ইসলাম ও জীবন
মানুষের জীবনসংগ্রামের মূলে রয়েছে রিজিক বা জীবিকার অন্বেষণ। আমরা প্রতিনিয়ত পরিকল্পনা করি, উপার্জনের নতুন নতুন পথ খুঁজি—কিন্তু দিনশেষে এই রিজিকের চূড়ান্ত ফয়সালা আসে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। পবিত্র কোরআনের সূরা হুদে আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছেন। এমনকি তাদের স্থায়ী ও সাময়িক ঠিকানার খবরও তাঁর কাছে সংরক্ষিত। এই চিরন্তন সত্যটি অনুধাবন করলে একজন মানুষের মন থেকে অভাবের দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়ে যাওয়ার কথা।
তবে আমাদের এই আস্থার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় শয়তান। সে মানুষের মনে প্রতিনিয়ত অভাব আর দারিদ্র্যের ভয় ঢুকিয়ে দেয়। যখনই কেউ হালাল-হারামের বাছবিচার করে নীতিগতভাবে চলতে চায়, তখনই শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দেয়—'এত নিয়ম মানলে না খেয়ে মরতে হবে'। এই অমূলক ভয়ের ফাঁদে পা দিয়েই অনেকে আল্লাহর ওপর ভরসা হারিয়ে অসৎ ও হারামের পথে পা বাড়ায়। অথচ সূরা বাকারায় আল্লাহ আমাদের অভয় দিয়ে বলেছেন, শয়তান যখন দারিদ্র্যের ভয় দেখায়, আল্লাহ তখন তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ অসীম প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।
রিজিকের ক্ষেত্রে 'তাওয়াক্কুল' বা আল্লাহর ওপর ভরসা করার প্রকৃত অর্থ ফুটে ওঠে প্রিয় নবীজির (সা.) একটি হাদিসে। তিনি পাখিদের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, তারা সকালে খালি পেটে বাসা থেকে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে। পাখি যেমন বাসায় বসে না থেকে খাদ্যের সন্ধানে ডানা মেলে, তেমনি মানুষকেও হাত গুটিয়ে বসে না থেকে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে। তবে অন্তরে এই বিশ্বাসটুকু অটুট রাখা চাই যে, আমার এই চেষ্টার ফল দেবেন একমাত্র আল্লাহ।
আমাদের একটি ভুল ধারণা হলো, আমরা শুধু টাকা-পয়সাকেই রিজিক মনে করি। কিন্তু প্রকৃত রিজিক হলো ঈমান, নেক আমল, সুস্থতা, সৎ পরিবার আর পরকালের পাথেয়। দুনিয়ার কিছু অর্থ-সম্পদ পেল অথচ ঈমান হারাল—এমন ব্যক্তির প্রাপ্তি আসলে মরীচিকার মতো ক্ষণস্থায়ী। সূরা আশ-শুরায় বলা হয়েছে, যারা আখিরাতের ফসল কামনা করে, আল্লাহ তাদের সেই ফসল বাড়িয়ে দেন। আর যারা কেবল দুনিয়া চায়, তারা পরকালে নিঃস্ব হয়ে যাবে।
তাই জীবনকে সাজানোর তাগিদে আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের জন্য যা বরাদ্দ আছে, তা কোনো না কোনোভাবে আমাদের কাছে পৌঁছাবেই। সাময়িক সফলতার লোভে হারাম পথ বেছে নেওয়া মানেই হলো নিজের চিরস্থায়ী আখিরাতকে ধ্বংস করা। দুনিয়ার সফর যত কঠিনই হোক না কেন, তা একদিন শেষ হবেই; কিন্তু আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে হালাল পথে চলা মানুষের জন্য অপেক্ষা করছে এমন এক জীবন, যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। একজন সচেতন মানুষের লক্ষ্য তাই হওয়া উচিত—অস্থায়ী দুনিয়ার চেয়ে স্থায়ী আখিরাতকে প্রাধান্য দেওয়া।
বিষয় : রিজিক

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
মানুষের জীবনসংগ্রামের মূলে রয়েছে রিজিক বা জীবিকার অন্বেষণ। আমরা প্রতিনিয়ত পরিকল্পনা করি, উপার্জনের নতুন নতুন পথ খুঁজি—কিন্তু দিনশেষে এই রিজিকের চূড়ান্ত ফয়সালা আসে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। পবিত্র কোরআনের সূরা হুদে আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছেন। এমনকি তাদের স্থায়ী ও সাময়িক ঠিকানার খবরও তাঁর কাছে সংরক্ষিত। এই চিরন্তন সত্যটি অনুধাবন করলে একজন মানুষের মন থেকে অভাবের দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়ে যাওয়ার কথা।
তবে আমাদের এই আস্থার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় শয়তান। সে মানুষের মনে প্রতিনিয়ত অভাব আর দারিদ্র্যের ভয় ঢুকিয়ে দেয়। যখনই কেউ হালাল-হারামের বাছবিচার করে নীতিগতভাবে চলতে চায়, তখনই শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দেয়—'এত নিয়ম মানলে না খেয়ে মরতে হবে'। এই অমূলক ভয়ের ফাঁদে পা দিয়েই অনেকে আল্লাহর ওপর ভরসা হারিয়ে অসৎ ও হারামের পথে পা বাড়ায়। অথচ সূরা বাকারায় আল্লাহ আমাদের অভয় দিয়ে বলেছেন, শয়তান যখন দারিদ্র্যের ভয় দেখায়, আল্লাহ তখন তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ অসীম প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।
রিজিকের ক্ষেত্রে 'তাওয়াক্কুল' বা আল্লাহর ওপর ভরসা করার প্রকৃত অর্থ ফুটে ওঠে প্রিয় নবীজির (সা.) একটি হাদিসে। তিনি পাখিদের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, তারা সকালে খালি পেটে বাসা থেকে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে। পাখি যেমন বাসায় বসে না থেকে খাদ্যের সন্ধানে ডানা মেলে, তেমনি মানুষকেও হাত গুটিয়ে বসে না থেকে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে। তবে অন্তরে এই বিশ্বাসটুকু অটুট রাখা চাই যে, আমার এই চেষ্টার ফল দেবেন একমাত্র আল্লাহ।
আমাদের একটি ভুল ধারণা হলো, আমরা শুধু টাকা-পয়সাকেই রিজিক মনে করি। কিন্তু প্রকৃত রিজিক হলো ঈমান, নেক আমল, সুস্থতা, সৎ পরিবার আর পরকালের পাথেয়। দুনিয়ার কিছু অর্থ-সম্পদ পেল অথচ ঈমান হারাল—এমন ব্যক্তির প্রাপ্তি আসলে মরীচিকার মতো ক্ষণস্থায়ী। সূরা আশ-শুরায় বলা হয়েছে, যারা আখিরাতের ফসল কামনা করে, আল্লাহ তাদের সেই ফসল বাড়িয়ে দেন। আর যারা কেবল দুনিয়া চায়, তারা পরকালে নিঃস্ব হয়ে যাবে।
তাই জীবনকে সাজানোর তাগিদে আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের জন্য যা বরাদ্দ আছে, তা কোনো না কোনোভাবে আমাদের কাছে পৌঁছাবেই। সাময়িক সফলতার লোভে হারাম পথ বেছে নেওয়া মানেই হলো নিজের চিরস্থায়ী আখিরাতকে ধ্বংস করা। দুনিয়ার সফর যত কঠিনই হোক না কেন, তা একদিন শেষ হবেই; কিন্তু আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে হালাল পথে চলা মানুষের জন্য অপেক্ষা করছে এমন এক জীবন, যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। একজন সচেতন মানুষের লক্ষ্য তাই হওয়া উচিত—অস্থায়ী দুনিয়ার চেয়ে স্থায়ী আখিরাতকে প্রাধান্য দেওয়া।
