লোকাল ফোকাস
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেতুলিয়া নদীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের শত শত একর কৃষিজমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। আতঙ্কে আছেন কৃষক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো। অনেকেই বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে, উপজেলার হাসের চর এলাকায় অন্তত পাঁচটি লোড ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতার নামও।
শুধু হাসের চরই নয়, গঙ্গাপুর ইউনিয়নের চর বাগমারা এলাকাতেও আরও চারটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, চর বাগমারার উত্তর মাথায় ইতোমধ্যে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিন নদী গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি।
এলাকাবাসী জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত নয়টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নদীর তলদেশে গভীর খাদ তৈরি হওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
চর লতিফ ও চর বাগমারা এলাকার কৃষিজমিতে হঠাৎ করেই বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বহু কৃষকের আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“একদিকে নদী ভাঙছে, অন্যদিকে ড্রেজার বন্ধ করার কেউ নেই। আমরা কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব—সেটা দেখারও যেন কেউ নেই।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও ভোলা কোস্টগার্ডকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। বরং বালু উত্তোলনকারীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ড্রেজার আটক ও জরিমানা করেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি অবৈধ বালু উত্তোলন।
নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন নদীর স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি ভয়াবহ নদীভাঙন, কৃষিজমি ধ্বংস এবং বসতভিটা বিলীনের মতো সংকট তৈরি করে। তারা দ্রুত মনিটরিং বাড়ানো এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তেতুলিয়া নদীঘেঁষা আরও কয়েকটি চর অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
এদিকে ভাঙনকবলিত মানুষ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ করে নদী ও জনপদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেতুলিয়া নদীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের শত শত একর কৃষিজমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। আতঙ্কে আছেন কৃষক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো। অনেকেই বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে, উপজেলার হাসের চর এলাকায় অন্তত পাঁচটি লোড ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতার নামও।
শুধু হাসের চরই নয়, গঙ্গাপুর ইউনিয়নের চর বাগমারা এলাকাতেও আরও চারটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, চর বাগমারার উত্তর মাথায় ইতোমধ্যে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিন নদী গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি।
এলাকাবাসী জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত নয়টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নদীর তলদেশে গভীর খাদ তৈরি হওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
চর লতিফ ও চর বাগমারা এলাকার কৃষিজমিতে হঠাৎ করেই বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বহু কৃষকের আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“একদিকে নদী ভাঙছে, অন্যদিকে ড্রেজার বন্ধ করার কেউ নেই। আমরা কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব—সেটা দেখারও যেন কেউ নেই।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও ভোলা কোস্টগার্ডকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। বরং বালু উত্তোলনকারীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ড্রেজার আটক ও জরিমানা করেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি অবৈধ বালু উত্তোলন।
নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন নদীর স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি ভয়াবহ নদীভাঙন, কৃষিজমি ধ্বংস এবং বসতভিটা বিলীনের মতো সংকট তৈরি করে। তারা দ্রুত মনিটরিং বাড়ানো এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তেতুলিয়া নদীঘেঁষা আরও কয়েকটি চর অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
এদিকে ভাঙনকবলিত মানুষ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ করে নদী ও জনপদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
