সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 লাইফ স্টাইললাইফ স্টাইল

ভিটামিন সি কি আসলেই সর্দি-কাশিতে জাদু দেখায়?

প্রচলিত বিশ্বাস থাকলেও ভিটামিন সি সরাসরি সর্দি সারায় না; বরং এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে মাত্র।

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
ভিটামিন  সি কি আসলেই সর্দি-কাশিতে  জাদু দেখায়?
ছবি -সংগৃহীত

সর্দি হলেই এক গ্লাস লেবুর শরবত বা ভিটামিন সি ট্যাবলেট খাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই পুরনো। আমরা ধরেই নিই, এটি খেলে সর্দি দ্রুত সেরে যাবে। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি আসলে এতটা সাদা-কালো নয়। ভিটামিন সি কোনো জাদুকরী ওষুধ নয়, বরং এটি শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে ভেতর থেকে সাহায্য করে।

আসলে সর্দি সাধারণত রাইনোভাইরাসের কারণে হয়। একবার এই ভাইরাস শরীরে ঢুকে পড়লে ভিটামিন সি-এর সাধ্য নেই তাকে সরাসরি ধ্বংস করার। আমাদের শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাই সময় নিয়ে এই সংক্রমণ দূর করে। তাই সর্দি সারাতে ভিটামিন সি-ই সব, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক বলে উঠে আসেনি।

তবে ভিটামিন সি যে একেবারেই কাজে আসে না, তা কিন্তু নয়। এটি আমাদের শ্বেত রক্তকণিকাকে আরও সক্রিয় করে তোলে এবং এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ সর্দির অস্বস্তি কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। নিয়মিত এটি গ্রহণে সর্দির স্থায়িত্ব কিছুটা কমতে দেখা গেছে, বিশেষ করে যারা খুব ঠান্ডা পরিবেশে কাজ করেন বা প্রচুর পরিশ্রম করেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশ কার্যকর।

ন্যায্যভাবে বলতে গেলে, ভিটামিন সি পাওয়ার জন্য সাপ্লিমেন্টের চেয়ে প্রাকৃতিক উৎস—যেমন কমলা, পেয়ারা, আমলকি বা সবুজ শাকসবজিই সবচেয়ে ভালো। সাধারণ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ৭৫ থেকে ৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি-ই যথেষ্ট। অতিরিক্ত ভিটামিন সি আবার উল্টো বিপদ ডেকে আনতে পারে; যেমন ডায়রিয়া বা দীর্ঘমেয়াদে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি।

তো, সর্দি হলে আসলে কী করা উচিত? চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো—প্রচুর বিশ্রাম নিন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং প্রয়োজনে গরম পানির ভাপ নিন। সুষম খাবার আর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি। ভিটামিন সি-কে সরাসরি চিকিৎসা না ভেবে শরীর গড়ার সহায়ক হিসেবে দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বিষয় : ভিটামিন সি সর্দি কাশি

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬


ভিটামিন সি কি আসলেই সর্দি-কাশিতে জাদু দেখায়?

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

সর্দি হলেই এক গ্লাস লেবুর শরবত বা ভিটামিন সি ট্যাবলেট খাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই পুরনো। আমরা ধরেই নিই, এটি খেলে সর্দি দ্রুত সেরে যাবে। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি আসলে এতটা সাদা-কালো নয়। ভিটামিন সি কোনো জাদুকরী ওষুধ নয়, বরং এটি শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে ভেতর থেকে সাহায্য করে।

আসলে সর্দি সাধারণত রাইনোভাইরাসের কারণে হয়। একবার এই ভাইরাস শরীরে ঢুকে পড়লে ভিটামিন সি-এর সাধ্য নেই তাকে সরাসরি ধ্বংস করার। আমাদের শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাই সময় নিয়ে এই সংক্রমণ দূর করে। তাই সর্দি সারাতে ভিটামিন সি-ই সব, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক বলে উঠে আসেনি।

তবে ভিটামিন সি যে একেবারেই কাজে আসে না, তা কিন্তু নয়। এটি আমাদের শ্বেত রক্তকণিকাকে আরও সক্রিয় করে তোলে এবং এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ সর্দির অস্বস্তি কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। নিয়মিত এটি গ্রহণে সর্দির স্থায়িত্ব কিছুটা কমতে দেখা গেছে, বিশেষ করে যারা খুব ঠান্ডা পরিবেশে কাজ করেন বা প্রচুর পরিশ্রম করেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশ কার্যকর।

ন্যায্যভাবে বলতে গেলে, ভিটামিন সি পাওয়ার জন্য সাপ্লিমেন্টের চেয়ে প্রাকৃতিক উৎস—যেমন কমলা, পেয়ারা, আমলকি বা সবুজ শাকসবজিই সবচেয়ে ভালো। সাধারণ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ৭৫ থেকে ৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি-ই যথেষ্ট। অতিরিক্ত ভিটামিন সি আবার উল্টো বিপদ ডেকে আনতে পারে; যেমন ডায়রিয়া বা দীর্ঘমেয়াদে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি।

তো, সর্দি হলে আসলে কী করা উচিত? চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো—প্রচুর বিশ্রাম নিন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং প্রয়োজনে গরম পানির ভাপ নিন। সুষম খাবার আর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি। ভিটামিন সি-কে সরাসরি চিকিৎসা না ভেবে শরীর গড়ার সহায়ক হিসেবে দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত