সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজনীতিরাজনীতি

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দৌড়ে বিজয়: ১১৮-র কোটা পার হতে না পারায় ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক নাটক

সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের শর্ত দিলেন গভর্নর

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দৌড়ে বিজয়: ১১৮-র কোটা পার হতে না পারায় ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক নাটক
ছবি -সংগৃহীত

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন টানটান উত্তেজনা। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বাজিমাত করে এবার সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়ে দিয়েছেন ‘তামিঝাগা ভেট্রি কঝগম’ (টিভিকে) প্রধান ও জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়। গতকাল তিনি রাজভবনে গভর্নর রাজেন্দ্র আর্লেকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ১১২ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র সোপর্দ করেছেন। তবে ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে আরও কিছুটা পথ বাকি। গভর্নর জানিয়ে দিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের স্পষ্ট সমর্থনের প্রমাণ ছাড়া সরকার গঠন সম্ভব নয়।

সত্যি বলতে, বিজয়ের দল টিভিকে প্রথমবার নির্বাচনে লড়েই ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পেয়ে চমকে দিয়েছে সবাইকে। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১০টি আসন দূরে থাকায় এখন সব নজর ছোট দল ও জোটের শরিকদের ওপর। খবর মিলেছে যে, ৫ জন বিধায়ক থাকা কংগ্রেস এরই মধ্যে বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে মৌখিক আশ্বাস দিয়েছে। এই নয়া সমীকরণ নিয়ে মিত্র দলগুলোর সঙ্গে বিজয়ের আলোচনা এখন তুঙ্গে।

আচ্ছা, এই পরিস্থিতিতে গভর্নরের হাতে কিন্তু বেশ কিছু সাংবিধানিক বিকল্প রয়েছে। সংবিধানের ১৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও গভর্নর চাইলে বৃহত্তম দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে পারেন। ২০১৮ সালে কর্ণাটকের উদাহরণটি এখানে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যেখানে বিজেপি একক বৃহত্তম দল হওয়ায় সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছিল। ন্যায্যভাবে বলতে গেলে, তামিলনাড়ুর গভর্নর আর্লেকরও প্রথমে বিজয়কে সংখ্যালঘিষ্ঠ সরকার গঠনের সুযোগ দিয়ে পরে বিধানসভায় আস্থা ভোটের নির্দেশ দিতে পারেন।

এদিকে বিজয়ের এই উত্থানে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের অন্দরমহলে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। বিশেষ করে কংগ্রেসের সম্ভাব্য সমর্থনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় ডিএমকে একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেছে। যদিও কংগ্রেস নেতা কার্তি চিদাম্বরম এসব অভিযোগকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে বামপন্থী দল ও ভিসিকে-র মতো শরিকরা এখনো তাদের কার্ড আড়ালে রেখেছে; ধারণা করা হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার তারা তাদের চূড়ান্ত অবস্থান জানিয়ে দেবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৮ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে তার আগে পর্দার আড়ালের এই রাজনৈতিক দরকষাকষি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। দক্ষিণের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে কি না, তার উত্তর মিলবে খুব দ্রুতই।

বিষয় : তামিলনাড়ু থালাপাতি বিজয়

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬


তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দৌড়ে বিজয়: ১১৮-র কোটা পার হতে না পারায় ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক নাটক

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন টানটান উত্তেজনা। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বাজিমাত করে এবার সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়ে দিয়েছেন ‘তামিঝাগা ভেট্রি কঝগম’ (টিভিকে) প্রধান ও জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়। গতকাল তিনি রাজভবনে গভর্নর রাজেন্দ্র আর্লেকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ১১২ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র সোপর্দ করেছেন। তবে ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে আরও কিছুটা পথ বাকি। গভর্নর জানিয়ে দিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের স্পষ্ট সমর্থনের প্রমাণ ছাড়া সরকার গঠন সম্ভব নয়।

সত্যি বলতে, বিজয়ের দল টিভিকে প্রথমবার নির্বাচনে লড়েই ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পেয়ে চমকে দিয়েছে সবাইকে। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১০টি আসন দূরে থাকায় এখন সব নজর ছোট দল ও জোটের শরিকদের ওপর। খবর মিলেছে যে, ৫ জন বিধায়ক থাকা কংগ্রেস এরই মধ্যে বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে মৌখিক আশ্বাস দিয়েছে। এই নয়া সমীকরণ নিয়ে মিত্র দলগুলোর সঙ্গে বিজয়ের আলোচনা এখন তুঙ্গে।

আচ্ছা, এই পরিস্থিতিতে গভর্নরের হাতে কিন্তু বেশ কিছু সাংবিধানিক বিকল্প রয়েছে। সংবিধানের ১৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও গভর্নর চাইলে বৃহত্তম দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে পারেন। ২০১৮ সালে কর্ণাটকের উদাহরণটি এখানে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যেখানে বিজেপি একক বৃহত্তম দল হওয়ায় সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছিল। ন্যায্যভাবে বলতে গেলে, তামিলনাড়ুর গভর্নর আর্লেকরও প্রথমে বিজয়কে সংখ্যালঘিষ্ঠ সরকার গঠনের সুযোগ দিয়ে পরে বিধানসভায় আস্থা ভোটের নির্দেশ দিতে পারেন।

এদিকে বিজয়ের এই উত্থানে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের অন্দরমহলে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। বিশেষ করে কংগ্রেসের সম্ভাব্য সমর্থনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় ডিএমকে একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেছে। যদিও কংগ্রেস নেতা কার্তি চিদাম্বরম এসব অভিযোগকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে বামপন্থী দল ও ভিসিকে-র মতো শরিকরা এখনো তাদের কার্ড আড়ালে রেখেছে; ধারণা করা হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার তারা তাদের চূড়ান্ত অবস্থান জানিয়ে দেবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৮ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে তার আগে পর্দার আড়ালের এই রাজনৈতিক দরকষাকষি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। দক্ষিণের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে কি না, তার উত্তর মিলবে খুব দ্রুতই।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত