে আনুন। এতে যেমন বাড়বে খাবারের বৈচিত্র্য, তেমনি পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মিলবে এক বাড়তি নিশ্চয়তা। তবে মনে রাখতে হবে, কোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়। সুষম ও পরিমিত আহারই হোক এই কোরবানির ঈদের মূলমন্ত্র।
আপনার পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোরবানির মাংস সংরক্ষণ ও রান্নায় সচেতন হোন। সবাইকে ঈদ মোবারক!
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
আমাদের কুরবানির ঐতিহ্য লক্ষ্য করলেই দেখা যায় রান্নাঘরে নানা ধরনের রেসিপির পসরা। পায়া, নলা, ভুঁড়ি, মাথার মাংস আর মগজের তো বিশেষ আইটেম চাই-ই চাই। এককালে মা খালারা কোরবানির দিনে নানা পদের আয়োজন সামলাতে সামলাতে শ্রান্ত দেহে মাঝ রাত পর্যন্ত রীতিমত যুদ্ধে লিপ্ত থাকতেন। যদিও আধুনিক জীবনযাত্রায় স্টোরেজ করে দীর্ঘদিন যাবত সেই মাংসের নানা মুখরোচক রেসিপি উপভোগ করার সুয়োগ এখন প্রায় সবারই রয়েছে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, কোরবানির ঈদে আমরা যদি সচেতনভাবে মাংসের এসব বিশেষ অংশের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি, তবে তা আমাদের পরিবারের জন্য হতে পারে বছরের সেরা পুষ্টির উৎস।
আসুন জেনে নিই, কোরবানির গরুর কোন অংশটি আমাদের শরীরের জন্য কতটা কার্যকর:
১. পায়া: ত্বকের লাবণ্য ও হাড়ের সুরক্ষায়
দাদি-নানিরা যখন হাঁটু বা হাড়ের ব্যথায় পায়ার ঝোল খেতেন, তখন বিজ্ঞান হয়তো জানা ছিল না, কিন্তু অভিজ্ঞতায় তারা জানতেন এর জাদুকরী গুণের কথা। পায়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কোলাজেন ও জিলেটিন। দীর্ঘ সময় নিয়ে সেদ্ধ করা পায়ার ঝোল হাড়ের জয়েন্ট বা গিঁটের ব্যথায় প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে। এটি ত্বককে সতেজ রাখতেও অতুলনীয়।
২. নলা: আয়রনের খনি
নলার ভেতরে থাকা ‘বোন ম্যারো’ বা মজ্জা আয়রন ও ফ্যাটি অ্যাসিডের দারুণ উৎস। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও রক্তস্বল্পতায় ভোগা রোগীদের জন্য এটি একটি আশীর্বাদ। অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত শারীরিক শক্তি ফিরে পেতে বা দীর্ঘ অসুস্থতার ধকল কাটাতে নলার স্যুপ অত্যন্ত কার্যকর।
৩. ভুঁড়ি: প্রোটিন ও জিংকের উৎস
ভুঁড়িকে অবহেলার চোখে দেখার দিন শেষ। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও জিংক। সঠিক উপায়ে পরিষ্কার ও রান্না করা ভুঁড়ি হজমশক্তি উন্নয়নে সাহায্য করে। ঐতিহ্যবাহী ভুঁড়ি ভুনা বা খিচুড়ি কেবল স্বাদে অনন্য নয়, এটি প্রোটিনের চাহিদাও পূরণ করে চমৎকারভাবে।
৪. মাথার মাংস: সবার জন্য উপযোগী
মাথার মাংসে থাকে প্রচুর প্রোটিন, আয়রন, জিংক ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। অন্যান্য মাংসের তুলনায় এটি বেশ নরম ও রসালো। ফলে ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এটি সহজেই হজমযোগ্য এবং শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ করে।
৫. মগজ: স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষায়
মগজে পাওয়া যায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফসফরাস ও ভিটামিন বি-১২। এগুলো মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অবশ্য মগজ খেলেই বুদ্ধির বিকাশ ঘটবে—এমন অলীক ভাবার সুযোগ নেই, তবে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে এটি স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।
সব পুষ্টিগুণ তখনই কার্যকর হবে, যখন কোরবানির পশুটি হবে সম্পূর্ণ সুস্থ। হরমোন বা অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া পশু থেকে পাওয়া এসব অংশ স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই কোরবানি দেওয়ার সময় পশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।
এই ঈদে মাংসের সাধারণ পদের বাইরে ঐতিহ্যের এসব পুষ্টিকর খাবারকে পরিবারের পাতে ফিরিয়ে আনুন। এতে যেমন বাড়বে খাবারের বৈচিত্র্য, তেমনি পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মিলবে এক বাড়তি নিশ্চয়তা। তবে মনে রাখতে হবে, কোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়। সুষম ও পরিমিত আহারই হোক এই কোরবানির ঈদের মূলমন্ত্র।
আপনার পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোরবানির মাংস সংরক্ষণ ও রান্নায় সচেতন হোন। সবাইকে ঈদ মোবারক!
2.png)