লাইফ স্টাইল
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। উৎকণ্ঠায় ঘামছেন স্বজনরা, চারদিকে ছোটাছুটি। স্ট্রেচারে নিথর শুয়ে থাকা মধ্যবয়সী একজনের রক্তচাপ পরীক্ষা করে দেখা গেল তা ২২০/১১০—ভয়াবহ রকমের বেশি। অথচ পরিবারের কেউ জানতেনই না তাঁর এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কথা। সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ। এক মুহূর্তের উচ্চ রক্তচাপ পুরো জীবনকে চিরতরে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিল।
এই দৃশ্য আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে এখন প্রতিদিনের নিয়মিত চিত্র। কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই নীরব ঘাতকের মতো শরীরে বাসা বাঁধে উচ্চ রক্তচাপ। অনেকেই ভাবেন, শরীর খারাপ না লাগলে বুঝি রক্তচাপ মাপার প্রয়োজন নেই। এই ভুল ধারণাটিই মূলত অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অথচ সামান্য সচেতনতা আর নিয়মিত পরীক্ষা করলেই এই বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।
অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ শরীরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর অমোঘ থাবা বসায়। হৃৎপিণ্ড যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপে কাজ করতে বাধ্য হয়, তখন একসময় তার কর্মক্ষমতা কমে গিয়ে 'হার্ট ফেইলিওর' দেখা দেয়। রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ায় বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। মস্তিষ্কের রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে যেমন প্রাণঘাতী রক্তক্ষরণ হতে পারে, তেমনি রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে দেখা দিতে পারে পক্ষাঘাত বা স্ট্রোক। কেবল শরীর নয়, উচ্চ রক্তচাপ মানুষের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আড়ালে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শরীরের ছাঁকনি হিসেবে পরিচিত বৃক্ক বা কিডনি। দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ এই অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ। এছাড়া চোখের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানুষের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। এমনকি দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা জীবনকে নিরানন্দ করে তোলে।
উচ্চ রক্তচাপ কেবল বয়স্কদের রোগ—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। আঠারো বছর পেরোনোর পর থেকেই যে কারো শরীরে এটি হানা দিতে পারে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে এটি এক আতঙ্কের নাম। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ‘একলাম্পসিয়া’র মতো জটিলতা মা ও অনাগত শিশুর জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। তাই নিয়মিত বিরতিতে সবারই রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি।
সুস্থ জীবনযাত্রার চর্চা শুরু হতে হয় শৈশব থেকেই। খাবারের পাতে বাড়তি লবণের অভ্যাস ত্যাগ করা এখন সময়ের দাবি। চর্বিজাতীয় খাবার ও ফাস্টফুড এড়িয়ে উদ্ভিজ্জ খাবারের প্রতি অনুরাগ বাড়াতে হবে। তামাক ও অ্যালকোহল বর্জন করে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে জাদুর মতো কাজ করে।
শহুরে যান্ত্রিকতার ভিড়ে মানসিক চাপ কমানোটাও এক বড় চ্যালেঞ্জ। রাতের সুশৃঙ্খল ঘুম এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো মন ও শরীর উভয়কেই সজীব রাখে। নিজের সুস্থতা কেবল নিজের জন্য নয়, আপনার ওপর নির্ভরশীল প্রিয়জনদের হাসিমুখ ধরে রাখার জন্যও জরুরি। তাই আজই জানুন আপনার রক্তচাপের সঠিক মাপ; অজান্তে জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগেই সচেতন হোন।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। উৎকণ্ঠায় ঘামছেন স্বজনরা, চারদিকে ছোটাছুটি। স্ট্রেচারে নিথর শুয়ে থাকা মধ্যবয়সী একজনের রক্তচাপ পরীক্ষা করে দেখা গেল তা ২২০/১১০—ভয়াবহ রকমের বেশি। অথচ পরিবারের কেউ জানতেনই না তাঁর এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কথা। সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ। এক মুহূর্তের উচ্চ রক্তচাপ পুরো জীবনকে চিরতরে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিল।
এই দৃশ্য আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে এখন প্রতিদিনের নিয়মিত চিত্র। কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই নীরব ঘাতকের মতো শরীরে বাসা বাঁধে উচ্চ রক্তচাপ। অনেকেই ভাবেন, শরীর খারাপ না লাগলে বুঝি রক্তচাপ মাপার প্রয়োজন নেই। এই ভুল ধারণাটিই মূলত অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অথচ সামান্য সচেতনতা আর নিয়মিত পরীক্ষা করলেই এই বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।
অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ শরীরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর অমোঘ থাবা বসায়। হৃৎপিণ্ড যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপে কাজ করতে বাধ্য হয়, তখন একসময় তার কর্মক্ষমতা কমে গিয়ে 'হার্ট ফেইলিওর' দেখা দেয়। রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ায় বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। মস্তিষ্কের রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে যেমন প্রাণঘাতী রক্তক্ষরণ হতে পারে, তেমনি রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে দেখা দিতে পারে পক্ষাঘাত বা স্ট্রোক। কেবল শরীর নয়, উচ্চ রক্তচাপ মানুষের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আড়ালে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শরীরের ছাঁকনি হিসেবে পরিচিত বৃক্ক বা কিডনি। দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ এই অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ। এছাড়া চোখের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানুষের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। এমনকি দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা জীবনকে নিরানন্দ করে তোলে।
উচ্চ রক্তচাপ কেবল বয়স্কদের রোগ—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। আঠারো বছর পেরোনোর পর থেকেই যে কারো শরীরে এটি হানা দিতে পারে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে এটি এক আতঙ্কের নাম। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ‘একলাম্পসিয়া’র মতো জটিলতা মা ও অনাগত শিশুর জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। তাই নিয়মিত বিরতিতে সবারই রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি।
সুস্থ জীবনযাত্রার চর্চা শুরু হতে হয় শৈশব থেকেই। খাবারের পাতে বাড়তি লবণের অভ্যাস ত্যাগ করা এখন সময়ের দাবি। চর্বিজাতীয় খাবার ও ফাস্টফুড এড়িয়ে উদ্ভিজ্জ খাবারের প্রতি অনুরাগ বাড়াতে হবে। তামাক ও অ্যালকোহল বর্জন করে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে জাদুর মতো কাজ করে।
শহুরে যান্ত্রিকতার ভিড়ে মানসিক চাপ কমানোটাও এক বড় চ্যালেঞ্জ। রাতের সুশৃঙ্খল ঘুম এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো মন ও শরীর উভয়কেই সজীব রাখে। নিজের সুস্থতা কেবল নিজের জন্য নয়, আপনার ওপর নির্ভরশীল প্রিয়জনদের হাসিমুখ ধরে রাখার জন্যও জরুরি। তাই আজই জানুন আপনার রক্তচাপের সঠিক মাপ; অজান্তে জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগেই সচেতন হোন।
2.png)