স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
দেশের শিশুস্বাস্থ্যের ওপর হামের কালো ছায়া ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই মরণঘাতী রোগ ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৯টি শিশু না ফেরার দেশে চলে গেছে। এর মধ্যে তিনজনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল, আর বাকি ৬ জন লড়াই করছিল হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ—চলতি মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নিভে গেছে ৩৫২টি কচি প্রাণ।
হাসপাতালগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ৪৩৫ জন শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৪৮৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং বাকি ৯৪৬ জনের শরীরে স্পষ্ট উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিভাগওয়ারী মৃত্যুর চিত্রটি বেশ বিমর্ষ। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে তিন শিশু প্রাণ হারিয়েছে হাম শনাক্ত হওয়ার পর। অন্যদিকে, উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয়েছে ঢাকা (৩ জন), খুলনা (২ জন) ও সিলেটের ১ জন শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজকের প্রতিবেদনটি যেন এক শোকের উপাখ্যান হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যানের খেরোখাতা উল্টালে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ২৯১ জন শিশু, আর ল্যাবরেটরিতে রোগ নিশ্চিত হওয়ার পর প্রাণ গেছে আরও ৬১ জনের। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫২-তে। আক্রান্তের মোট সংখ্যাটিও ৪৭ হাজার ৬৫৬ ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে ৩৩ হাজারের বেশি শিশুকে হাসপাতালের বিছানায় আশ্রয় নিতে হয়েছে।
অবশ্য আশার আলো সেটুকুই যে, এই বিশাল সংখ্যক আক্রান্তের মধ্যে ২৯ হাজার ৭৪৬ জন শিশু সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে। তবে স্বাস্থ্য দপ্তর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার শিশুর দেহে সরাসরি হামের ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
দেশের শিশুস্বাস্থ্যের ওপর হামের কালো ছায়া ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই মরণঘাতী রোগ ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৯টি শিশু না ফেরার দেশে চলে গেছে। এর মধ্যে তিনজনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল, আর বাকি ৬ জন লড়াই করছিল হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ—চলতি মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নিভে গেছে ৩৫২টি কচি প্রাণ।
হাসপাতালগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ৪৩৫ জন শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৪৮৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং বাকি ৯৪৬ জনের শরীরে স্পষ্ট উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিভাগওয়ারী মৃত্যুর চিত্রটি বেশ বিমর্ষ। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে তিন শিশু প্রাণ হারিয়েছে হাম শনাক্ত হওয়ার পর। অন্যদিকে, উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয়েছে ঢাকা (৩ জন), খুলনা (২ জন) ও সিলেটের ১ জন শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজকের প্রতিবেদনটি যেন এক শোকের উপাখ্যান হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যানের খেরোখাতা উল্টালে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ২৯১ জন শিশু, আর ল্যাবরেটরিতে রোগ নিশ্চিত হওয়ার পর প্রাণ গেছে আরও ৬১ জনের। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫২-তে। আক্রান্তের মোট সংখ্যাটিও ৪৭ হাজার ৬৫৬ ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে ৩৩ হাজারের বেশি শিশুকে হাসপাতালের বিছানায় আশ্রয় নিতে হয়েছে।
অবশ্য আশার আলো সেটুকুই যে, এই বিশাল সংখ্যক আক্রান্তের মধ্যে ২৯ হাজার ৭৪৬ জন শিশু সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে। তবে স্বাস্থ্য দপ্তর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার শিশুর দেহে সরাসরি হামের ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
