বানিজ্য
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক স্পট মার্কেটের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব কমাতে আঞ্চলিক সহযোগিতার এই মডেল কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক দামে পরিশোধিত জ্বালানি পাওয়া গেলে আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ তৈরি হবে বলেও মনে করছেন তারা।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভারতের বিস্তৃত অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হতে পারে। এতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ দেশীয় শোধনাগার সম্প্রসারণের অপেক্ষা না করেই তুলনামূলক দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো যাবে।
তবে এই পরিকল্পনাকে ঘিরে উদ্বেগও কম নয়। জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞের মতে, বিদেশি অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে দিতে পারে। বিশেষ করে মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা, টোলিং ফি এবং বাণিজ্যিক শর্ত নিয়ে শক্ত অবস্থানে দরকষাকষি না করতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।
কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, একটি মাত্র আঞ্চলিক অংশীদারের ওপর নির্ভরশীলতা কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সময় নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডসহ দেশের নিজস্ব শোধন সক্ষমতা সম্প্রসারণের উদ্যোগগুলোও পিছিয়ে যেতে পারে।
অর্থনৈতিক চাপের প্রশ্নও সামনে এসেছে। কারণ, পরিশোধন সেবা ও পরিবহন ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হলে তা দেশের রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বর্তমান বাস্তবতায় এই উদ্যোগ স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে কার্যকর বিকল্প হতে পারে। কিন্তু সেটিকে কোনোভাবেই দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প ভাবা ঠিক হবে না। তাদের মতে, একদিকে তাৎক্ষণিক সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, অন্যদিকে স্থানীয় অবকাঠামো ও শোধনাগার সম্প্রসারণে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানো—এই দুইয়ের সমন্বয়েই টেকসই কৌশল গড়ে তোলা সম্ভব।
সরকারও নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তবে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সেসব উদ্যোগের অগ্রগতি এখনও প্রত্যাশিত গতি পায়নি।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক স্পট মার্কেটের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব কমাতে আঞ্চলিক সহযোগিতার এই মডেল কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক দামে পরিশোধিত জ্বালানি পাওয়া গেলে আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ তৈরি হবে বলেও মনে করছেন তারা।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভারতের বিস্তৃত অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হতে পারে। এতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ দেশীয় শোধনাগার সম্প্রসারণের অপেক্ষা না করেই তুলনামূলক দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো যাবে।
তবে এই পরিকল্পনাকে ঘিরে উদ্বেগও কম নয়। জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞের মতে, বিদেশি অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে দিতে পারে। বিশেষ করে মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা, টোলিং ফি এবং বাণিজ্যিক শর্ত নিয়ে শক্ত অবস্থানে দরকষাকষি না করতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।
কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, একটি মাত্র আঞ্চলিক অংশীদারের ওপর নির্ভরশীলতা কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সময় নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডসহ দেশের নিজস্ব শোধন সক্ষমতা সম্প্রসারণের উদ্যোগগুলোও পিছিয়ে যেতে পারে।
অর্থনৈতিক চাপের প্রশ্নও সামনে এসেছে। কারণ, পরিশোধন সেবা ও পরিবহন ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হলে তা দেশের রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বর্তমান বাস্তবতায় এই উদ্যোগ স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে কার্যকর বিকল্প হতে পারে। কিন্তু সেটিকে কোনোভাবেই দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প ভাবা ঠিক হবে না। তাদের মতে, একদিকে তাৎক্ষণিক সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, অন্যদিকে স্থানীয় অবকাঠামো ও শোধনাগার সম্প্রসারণে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানো—এই দুইয়ের সমন্বয়েই টেকসই কৌশল গড়ে তোলা সম্ভব।
সরকারও নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তবে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সেসব উদ্যোগের অগ্রগতি এখনও প্রত্যাশিত গতি পায়নি।
