জাতীয়
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আজ এক বিভীষিকাময় ভোরের সাক্ষী হলো এলাকাবাসী। উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে একই পরিবারের পাঁচজনকে অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গৃহকর্তা ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন এবং তাঁদের তিন অবুঝ সন্তান—মীম, মারিয়া ও ফারিয়া। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পরিবারের প্রধান ফোরকান মিয়া গা ঢাকা দিয়েছেন, যা এই ঘটনায় তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার দিকেই আঙুল তুলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শুক্রবার রাতেও তাঁদের সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু আজ শনিবার সকালে ঘরের মেঝেতে তিন শিশুসহ পাঁচজনের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। একই পরিবারের এতগুলো মানুষের এমন করুণ পরিণতি দেখে স্থানীয়দের মাঝে চরম শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, ফোরকান ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। মাঝেমধ্যেই তাঁদের ঘর থেকে ঝগড়া-বিবাদের আওয়াজ পাওয়া যেত। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধ চরম পর্যায়ে পৌঁছালে রাতের কোনো এক সময় ফোরকান মিয়া একাই বা সহযোগীদের নিয়ে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যান।
গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, "খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের বিশেষ টিম তদন্তে নেমেছে। প্রাথমিক আলামত ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।"
একসঙ্গে পাঁচজনকে হত্যার এই ঘটনা কেবল কাপাসিয়া নয়, পুরো জেলাকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। কেন এই নির্মমতা, আর নিহত পঞ্চম ব্যক্তিটিই বা কে—তা উদঘাটন করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন ছায়াতদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁদের তৎপরতা আরও জোরদার করেছে।
বিষয় : বাংলাদেশ গাজীপুর কাপাসিয়া গলা কেটে হত্যা ৫ খুন

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আজ এক বিভীষিকাময় ভোরের সাক্ষী হলো এলাকাবাসী। উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে একই পরিবারের পাঁচজনকে অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গৃহকর্তা ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন এবং তাঁদের তিন অবুঝ সন্তান—মীম, মারিয়া ও ফারিয়া। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পরিবারের প্রধান ফোরকান মিয়া গা ঢাকা দিয়েছেন, যা এই ঘটনায় তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার দিকেই আঙুল তুলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শুক্রবার রাতেও তাঁদের সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু আজ শনিবার সকালে ঘরের মেঝেতে তিন শিশুসহ পাঁচজনের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। একই পরিবারের এতগুলো মানুষের এমন করুণ পরিণতি দেখে স্থানীয়দের মাঝে চরম শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, ফোরকান ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। মাঝেমধ্যেই তাঁদের ঘর থেকে ঝগড়া-বিবাদের আওয়াজ পাওয়া যেত। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধ চরম পর্যায়ে পৌঁছালে রাতের কোনো এক সময় ফোরকান মিয়া একাই বা সহযোগীদের নিয়ে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যান।
গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, "খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের বিশেষ টিম তদন্তে নেমেছে। প্রাথমিক আলামত ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।"
একসঙ্গে পাঁচজনকে হত্যার এই ঘটনা কেবল কাপাসিয়া নয়, পুরো জেলাকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। কেন এই নির্মমতা, আর নিহত পঞ্চম ব্যক্তিটিই বা কে—তা উদঘাটন করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন ছায়াতদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁদের তৎপরতা আরও জোরদার করেছে।
