সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

সংকটেও সম্প্রসারণমুখী অর্থনীতি: স্বস্তি কৃষি ও উৎপাদন খাতে

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি আর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ ছাপিয়ে এপ্রিলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের অর্থনীতি; পিএমআই সূচকে মিলেছে ইতিবাচক অগ্রগতির সংকেত।

সংকটেও সম্প্রসারণমুখী অর্থনীতি: স্বস্তি কৃষি ও উৎপাদন খাতে

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামের অস্থিরতা আর সরবরাহ সংকটের মেঘ কাটেনি এখনো। তবে সেই মেঘের আড়ালে আমাদের অর্থনীতির জন্য গত এপ্রিল মাসটি কিছুটা আশার আলো নিয়ে হাজির হয়েছে। নির্মাণ ও সেবা খাতের কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া ভাব থাকলেও, কৃষি আর উৎপাদন খাতের হাত ধরে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চাকা আবার গতি পেতে শুরু করেছে।

পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআই—যা আমাদের অর্থনীতির নাড়িনক্ষত্র বোঝার অন্যতম মাপকাঠি—সেখানেও এই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটেছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স (এমসিসিআই) ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে উঠে এসেছে যে, এপ্রিলে পিএমআই ১.১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৬-এ। আচ্ছা, গত জানুয়ারিতে যা ৫৩.৯ আর ফেব্রুয়ারিতে ৫৫.৭ ছিল, মার্চে তা সামান্য কমে ৫৩.৫-এ নেমেছিল। সত্যি বলতে, সূচকের মান ৫০-এর ওপরে থাকা মানেই হলো আমাদের অর্থনীতি সম্প্রসারণের পথেই হাঁটছে।

সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে উৎপাদন খাত। টানা দেড় বছর সচল থাকার পর মার্চে কিছুটা থমকে গেলেও, গত মাসে ৫৬.৯ সূচক নিয়ে এই খাতটি আবার দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কারখানায় কাঁচামাল কেনা বেড়েছে, সাথে নতুন করে আসা দেশি-বিদেশি ফরমাশ আর কর্মসংস্থান বাড়ার বিষয়টি এই ঘুরে দাঁড়ানোকে নিশ্চিত করেছে। একইভাবে কৃষি ব্যবসা খাতও অষ্টম মাসের মতো নিজেদের অগ্রযাত্রা ধরে রেখেছে। এপ্রিলে এ খাতের সূচক এক লাফে ৭০.৭-এ পৌঁছেছে, যা আগের মাসে ছিল ৫১.৬। উপকরণের খরচ আর কাজের জট সত্ত্বেও নতুন ব্যবসার উদ্যম এখানে স্পষ্ট দেখা গেছে।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। নির্মাণ খাত এখনো সংকোচনের বলয় থেকে বেরোতে পারছে না; এপ্রিলে এ খাতের মান নেমে এসেছে ৪৪.৬-এ। অন্যদিকে সেবা খাতের গতিও আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কমে ৫১.৮-এ দাঁড়িয়েছে।

ন্যায্যভাবে বলতে গেলে, তেলের আকাশচুম্বী দাম আর সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ যেমনটা জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আর মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যেও ব্যবসায়িক আস্থা এখনো বেশ স্থিতিশীল। উদ্যোক্তারা সতর্ক থাকলেও ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদী। আপাতত স্বল্প মেয়াদে এই ইতিবাচক ধারাই আমাদের অর্থনীতির প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।

বিষয় : পিএমআই

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬


সংকটেও সম্প্রসারণমুখী অর্থনীতি: স্বস্তি কৃষি ও উৎপাদন খাতে

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামের অস্থিরতা আর সরবরাহ সংকটের মেঘ কাটেনি এখনো। তবে সেই মেঘের আড়ালে আমাদের অর্থনীতির জন্য গত এপ্রিল মাসটি কিছুটা আশার আলো নিয়ে হাজির হয়েছে। নির্মাণ ও সেবা খাতের কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া ভাব থাকলেও, কৃষি আর উৎপাদন খাতের হাত ধরে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চাকা আবার গতি পেতে শুরু করেছে।

পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআই—যা আমাদের অর্থনীতির নাড়িনক্ষত্র বোঝার অন্যতম মাপকাঠি—সেখানেও এই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটেছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স (এমসিসিআই) ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে উঠে এসেছে যে, এপ্রিলে পিএমআই ১.১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৬-এ। আচ্ছা, গত জানুয়ারিতে যা ৫৩.৯ আর ফেব্রুয়ারিতে ৫৫.৭ ছিল, মার্চে তা সামান্য কমে ৫৩.৫-এ নেমেছিল। সত্যি বলতে, সূচকের মান ৫০-এর ওপরে থাকা মানেই হলো আমাদের অর্থনীতি সম্প্রসারণের পথেই হাঁটছে।

সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে উৎপাদন খাত। টানা দেড় বছর সচল থাকার পর মার্চে কিছুটা থমকে গেলেও, গত মাসে ৫৬.৯ সূচক নিয়ে এই খাতটি আবার দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কারখানায় কাঁচামাল কেনা বেড়েছে, সাথে নতুন করে আসা দেশি-বিদেশি ফরমাশ আর কর্মসংস্থান বাড়ার বিষয়টি এই ঘুরে দাঁড়ানোকে নিশ্চিত করেছে। একইভাবে কৃষি ব্যবসা খাতও অষ্টম মাসের মতো নিজেদের অগ্রযাত্রা ধরে রেখেছে। এপ্রিলে এ খাতের সূচক এক লাফে ৭০.৭-এ পৌঁছেছে, যা আগের মাসে ছিল ৫১.৬। উপকরণের খরচ আর কাজের জট সত্ত্বেও নতুন ব্যবসার উদ্যম এখানে স্পষ্ট দেখা গেছে।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। নির্মাণ খাত এখনো সংকোচনের বলয় থেকে বেরোতে পারছে না; এপ্রিলে এ খাতের মান নেমে এসেছে ৪৪.৬-এ। অন্যদিকে সেবা খাতের গতিও আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কমে ৫১.৮-এ দাঁড়িয়েছে।

ন্যায্যভাবে বলতে গেলে, তেলের আকাশচুম্বী দাম আর সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ যেমনটা জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আর মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যেও ব্যবসায়িক আস্থা এখনো বেশ স্থিতিশীল। উদ্যোক্তারা সতর্ক থাকলেও ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদী। আপাতত স্বল্প মেয়াদে এই ইতিবাচক ধারাই আমাদের অর্থনীতির প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত