সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 লাইফ স্টাইললাইফ স্টাইল

রাত জাগার অভ্যাস: যৌবন ধরে রাখার পথে এক নীরব বাধা

অসময়ে ঘুমানো কেবল শারীরিক ক্লান্তিই বাড়ায় না, বরং শরীরের স্বাভাবিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত করে বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করে; সুস্থ থাকতে সঠিক সময়ের ঘুমের বিকল্প নেই।

রাত জাগার অভ্যাস: যৌবন ধরে রাখার পথে এক নীরব বাধা
ছবি -সংগৃহীত

আজকের ব্যস্ত জীবনে রাত জেগে কাজ করা কিংবা স্মার্টফোনের নীল আলোয় সময় কাটানো অনেকের কাছেই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই আপাতমোদ যে আপনার শরীরের ওপর কতটা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত দেরিতে ঘুমানোর এই অভ্যাসটি শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে আপনাকে সময়ের আগেই বুড়িয়ে দিতে পারে। কারণ ঘুম কেবল বিশ্রামের সময় নয়, এটি হলো শরীরের কোষ মেরামত ও হরমোন নিয়ন্ত্রণের একটি ‘প্রাকৃতিক কারখানা’।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, রাতের গভীর ঘুমের সময় আমাদের শরীরে ‘গ্রোথ হরমোন’ (Growth Hormone) নিঃসৃত হয়। এই হরমোনটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে এবং শরীরের পুরনো কোষগুলো মেরামত করে নতুন সতেজতা দিতে সাহায্য করে। আপনি যখন দেরি করে ঘুমান, তখন এই হরমোন উৎপাদনের চক্রটি বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ত্বক ম্লান হয়ে যায় এবং বার্ধক্যের ছাপ দ্রুত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

পাশাপাশি, ঘুমের সময় শরীরে তৈরি হয় ‘মেলাটোনিন’ (Melatonin) নামক এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। এটি কেবল ঘুমের মানই ঠিক রাখে না, বরং শরীরকে নানা ক্ষতিকর ধকল বা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। দেরিতে ঘুমানোর ফলে মেলাটোনিনের অভাবে শরীরের কোষগুলো দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের আধিক্য। শরীরে কর্টিসল বেড়ে গেলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, চোখের নিচে কালি পড়ে এবং চুল পড়ার মতো সমস্যাগুলো প্রকট হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের নিস্তব্ধ সময়েই শরীরের ডিএনএ মেরামত (DNA repair) প্রক্রিয়া সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। সময়মতো না ঘুমালে এই মেরামতের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়, যা সরাসরি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর আঘাত হানে। সার্বিকভাবে রাত জাগার ফলে শরীরের যে প্রাকৃতিক পুনর্গঠন ব্যবস্থা রয়েছে, তা ভেঙে পড়ে। তাই দীর্ঘ সময় তারুণ্য ধরে রাখতে এবং সুস্থ জীবনের অধিকারী হতে হলে নিয়মিত ও সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। মনে রাখবেন, রাত জাগা মানে কেবল সময় হারানো নয়, বরং নিজের স্বাস্থ্য ও সতেজতাকে বিসর্জন দেওয়া।

কাল মহাকাল

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


রাত জাগার অভ্যাস: যৌবন ধরে রাখার পথে এক নীরব বাধা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

আজকের ব্যস্ত জীবনে রাত জেগে কাজ করা কিংবা স্মার্টফোনের নীল আলোয় সময় কাটানো অনেকের কাছেই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই আপাতমোদ যে আপনার শরীরের ওপর কতটা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত দেরিতে ঘুমানোর এই অভ্যাসটি শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে আপনাকে সময়ের আগেই বুড়িয়ে দিতে পারে। কারণ ঘুম কেবল বিশ্রামের সময় নয়, এটি হলো শরীরের কোষ মেরামত ও হরমোন নিয়ন্ত্রণের একটি ‘প্রাকৃতিক কারখানা’।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, রাতের গভীর ঘুমের সময় আমাদের শরীরে ‘গ্রোথ হরমোন’ (Growth Hormone) নিঃসৃত হয়। এই হরমোনটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে এবং শরীরের পুরনো কোষগুলো মেরামত করে নতুন সতেজতা দিতে সাহায্য করে। আপনি যখন দেরি করে ঘুমান, তখন এই হরমোন উৎপাদনের চক্রটি বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ত্বক ম্লান হয়ে যায় এবং বার্ধক্যের ছাপ দ্রুত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

পাশাপাশি, ঘুমের সময় শরীরে তৈরি হয় ‘মেলাটোনিন’ (Melatonin) নামক এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। এটি কেবল ঘুমের মানই ঠিক রাখে না, বরং শরীরকে নানা ক্ষতিকর ধকল বা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। দেরিতে ঘুমানোর ফলে মেলাটোনিনের অভাবে শরীরের কোষগুলো দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের আধিক্য। শরীরে কর্টিসল বেড়ে গেলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, চোখের নিচে কালি পড়ে এবং চুল পড়ার মতো সমস্যাগুলো প্রকট হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের নিস্তব্ধ সময়েই শরীরের ডিএনএ মেরামত (DNA repair) প্রক্রিয়া সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। সময়মতো না ঘুমালে এই মেরামতের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়, যা সরাসরি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর আঘাত হানে। সার্বিকভাবে রাত জাগার ফলে শরীরের যে প্রাকৃতিক পুনর্গঠন ব্যবস্থা রয়েছে, তা ভেঙে পড়ে। তাই দীর্ঘ সময় তারুণ্য ধরে রাখতে এবং সুস্থ জীবনের অধিকারী হতে হলে নিয়মিত ও সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। মনে রাখবেন, রাত জাগা মানে কেবল সময় হারানো নয়, বরং নিজের স্বাস্থ্য ও সতেজতাকে বিসর্জন দেওয়া।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত