রাজপথের বিশৃঙ্খলা আর ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের চিরচেনা দৃশ্য বদলে দিতে এবার কড়া ডিজিটাল দাওয়াই নিয়ে আসছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। প্রস্তাবিত ‘রোড সেফটি পেনাল্টি সিস্টেম’ বা আরএসপিএস (RSPS) কার্যকর হলে দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভাগ্য নির্ধারিত হবে ১২ পয়েন্টের এক ডিজিটাল সমীকরণে।
নতুন এই নিয়মের মূল কাঠামোটি বেশ সোজাসাপ্টা কিন্তু অত্যন্ত কঠোর। প্রতিটি চালকের লাইসেন্সে শুরুতে জমা থাকবে ১২টি পয়েন্ট। যখনই কেউ ট্রাফিক আইন অমান্য করবেন, স্বয়ংক্রিয়াভাবে তার লাইসেন্স থেকে নির্দিষ্ট পয়েন্ট কেটে নেওয়া হবে। এভাবে কমতে কমতে পয়েন্টের ঘর শূন্যে ঠেকলে সংশ্লিষ্ট চালকের লাইসেন্সটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যাবে। মূলত যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোতে প্রচলিত ‘ডিমেরিট পয়েন্ট’ ব্যবস্থার আদলেই এই ডিজিটাল সংস্কার সাজানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো এর স্বচ্ছতা। পুরো প্রক্রিয়াটি অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হওয়ায় ট্রাফিক পুলিশের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছা বা মাঠপর্যায়ে ঘুষ লেনদেনের সুযোগ অনেকাংশেই কমে আসবে। বেপরোয়া চালকদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং তাদের শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে এআই ক্যামেরা ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের পর এটিই হতে যাচ্ছে বিআরটিএ-র সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ।
তবে এই আধুনিক ব্যবস্থার সুফল পেতে পাড়ি দিতে হবে কিছু বন্ধুর পথ। ভুয়া লাইসেন্স শনাক্ত করা, চালকদের বিশাল ডাটাবেজ প্রতিমুহূর্তে হালনাগাদ রাখা এবং সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পয়েন্ট কাটা গেলে চালকদের আপিল বা ভুল সংশোধনের সহজ সুযোগ রাখাটাও জরুরি। যদি এই ডিজিটাল শাসন সফলভাবে প্রয়োগ করা যায়, তবে বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন ভোরের সূচনা হবে।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
রাজপথের বিশৃঙ্খলা আর ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের চিরচেনা দৃশ্য বদলে দিতে এবার কড়া ডিজিটাল দাওয়াই নিয়ে আসছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। প্রস্তাবিত ‘রোড সেফটি পেনাল্টি সিস্টেম’ বা আরএসপিএস (RSPS) কার্যকর হলে দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভাগ্য নির্ধারিত হবে ১২ পয়েন্টের এক ডিজিটাল সমীকরণে।
নতুন এই নিয়মের মূল কাঠামোটি বেশ সোজাসাপ্টা কিন্তু অত্যন্ত কঠোর। প্রতিটি চালকের লাইসেন্সে শুরুতে জমা থাকবে ১২টি পয়েন্ট। যখনই কেউ ট্রাফিক আইন অমান্য করবেন, স্বয়ংক্রিয়াভাবে তার লাইসেন্স থেকে নির্দিষ্ট পয়েন্ট কেটে নেওয়া হবে। এভাবে কমতে কমতে পয়েন্টের ঘর শূন্যে ঠেকলে সংশ্লিষ্ট চালকের লাইসেন্সটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যাবে। মূলত যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোতে প্রচলিত ‘ডিমেরিট পয়েন্ট’ ব্যবস্থার আদলেই এই ডিজিটাল সংস্কার সাজানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো এর স্বচ্ছতা। পুরো প্রক্রিয়াটি অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হওয়ায় ট্রাফিক পুলিশের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছা বা মাঠপর্যায়ে ঘুষ লেনদেনের সুযোগ অনেকাংশেই কমে আসবে। বেপরোয়া চালকদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং তাদের শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে এআই ক্যামেরা ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের পর এটিই হতে যাচ্ছে বিআরটিএ-র সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ।
তবে এই আধুনিক ব্যবস্থার সুফল পেতে পাড়ি দিতে হবে কিছু বন্ধুর পথ। ভুয়া লাইসেন্স শনাক্ত করা, চালকদের বিশাল ডাটাবেজ প্রতিমুহূর্তে হালনাগাদ রাখা এবং সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পয়েন্ট কাটা গেলে চালকদের আপিল বা ভুল সংশোধনের সহজ সুযোগ রাখাটাও জরুরি। যদি এই ডিজিটাল শাসন সফলভাবে প্রয়োগ করা যায়, তবে বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন ভোরের সূচনা হবে।
2.png)